কাশবনে প্রেমিকাকে পালাক্রমে ধর্ষণ-ভিডিও ধারণ, গ্রেফতার ২

ঢাকা, রোববার   ০৫ ডিসেম্বর ২০২১,   অগ্রহায়ণ ২২ ১৪২৮,   ২৮ রবিউস সানি ১৪৪৩

কাশবনে প্রেমিকাকে পালাক্রমে ধর্ষণ-ভিডিও ধারণ, গ্রেফতার ২

গাইবান্ধা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:৩৯ ১৭ অক্টোবর ২০২১   আপডেট: ১২:৪১ ১৮ অক্টোবর ২০২১

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

প্রেমিকের সঙ্গে নিজের অন্তরঙ্গ ছবি মুছে ফেলতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয়েছে এক কিশোরী। গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার যমুনা নদীর দুর্গম চরাঞ্চলের কাশবনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মাহবুব মিয়া ও পলাশ মিয়া নামে দুই বখাটে যুবককে গ্রেফতার করেছে ফুলছড়ি থানা পুলিশ।

গ্রেফতার মাহবুব সাঘাটা উপজেলার ভাঙ্গা মোড় এলাকার রসুল হাওলাদারের ছেলে এবং পলাশ একই এলাকার সাখাওয়াত হাওলাদার এর ছেলে। শনিবার বিকেলে নিজ বাড়ি থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। রোববার সকালে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য কিশোরীকে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।

পুলিশ জানায়, সাঘাটা উপজেলার ভাঙ্গা মোড় এলাকায় বোনের বাড়ি হওয়ার সেখানে নিয়মিত যাতায়াত করতো গাইবান্ধা শহরের ব্রিজ রোডের বাসিন্দা ভুক্তভোগী ওই কিশোরী। সাঘাটা উপজেলার ভাঙ্গা মোড় এলাকার পিকআপ ভ্যানের হেলপার মাহবুব হোসেন নামের এক বখাটের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে কিশোরীর। সম্পর্কের কারণে একদিন জোরপূর্বক ধর্ষণ করতে চায় মাহাবুব। একপর্যায়ে মাহবুব কিশোরীর কিছু অশ্লীল ছবি মুঠোফোনে ধারণ করে। সম্প্রতি তাদের সম্পর্কের অবনতি হয়। এই অবস্থায় মাহবুব কিশোরীর অশ্লীল ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল করার ভয় দেখায়। 

গত শুক্রবার দুপুরে মাহবুব তার বন্ধু পলাশকে নিয়ে গাইবান্ধা শহরে গিয়ে কিশোরীর সঙ্গে দেখা করে। কিশোরী অন্তরঙ্গ ছবিগুলো মুছে ফেলার কথা বললে তারা বিয়ের প্রলোভন দেখায়। পরে বখাটে মাহবুব ও তার বন্ধু পলাশ ভুক্তভোগী ওই কিশোরীকে নিয়ে গাইবান্ধা শহরের বড় মসজিদের সামনে থেকে (১৫ অক্টোবর) দুপুরে রিকশা যোগে প্রথমে বাদিয়াখালি ও পরে ফুলছড়ি ঘাটে আসে। সেখান থেকে তারা নৌকাযোগে কিশোরীকে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপারে কাশবনে নিয়ে প্রথমে মাহবুব মিয়া ও পরে পলাশ মিয়া পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এ সময় দুইবন্ধু একে অপরের ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে। এরপর ধর্ষণের ঘটনা কাউকে বললে ভিডিও ভাইরাল করার হুমকি দিয়ে তারা সটকে পড়ে। 

পরে অসুস্থ কিশোরী স্থানীয়দের সহায়তায় গাইবান্ধা শহরের বাসায় পৌঁছে তার মাকে ঘটনাটি জানায়। কিশোরীর মা স্থানীয় এক সাংবাদিকের মাধ্যমে গাইবান্ধা সহকারী পুলিশ সুপারকে জানান। ওই পুলিশ কর্মকর্তার নির্দেশে শনিবার বিকেলে ফুলছড়ি থানার ওসি কাওছার আলীর নেতৃত্বে পুলিশ অভিযান চালিয়ে দুই কিশোরকে তাদের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে।

শনিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে দুই কিশোরকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করা হয়। ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফির অভিযোগে এই মামলা হয়। এদিকে দুই কিশোর ধর্ষণের বিষয়টি পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে বলে নিশ্চিত করেন ফুলছড়ি থানার ওসি কাওছার আলী। তিনি মুঠোফোনে বলেন, অসুস্থ কিশোরী ও তার মাকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম