পুরোনো ড্রামে বদলে গেল গ্রাম

ঢাকা, সোমবার   ০৬ ডিসেম্বর ২০২১,   অগ্রহায়ণ ২২ ১৪২৮,   ২৯ রবিউস সানি ১৪৪৩

পুরোনো ড্রামে বদলে গেল গ্রাম

কাজী মফিকুল ইসলাম, আখাউড়া ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:৫০ ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১   আপডেট: ১৫:৫৮ ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১

পুরনো ড্রামের পাত দিয়ে তৈরি করছেন বিভিন্ন পণ্য

পুরনো ড্রামের পাত দিয়ে তৈরি করছেন বিভিন্ন পণ্য

সকাল থেকেই টুংটাং শব্দে মুখরিত এলাকা। বাড়ির আঙিনায় বসে কেউ বানাচ্ছে কড়াই-আতা কেউবা নৌকার পাতাম-তাওয়া, পাল্লা আবার কেউ পুরোনো ড্রাম কাটছেন। জীবিকার তাগিদে এ কাজ বেছে নিয়েছেন গ্রামের নারী-পুরুষরা। আর এ কাজ তাদের জীবনও বদলে দিয়েছে। এসব মালামাল বিক্রি করে মাসে কামাচ্ছেন লাখ লাখ টাকা।

পুরোনো ড্রামের পাত দিয়ে কড়াই, তাওয়া, পাল্লাসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য তৈরি করছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার উত্তর ইউনিয়নের রামধননগর গ্রামের ছোট-বড় প্রায় ২৫টি পরিবার। প্রায় ৩০ বছর ধরে এ পেশায় রয়েছেন এসব পরিবারের সদস্যরা। এসব পণ্য বানিয়ে প্রতি মাসে ৩০-৩৫ লাখ টাকারও ওপরে বিক্রি করেন তারা।

বর্তমানে নিজেদের হাতে বানানো এসব পণ্য বিক্রিতেই চলছে তাদের জীবন-জীবিকা। নারী-পুরুষ মিলে এ কাজ করায় প্রতিটি সংসারেই ফিরেছে সচ্ছলতা। এ ক্ষুদ্রশিল্প গড়ে ওঠায় রামধননগর মধ্যপাড়ার নাম পাল্টে হয়েছে তাওয়াপাড়া।

কাজে ব্যস্ত তিনি

কথা হয় কারখানার মালিক মো. ইউসুফ মিয়ার সঙ্গে। তিনি জানান, এ কারখানায় পাঁচজন শ্রমিক নিয়মিত কাজ করেন। পাশাপাশি পরিবারের লোকজনও সহযোগিতা করছেন। দীর্ঘ ২০ বছর ধরে এ পেশায় কাজ করছেন তিনি। ড্রাম কেনা, শ্রমিক মজুরি অন্যান্য উপকরণ খরচ বাদে প্রতি মাসে তার ৪০-৫০ হাজার টাকারও বেশি আয় হয় বলে জানান ইউসুফ মিয়া।

তিনি বলেন, করোনার কারণে কিছুটা মন্দাভাব দেখা দেয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে মালামালের চাহিদা বাড়ায় দিন-রাত কাজ করতে হচ্ছে। মূলত চট্টগ্রাম থেকে পুরনো ড্রাম কিনে এসব পণ্য তৈরি করা হয়। প্রতি তিন মাসে এক গাড়ি পুরনো ড্রাম লাগে। যার মূল্য আড়াই লাখ টাকার মতো। এসব ড্রাম দিয়ে পণ্য বানিয়ে পাঁচ লাখ টাকার ওপরে বিক্রি করা হয়।

বিভিন্ন পণ্য

মো. জামাল মিয়া বলেন, বাবার হাত ধরে এ পেশায় এসেছি। বর্তমানে এ উপজেলাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ড্রামের পাতের মালামালের ভালো চাহিদা রয়েছে। চট্টগ্রাম থেকে পুরনো ড্রাম কিনে কড়াই, আতা, নৌকার পাতাম, তাওয়া, পাল্লাসহ নানা ধরনের জিনিস তৈরি করা হচ্ছে। এতে প্রতি মাসে দুই লাখ টাকারও বেশি মালামাল বিক্রি হয়।

মো. রিপন মিয়া বলেন, একটি কড়াই ১৩০-১৫০, তাওয়া ৫০-৬০, পাল্লা ১২০-১৫০, নৌকার পাতাম ১০০-১৩০, আতা ৩০-৪০ ও চালনি আতা ৬০-৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শ্রমিক বেতন, মালামালসহ অন্যান্য খরচ বাদে প্রতি মাসে ৩০ হাজার টাকার ওপর আয় হয়।

কারখানার শ্রমিক লিটন ও সোহেল জানান, কয়েক বছর ধরে তারা এ কাজ করছেন। যত বেশি পণ্য বানানো হয় ততবেশি মজুরি পাওয়া যায়। এ কাজ করে প্রতি মাসে আট-দশ হাজার টাকা পাওয়া যায়।

পুরনো ড্রাম বাছাই করছেন

আখাউড়া উত্তর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান ভূঁইয়া স্বপন বলেন, রামধননগর গ্রামে কয়েক বছর ধরে পুরনো ড্রাম দিয়ে বিভিন্ন মালামাল তৈরি করা হয়। এসব বানিয়ে জীবিকা অর্জনের পাশাপাশি অর্থনীতি উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখছেন তারা। সরকারিভাবে আর্থিক সহায়তা পেলে এ শিল্পের ব্যাপক প্রসার ঘটবে বলে জানান তিনি। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর/জেএইচ