জামিন পাননি সেই ভোলা

ঢাকা, শনিবার   ০৪ ডিসেম্বর ২০২১,   অগ্রহায়ণ ২০ ১৪২৮,   ২৭ রবিউস সানি ১৪৪৩

জামিন পাননি সেই ভোলা

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:২৬ ২৫ অক্টোবর ২০২১  

এহতেশামুল হক ভোলা (ফাইল ছবি)

এহতেশামুল হক ভোলা (ফাইল ছবি)

সাবেক এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলায় গ্রেফতার এহতেশামুল হক ভোলার জামিন নামঞ্জুর করেছে আদালত। রোববার চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম মেহনাজ রহমানের আদালত এ জামিন নামঞ্জুর করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে আসামিপক্ষের আইনজীবী কেএম সাইফুল ইসলাম বলেন, আদালতে এহতেশামুল হক ভোলার জামিন আবেদন করা হয়েছিল। শুনানি শেষে তা নামঞ্জুর করেন বিচারক। এ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে।

এর আগে, শুক্রবার রাতে যশোরের বেনাপোল থেকে ভোলাকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন শনিবার তাকে চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম শফি উদ্দীনের আদালতে হাজির করা হলে সেখানে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তিনি। 

জবানবন্দিতে ভোলা জানান, বাকলিয়া থানার রাজাখালী এলাকায় বালু, মুরগির খাবার, চালকল, লাকড়ির মিল ও চা পাতাসহ বিভিন্ন ব্যবসা করতেন তিনি। ২০০৮ সালে বাবুল আক্তার নগর পুলিশের এসি (কোতোয়ালি) হিসেবে যোগদান করলে কামরুল ইসলাম শিকদার ওরফে মুছার মাধ্যমে বাবুল আক্তারের সঙ্গে পরিচয় হয় তার। এছাড়া আগে থেকে বাবুল আক্তারের সোর্স হিসেবে কাজ করতেন মুছা।

জবানবন্দিতে ভোলা আরো জানান, তার বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলা ছিল। সেসব মামলার বিষয়ে বাবুলকে জানালে ব্যবস্থা নেন তিনি। এরপর থেকেই বাবুলকে বিভিন্ন তথ্য দিতেন ভোলা। তার দেয়া তথ্যে ডবলমুরিং থানা এলাকা থেকে অস্ত্রসহ এক আসামিকে ধরে বেশ সুনাম কুড়িয়েছিলেন বাবুল। পরে বাবুল সিএমপি থেকে অন্যত্র বদলি হয়ে গেলে ভোলার সঙ্গে যোগাযোগ কমে যায়। পরবর্তীতে আবারো তিনি এডিসি হিসেবে সিএমপিতে ফিরে এলে যোগাযোগ শুরু হয়। সে সময় বাবুলের কথায় মুছাকে নিজের বালুর ব্যবসায় ম্যানেজার হিসেবে নিয়োগ দেন ভোলা।

ভোলা জানান, ম্যানেজার হিসেবে কাজ করলেও বেশিরভাগ সময় বাবুলের সঙ্গে কাজে ব্যস্ত থাকতেন মুছা। মিতু হত্যা মামলার আরেক আসামি ওয়াসিমও মুছার সঙ্গে চলাফেরা করতেন। একদিন মুছা জানান- বাবুলের সঙ্গে তার স্ত্রীর পারিবারিক ঝামেলা চলছে। তাই স্ত্রীকে শেষ করার দায়িত্ব মুছাকে দিয়েছেন বাবুল।

সে সময় মুছাকে বাবুলের পারিবারিক বিষয়ে মাথা ঘামাতে নিষেধ করেন ভোলা। কিন্তু সেই কথায় নাখোশ হয়ে বিষয়টি বাবুলকে জানিয়ে দেন মুছা। পরে ভোলাকে জিইসি মোড়ে ডেকে নেন বাবুল। সে সময় মুছাকে একটি কাজ দিয়েছেন জানিয়ে সাহায্য করতে না পারলেও বাধা দিতে নিষেধ করেন তিনি। একই সঙ্গে বাধা দিলে পরিণতি ভালো হবে না বলেও জানিয়ে দেন।

জবানবন্দিতে ভোলা জানান, বাবুলের স্ত্রীকে খুন করতে হবে বলে তাকে জানান মুছা। আর এতে অস্ত্র সংগ্রহের দায়িত্ব তাকে নিতে বলেন। এর কয়েকদিন পর বাবুলের টাকায় অস্ত্র কেনেন মুছা।   

ঘটনার দিন সকালে ভোলাকে বেশ কয়েকবার ফোন দেন মুছা। কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি। পরে বেলা ১১টার দিকে টিভির শিরোনামে হত্যার খবর জানতে পেরে মুছাকে ফোন দিলে তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।

ভোলা আরো জানান, ঘটনার দিন বিকেলে অফিসে যান মুছা। তখন খুনের বিষয়ে জানতে চাইলে কাজটি না করে উপায় ছিল না বলে জানান তিনি। এটি না করলে বাবুল তাকে ক্রসফায়ারে দিতেন বলেও জানান। এ কাজের জন্য মুছাকে টাকাও দিয়েছিলেন বাবুল। মুছা একটি কাপড়ের ব্যাগ ভোলার কাছে দিয়ে সেটি মনিরকে দিতে বলে চলে যান। এরপর মনিরের কাছে রাখা ব্যাগটি থেকে একটি অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। পরে সেই অস্ত্র দিয়েই মুছা ও তার সহযোগীরা বাবুলের স্ত্রীকে খুনে করেন বলে জানতে পারেন ভোলা।

মুছা নিখোঁজের বিষয়ে ভোলা জানান, মুছার সন্ধান না পেয়ে তার স্ত্রী পান্না আক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন ভোলা। তখন মুছা অনেকদিন ধরে নিখোঁজ বলে জানান পান্না। ঘটনার পর মুছাকে ফোন করেছিলেন বাবুল। সে সময় মুছা বাড়ির বাইরে থাকায় পান্না ফোন ধরলে মুছার খোঁজ করেন বাবুল। একই সঙ্গে মুছাকে সাবধানে থাকতে জানিয়ে দেন তিনি। পরে বাবুল আবারো ফোন করলে মুছা নিজেই ফোনটি ধরেন। সে সময় কথা বলার এক পর্যায়ে বাবুলের ওপর ক্ষেপে যান মুছা। বাবুলের জন্যই এ কাজ করেছেন উল্লেখ করে তার ও তার পরিবারের কোনো ক্ষতি হলে এ বিষয়ে পুলিশের কাছে মুখ খুলবেন বলে বাবুলকে সাফ জানিয়ে দেন মুছা। এরপর থেকেই মুছা নিখোঁজ হয়ে যান।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে নগরের জিইসি মোড়ের কাছে ওআর নিজাম রোডে ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার পথে গুলি ও ছুরিকাঘাতে নির্মমভাবে খুন হন মাহমুদা খানম মিতু। এ ঘটনায় পাঁচলাইশ থানায় হত্যা মামলা করেন তার স্বামী তৎকালীন এসপি বাবুল আক্তার। মামলাটি তদন্ত করছিল নগর ডিবি পুলিশ। পরে গত বছরের জানুয়ারিতে ‘আদালতের নির্দেশে’ মামলার তদন্তভার পায় পিবিআই।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম