পান চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে কৃষকরা, আসছে বৈদেশিক মুদ্রা

ঢাকা, বুধবার   ০৮ ডিসেম্বর ২০২১,   অগ্রহায়ণ ২৪ ১৪২৮,   ০২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩

পান চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে কৃষকরা, আসছে বৈদেশিক মুদ্রা

আব্দুস সাত্তার, রাজশাহী ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:২৮ ১৬ অক্টোবর ২০২১  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

রাজশাহীতে আগের চাইতে পানবরজ চাষে কৃষকরা আগ্রহী হয়ে উঠছেন। পান ঔষধি গাছ। আর সেকারণে ঔষধ শিল্পে পানের চাহিদা বাড়ছে। কৃষকদের আরো সহযোগিতা করতে পারলে এ শিল্প আরো সমৃদ্ধ হবে। রাজশাহী জেলায় উৎপাদিত মিষ্টি পানের বেশ কদর রয়েছে দেশ-বিদেশে।

জেলার মোহনপুর উপজেলার মহব্বতপুর গ্রামের পানচাষি আব্দুল মতিন বলেন, পানচাষ লাভজনক হলেও লসও আছে। কারণ মড়ক লাগলে পানচাষে ব্যাপক ক্ষতি হয়। পান কৃষকদের কাছে সোনালী ফসলের মতো। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে পানে অন্য ফসলের চাইতে ভালো লাভ হয়।

বাগমারা উপজেলার রেজা মাহমুদ বলেন, এবার পান বরজ করে ভালো আয় করেছি। তবে স্থানীয় বাজারে পানের ভালো দাম পাওয়া যায় না। ঢাকায় নিয়ে গেলে পানের দাম ভালো আসে। স্থানীয় বিভিন্ন পান বরজ থেকে পান ক্রয় করে দেশের বিভিন্ন জেলায় পান বিক্রি করি আমি।

রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানায়, চলতি ২০২০-২০২১ অর্থবছরে রাজশাহী জেলায় ৪ চার হাজার ৪৯৯ দশমিক ২৩ হেক্টর জমিতে পানবরজ চাষ হয়েছে। এতে উৎপাদন হয়েছে ৭৬ হাজার ১৫১ দশমিক ৮২৫ মেট্রিক টন পান। এবার রাজশাহীতে মোট ১ হাজার ৫শ’ কোটি ৯ লাখ ৫৫ হাজার টাকার পান বিক্রি হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর। ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে ৪ হাজার ৩১১ হেক্টর জমিতে পান চাষ হয়েছিল। উৎপাদন হয়েছিল ৭২ হাজার ৩৩০ দশমিক ৩৪ মেট্রিক টন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কে জে এম আব্দুল আউয়াল বলেন, পান শুধু যে মানুষ খায় তা কিন্তু নয়। পানে রয়েছে ঔষধি গুণ। যার কারণে ঔষধ শিল্পেও পানের ব্যবহার ব্যাপক। এজন্যও পানের চাহিদা প্রচুর। অন্যান্য ফসলের তুলনায় কৃষকরা প্রতিবছর রাজশাহীতে পান চাষে উৎসাহিত হচ্ছেন।  

তিনি আরো জানান, রাজশাহীর আবহাওয়া ও মাটি পান চাষে উপযোগী হওয়ায় দিন দিন কৃষকরা পান চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। এতে রাজশাহীর পান বিদেশেও রফতানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হচ্ছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম

English HighlightsREAD MORE »