বাবার পেশা ধরে রাখতে রান্না করেন ঢাবি ছাত্র সোহাগ

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০২ ডিসেম্বর ২০২১,   অগ্রহায়ণ ১৮ ১৪২৮,   ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৩

বাবার পেশা ধরে রাখতে রান্না করেন ঢাবি ছাত্র সোহাগ

নরসিংদী প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:২২ ১৯ অক্টোবর ২০২১  

রান্নার কাজে ব্যস্ত ঢাবি ছাত্র সোহাগ

রান্নার কাজে ব্যস্ত ঢাবি ছাত্র সোহাগ

নরসিংদীর ছেলে মোহাম্মদ সোহাগ। লেখাপড়া করছেন প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ থেকে শেষ করেছেন স্নাতক। বর্তমানে স্নাতকোত্তরে চলমান রয়েছে। তবুও বাবার বাবুর্চি পেশা ধরে রাখতে কাজ করছেন তিনি। বেশ স্বাচ্ছন্দে বনভোজন কিংবা বিয়ের অনুষ্ঠানে রান্না করেন সোহাগ। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয় এমনটি একটি সংবাদ। মোহাম্মদ সোহাগ জেলার শিবপুর উপজেলার যোশর ইউনিয়নের ভংগারটেক গ্রামের ওসমান গনির সন্তান। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৫-১৬ সেশনের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) শিক্ষার্থী।

সোহাগের জন্ম নরসিংদীর শিবপুরে। গ্রামের স্কুল থেকে শেষ করেন প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা। নরসিংদী সরকারি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করে ২০১৫ সালে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।

এদিকে তার বাবা ২৫ বছর ধরেই শিবপুর ও আশেপাশের এলাকায় বিয়ে বাড়িসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বাবুর্চির কাজ করে আসছেন। ক্লাস সেভেনে পড়াকালীন থেকেই সোহাগ বাবার রান্নার কাজে সহায়তা করতেন। ফলে রপ্ত করেছেন বাবার রান্নার বিভিন্ন কৌশলও।

একপর্যায়ে ২০১৪ সালে দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়াবস্থায় নিজেই ২০ থেকে ২৫ জন খাবার খাবে এমন এক অনুষ্ঠানের দায়িত্ব নিয়ে প্রথম একা রান্নার কাজ নেন। সেখানে ভালো করলে একের পর এক নিজ এলাকা ছাড়াও আশপাশের এলাকার বড় বড় অনুষ্ঠানে রান্নার ডাক আসে সোহাগের। তাদের ডাকে সাড়া দিয়ে স্বাচ্ছন্দে রান্নাও করতে শুরু করেন তিনি । বর্তমানে তিনি ৫০০ মানুষের রান্না একা এবং একবারেই করতে পারেন।

মোহাম্মদ সোহাগ জানান, বিরিয়ানি, ভুনাখিচুরি, গরুর মাংস, খাসির মাংস, রোস্ট, স্পেশাল রুই মাছ, মুগ ও মশুরের ডালসহ প্রায় ১০ প্রকারের রান্নার আইটেম জানা আছে তার। সাধারণত গ্রামাঞ্চলে যেসব খাবার আছে সবই পারেন তিনি। 

তিনি আরো জানান, বাবা বাবুর্চি, ঢাবিতে পড়েও বাবুর্চির কাজ করায় তার লজ্জার কিছু নেই। এটা গর্বের বিষয়। তিনি অবশ্যই বিভিন্ন চাকরির জন্য চেষ্টা করবেন। অন্যদিকে তার রান্না করা এসব বিষয় নিয়েও পরিকল্পনা রয়েছে। কোনো ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট বা এ ধরনের কিছু একটা করারও তার চিন্তা রয়েছে।

বিভিন্ন অনুষ্ঠানে রান্না করতে সম্মানীর বিষয়ে জানান, গ্রামাঞ্চলে যারা আর্থিকভাবে সচ্ছল তাদের জন্য নির্ধারিত মাথাপিছু ২০ টাকা । এছাড়া গ্রামাঞ্চলে অনেকের টাকার সমস্যা হয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে কারো কাছে কম বা প্রয়োজনে বিনামূল্যেও করে থাকেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নরসিংদী জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতির সম্পাদক সারোয়ার হোসাইন বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে সোহাগকে চিনি, সে খুব ভালো রান্না করে। ক্যাম্পাসে তার রান্নার সুনাম আছে। তাছাড়া কোনো কাজে লজ্জা করতে নেই। সোহাগ নিজের পছন্দের কাজটা করছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ