সেই মাদরাসা শিক্ষক লাপাত্তা

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০২ ডিসেম্বর ২০২১,   অগ্রহায়ণ ১৮ ১৪২৮,   ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৩

সেই মাদরাসা শিক্ষক লাপাত্তা

নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:০৬ ১৯ অক্টোবর ২০২১   আপডেট: ১৭:০৯ ১৯ অক্টোবর ২০২১

শাকিল মাহমুদ তামিম

শাকিল মাহমুদ তামিম

ময়মনসিংহের নান্দাইলে শাকিল মাহমুদ তামিম নামে মাদরাসার মোহতামিম মাদরাসার এক শিক্ষার্থীকে এক বছর ধরে বলৎকার করার অভিযোগ উঠেছে। 

জানা গেছে, গত ১০ অক্টোবর শিশুটি মাদরাসা থেকে পালিয়ে গিয়ে তার পরিবারের কাছে বিস্তারিত বললে ঘটনা প্রকাশ পায়। তখন থেকেই এলাকা থেকে লাপাত্তা সেই শিক্ষক। ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন দৈনিকে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। 

শিশুটির মা ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে নান্দাইলের কূলধূরুয়া গ্রামে মাদরাসায় গিয়ে সেই শিক্ষককে খোঁজে পাননি। অনেক চেষ্টা করেও সেই শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি পরিবারটি। বাধ্য হয়ে ওই দিন সন্ধ্যার পর নান্দাইল মডেল থানায় মামলা করতে ছেলেকে নিয়ে হাজির হন মা। মামলা লেখাও হয়েছিল শেষমেশ রহস্যময় কারণে মামলার কাগজে স্বাক্ষর না করেই চলে যান ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা। 

পরবর্তীতে ভিকটিমের বাবা এসে মামলা করবে বলা হলেও আজো কেউ সেই মামলার বাদী হয়নি। ফলে মামলাও হয়নি। 

অপর দিকে, ঘটনাটি মিথ্যা গুজব বলে এলাকার কিছু যুবকের উপর দায় চাপানোর চেষ্টা করেন শিক্ষক তামিম। এমন অপবাদ শুনে সেই যুবক দল একাধিক প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ স্বাক্ষীদের কাছে ছুটে যান। তাদের কাছ থেকে তথ্য প্রমাণ সংগ্রহ করেন।  

এমন ঘৃণিত ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। গত শনিবার রাতে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিসহ এলাকাবাসী গ্রামের একটি খোলা মাঠে আলোচনায় মিলিত হন। সেখানে সিদ্ধান্ত হয় অভিযুক্ত শিক্ষক তামিম অত্র মাদরাসায় শিক্ষকতা করতে পারবে না। এমনকি আগামী তিন বছর এলাকায় তাকে পাওয়া গেলে গণপিটুনি দেওয়া হবে।

যদি ভিকটিমের পরিবার বা প্রশাসন অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেয় তাহলে গ্রামবাসীর কোনো আপত্তি নেই। তারা যথাসম্ভব সহযোগিতা করবে। 

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জানান, তামিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে শয়তানের ফাঁদে পড়ে এমনটি করে ফেলেছে বলে সবার কাছে ক্ষমা চায়। 

ভিকটিমের মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ছেলের ওপর নির্যাতনের বিচার চাই।

এলাকার একাধিক যুবক জানান, শিক্ষক তামিম ও তার পরিবার নানা ভাবে হুমকি দিচ্ছে। কিন্তু ঘটনা সত্যতা থাকায় আমাদের মুখোমুখি হতে পারছে না। 

নান্দাইল মডেল থানার ওসি মিজানুর রহমান আকন্দ জানান, ভিকটিমের পরিবারকে একাধিক বার বলা হলেও তারা মামলা করতে রাজি হচ্ছে না। ফলে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারছি না। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে