একজনকে ২৫ বার, মাস শেষ হলেই নেন নতুন ছাত্রের ‘যৌন-সেবা’

ঢাকা, শুক্রবার   ২২ অক্টোবর ২০২১,   কার্তিক ৭ ১৪২৮,   ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

একজনকে ২৫ বার, মাস শেষ হলেই নেন নতুন ছাত্রের ‘যৌন-সেবা’

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:১৬ ১১ অক্টোবর ২০২১   আপডেট: ২১:২৫ ১১ অক্টোবর ২০২১

শাকিল মাহমুদ তামীম

শাকিল মাহমুদ তামীম

প্রথমে ছাত্রকে নিজ কক্ষে ডেকে নেন। এরপর করান শরীর ম্যাসাজ। মেটাতে হয় যৌন চাহিদাও। ফাঁকি দিলেই চলে নির্যাতন। মুখ খোলার সাহসও পেতো না ছাত্ররা। কেউ যেন মুখ না খোলে সেজন্য রাখতেন চোখে চোখে। এভাবেই প্রতি মাসে একজন করে ‘যৌন-সেবা’ নেন মুহতামিম।

মাদরাসা থেকে কৌশলে পালিয়ে মাকে সঙ্গে নিয়ে মুহতামিমের বিরুদ্ধে থানায় এমনই অভিযোগ করে এক ছাত্র। ঘটনাটি ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার চণ্ডীপাশা এলাকার কূলধূরুয়া দারুস সালাম ক্যাডেট মাদরাসার।

অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম শাকিল মাহমুদ তামীম। তিনি কূলধূরুয়া দারুস সালাম ক্যাডেট মাদরাসার মুহতামিম। সোমবার সন্ধ্যায় শিক্ষকের বিচার চেয়ে থানায় অভিযোগ করে ভুক্তভোগী এক ছাত্র।

পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগী ছাত্র নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার একটি গ্রামের বাসিন্দা। সে কূলধূরুয়া দারুস সালাম ক্যাডেট মাদরাসার ছাত্র। সেখানেই তাকে বলাৎকার করেন মাদরাসার মুহতামিম শাকিল মাহমুদ তামীম। এতে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে শিশুটি।

শিশুটি পুলিশকে জানায়, তাকে প্রায় ২০-২৫ বার বলাৎকার করেন মুহতামিম। এর থেকে রেহাই পেতে মাদরাসা ছেড়ে চলে যেতে চাইলে তাকে নজরে রাখতেন ‘হুজুর’। তার কথা ছাড়া সে বাইরে বের হতে পারতো না। গতকাল রোববার অন্যত্র বেড়াতে যান মুহতামিম। এ সুযোগে কৌশলে মাদরাসা থেকে পালিয়ে বাড়িতে যায় শিশুটি। এরপর মায়ের কাছে সব খুলে বলে।

গ্রামের বাসিন্দা মো. মোজাম্মেল হক বলেন, ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের কুকর্ম হতে পারে তা আমাদের মতো মানুষের কাছে অবিশ্বাস্য। অভিযোগ প্রসঙ্গে বক্তব্য জানতে মাদরাসায় গিয়ে মুহতামিমকে পাওয়া যায়নি। ফোন দিলে কলও রিসিভ করেননি।

নান্দাইল মডেল থানার ওসি মিজানুর রহমান আকন্দ জানান, মাকে নিয়ে থানায় এসেছে শিশুটি। মামলা নেয়া হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর