রাঙামাটির জুমে ধান কাটার ধুম

ঢাকা, সোমবার   ১৮ অক্টোবর ২০২১,   কার্তিক ৩ ১৪২৮,   ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

রাঙামাটির জুমে ধান কাটার ধুম

মো. নুরুল আমিন, রাঙামাটি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:২৫ ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১  

মৃদু বাতাসে দুলছে জুমিয়াদের স্বপ্ন (ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ)

মৃদু বাতাসে দুলছে জুমিয়াদের স্বপ্ন (ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ)

রাঙামাটির জুমে ধান কাটার ধুম পড়েছে। পাহাড়ের চূড়ায় চূড়ায় শোভা পাচ্ছে জুমিয়াদের সোনালি রঙের ধান। পাহাড়ের বুক জুড়ে যেদিকে চোখ যায়, সেদিকে সোনালি সমারোহ। দূর থেকে দেখলে মনে হবে সবুজ পাহাড়ের বুকে একটি সোনালি রঙের বিছানা।

মৃদু বাতাসে দুলছে জুমিয়াদের স্বপ্ন। বুনানো স্বপ্নের পাকা ধান কেটে হাসি মুখে ঘরে তুলছেন রাঙামাটির জুমিয়ারা। এতেই ব্যস্ত সময় পার করছেন জুম চাষিরা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, রাঙামাটির আসামবস্তি সড়কে বিলাইছড়ি পাড়া এলাকায় সড়ক ঘেঁষে পাহাড়ে প্রায় দেড় একর জমিতে জুম চাষ করেছে স্থানীয় পাহাড়িরা। সেখানে ধানের ফাঁকে ফাঁকে রোপণ করা হয়েছে কলাগাছ, মরিচ, হলুদ, আদা, কচু, মিষ্টি কুমড়া ও বরবটিসহ নানান জাতের শাক-সবজি।

চাষিরা জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং নিয়মিত পরিচর্যা করার কারণে জুম চাষে ভালো ফলন হয়েছে। বর্তমানে জুমে জুমে চলছে ধান কাটার উৎসব। জুমচাষিদের ঘরে ঘরে চলছে নবান্ন উৎসব।

তারা আরো জানান, জুমে উৎপাদিত ধান ও কৃষি শাক-সবজি ৭ থেকে ৮ মাস পর্যন্ত তাদের খাবারের জোগান দেয়। এছাড়াও তারা অতিরিক্ত শাক-সবজি বিক্রি করেও জীবিকা নির্বাহ করেন।

জুমচাষি নিয়তি চাকমা জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর জুমে ভালো ফলন হয়েছে। ধানের পাশাপাশি রোপণ করা হয়েছে বিভিন্ন শাক-সবজি। জুমে উৎপাদিতকৃত ধান প্রায় ৭ থেকে ৮ মাস পর্যন্ত জোগান দিবে এবং উৎপাদিত শাক-সবজি দিয়ে নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে এগুলো বিক্রি করে তাদের সংসার চলে।

মৃদু বাতাসে দুলছে জুমিয়াদের স্বপ্ন (ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ)আরেক জুমচাষি বসুদেব জানান, জুমে আগে শুধু ধান চাষ করা হতো। এখন ধানের পাশাপাশি হাইব্রিড জাতের শাক-সবজিও রোপণ করছেন। ধান এবং বিভিন্ন কৃষিপণ্যের ভালোই ফলন হচ্ছে। বর্তমানে জুমে ধান কাটার ধুম পড়েছে। ধান কাটার পর ধাপে ধাপে শাক-সবজি তুলে বিক্রি করে তাদের সংসার চলে।

তিনি আরো জানান, প্রতি বছর এপ্রিল মাসের শেষের দিকে শুরু হয় জুমে ধান লাগানোর প্রক্রিয়া। প্রায় ৩-৪ মাস পরির্চযার পর সেপ্টেম্বর মাসের শেষদিক থেকে পাহাড়ে জুমের ধান কাটা শুরু করে আর শেষ হয় অক্টোবর মাসে।

এ বিষয়ে রাঙামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষ্ণ প্রসাদ মল্লিক জানান, রাঙামাটিতে এবার ৫ হাজার ৫৮০ হেক্টর জমিতে জুম চাষ হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় শতকরা ৪০ ভাগ ধান কর্তন করা হয়েছে। 

জুমে পুরাতন ঐতিহ্য বীজের পাশাপাশি বিভিন্ন আধুনিক জাতের ধান ও সবজির বীজ রোপণ করলে জুমচাষিরা লাভবান হবেন। অনেক জুমচাষি আধুনিক জাতের বীজ ব্যবহার লাভবান হচ্ছেন। জুমচাষিদের আধুনিক পদ্ধতিতে জুম চাষের জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে বলে জানান কৃষি কর্মকর্তা।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম