স্ত্রীর ডিভোর্স, ৫ বছর শিকলবন্দি তুহিন

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০২ ডিসেম্বর ২০২১,   অগ্রহায়ণ ১৮ ১৪২৮,   ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৩

স্ত্রীর ডিভোর্স, ৫ বছর শিকলবন্দি তুহিন

বরগুনা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:৫৯ ১৬ অক্টোবর ২০২১  

তুহিন

তুহিন

নিজের পছন্দে বিয়ে করেন তুহিন। ভালোই কাটছিল দাম্পত্য জীবন। বছর দুয়েক পর হঠাৎ একদিন স্বামীকে ছেড়ে চলে যান স্ত্রী। কোনো কারণ ছাড়াই দেন ডিভোর্স। তুহিন বিষয়টি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেননি। ভালোবাসার মানুষটি চলে যাওয়ায় হারিয়ে ফেলেন মানসিক ভারসাম্য। শুরু করেন ঘরবাড়ি ভাঙচুর। তাই বাধ্য হয়ে ছেলেকে শিকলে বেঁধে রাখেন মা। এভাবেই পাঁচ বছর ধরে শিকলবন্দি তুহিন।

২৯ বছর বয়সী এ যুবকের পুরা নাম জয়নাল হোসেন তুহিন। তার বাড়ি বরগুনা সদর উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের সুরেশ্বর বাজার এলাকায়। বাবার নাম আবদুল জব্বার।

ভুক্তভোগীর স্বজনরা জানান, ২০১৩ সালে নিজের পছন্দে বিয়ে করেন তুহিন। মা-বাবা, স্ত্রী নিয়ে আনন্দেই দিন কাটছিল তার। বিয়ের পর বরিশালের একটি প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার অপারেটর পদে চাকরি হয়। ফলে বরিশালেই তাকে থাকতে হতো।

২০১৭ সালের কোনো কারণ ছাড়া ডিভোর্স দিয়ে বাবার বাড়ি চলে যান স্ত্রী। খবর পেয়ে বাড়ি চলে আসেন তুহিন। ঘরে ঢুকে স্ত্রীকে না পেয়ে দরজা-জানালা বন্ধ করে আসবাবপত্র ভাঙচুর করতে থাকেন। পরে স্বজনরা দরজা ভেঙে অজ্ঞান অবস্থায় তুহিনকে উদ্ধার করেন। এরপর থেকেই তুহিন অস্বাভাবিক আচরণ করতে শুরু করেন।

জিনে ধরেছে ভেবে বেশ কয়েকজন ওঝার শরণাপন্ন হন তুহিনের বাবা-মা। তাদের পরামর্শে পুনরায় তাকে বিয়ে করান। এরপরও সুস্থ হননি তুহিন। ফলে দ্বিতীয় স্ত্রীও বাবার বাড়িতে থাকেন।

তুহিনের মা সুফিয়া বেগম বলেন, টাকার অভাবে ছেলেটার কোনো চিকিৎসা করাতে পারছি না। তাই বাধ্য হয়ে তাকে বেঁধে রাখতে হয়। ছাড়া পেলে ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে। সরকার এত মানুষকে সহায়তা দেয় আমাদের চোখে পড়ে না।

তুহিনদের ঘর

তুহিনের বাবা আবদুল জব্বার বলেন, আমার চার মেয়ে ও দুই ছেলে। মেয়েরা সবাই শ্বশুরবাড়ি থাকে। আর বড় ছেলে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে আলাদা থাকে। ছোট ছেলে তুহিন পাঁচ বছর ধরে পাগল। লোকজনের কাছ থেকে খাবার চেয়ে এনে জীবন চালাই। এখন পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি কোনো সহায়তাই পাইনি।

বুড়িরচর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মইনুদ্দিন ময়না বলেন, তুহিন আগে ভালো ছিলেন। কম্পিউটার অপারেটর পদে চাকরি করতেন। হঠাৎ তাকে তালাক দিয়ে স্ত্রী চলে যাওয়ায় ভীষণভাবে মানসিক আঘাত পান। এরপর থেকে তার এ হাল।

বরগুনা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আনিসুর রহমান বলেন, চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র নিয়েই তার কার্ডের ব্যবস্থা করা হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর