সবুজের মাঝে বাঁচতে বৃক্ষ প্রেমিক মানিকের স্বপ্ন

ঢাকা, সোমবার   ১৮ অক্টোবর ২০২১,   কার্তিক ৩ ১৪২৮,   ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

সবুজের মাঝে বাঁচতে বৃক্ষ প্রেমিক মানিকের স্বপ্ন

আমিনুল ইসলাম জুয়েল, পাবনা ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:০১ ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মাদরাসা, ঈদগাহ আর রাস্তার দু’পাশে গাছ লাগিয়ে চলেছেন মানিকুজ্জামান মানিক নামে এক যুবক। তার ভালো কাজের জন্য তাকে অনেকে ‘মানিক এর খানিক’ বলে ডাকেন অনেকে।

তিনি ‘সবুজ আতাইকুলা’র স্বপ্ন দেখেন। তাই পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার আতাইকুলা থানার রঘুনাথপুর- আতাইকুলা এলাকায় গাছ লাগানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে চলেছেন। সবুজায়নের স্বপ্নে গত দেড় বছরে ৩ হাজার গাছ লাগিয়েছেন মানিক।

তিনি জানান, রাস্তার দু’পাশের খালি জায়গাজুড়ে গাছ থাকলে পরিবেশ যেমন ভালো থাকবে, তেমন পথিকের পথ চলতেও সুবিধা হবে।
 
মানিকুজ্জামান মানিক উপজেলার আর-আতাইকুলা ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামের আলহাজ আবদুল বাতেন মাস্টারের ছেলে। তিনি প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার। ঠিকাদারি ব্যবসার পাশাপাশি এলাকার অসহায় মানুষকে সাহায্য-সহযোগিতাসহ সবুজায়নে কাজ করছেন তিনি। 

নার্সারি থেকে ঘুরে ঘুরে তিনি গাছ পছন্দ করে ভ্যান গাড়ি যোগে বিভিন্ন গ্রামে পৌঁছে নিজস্ব লোক দ্বারা গাছ লাগানোর ব্যবস্থা করছেন। নিজে উপস্থিত থেকে চারা গাছ ঘেরার ব্যবস্থাও করে দিয়ে আসছেন। তার এ কাজে মসজিদের মুসল্লিারাও সন্তোষ প্রকাশ করেন। তারুণ্যদীপ্ত মানিকুজ্জামানের এ সবুজ স্বপ্ন দেখে এলাকার তরুণ-যুবকসহ সব বয়সী মানুষ উৎসাহিত। তারা এ কাজে সহযোগিতা করছেন, তাকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন।

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশস্থানীয়রা জানায়, করোনা মহামারি শুরু হলে অসহায়-কর্মহীনদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ শুরু করেন মানিকুজ্জামান। মানুষের বাড়ি খাদ্যপণ্য পৌঁছে দিতে গিয়ে সড়কের পাশে বৃক্ষ রোপণের বিষয়টি মাথায় আসে। নিজ অর্থায়নে শুরু করেন কাজটি। পর্যায়ক্রমে এলাকার স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মাদরাসা ও ঈদগাহের খালি জায়গায় বৃক্ষরোপণ শুরু করেন তিনি।

দেড় বছরে উপজেলার রঘুনাথপুর-আতাইকুলা ইউনিয়নের ১৭ গ্রামে ৭৫০ অসহায় কর্মহীনকে খাদ্যসামগ্রী, পাঁচ শতাধিক অসহায় নারীকে শাড়ি, শিশুদের খেলার সামগ্রীসহ এসব এলাকায় তিন হাজারের বেশি গাছের চারা রোপণ করেছেন।

আতাইকুলা বাজারের পাশের প্রবীণ বাসিন্দা কামরুল হাসান জানান, মানিক শুধু গাছ লাগান তা নয় তিনি গরিবের বিপদে আপদে পাশে দাঁড়ান। করোনাকালে তিনি অনেক অসহায় মানুষকে সহায়তা করেছেন। তার কাজকর্ম অন্য ১০ যুবকের জন্য অনুকরণীয়।

কামরুল হাসান আরো জানান, মানিকুজ্জামান মানিক গত দেড় বছরের করোনাকালে রঘুনাথপুর- আতাইকুলা ইউনিয়নের ১৭টি গ্রামে ৭৫০ জন গরিব, দুস্থ অসহায় মানুষকে ৫ লাখ টাকার খাদ্যদ্রব্য দিয়েছেন। অর্থ দিয়েছেন দেড় লাখ টাকা। তিনি গরিব অসহায় মহিলাদের ৫০০ পিস শাড়ি দিয়েছেন। গত কয়েক বছরে তিনি চরপাড়া ও আড়িয়াডাঙ্গী নামে দুটি গ্রামের দুটি খাল ভরাট করে দিয়েছেন। আবার বিভিন্ন গ্রামে শিশু কিশোরদের খেলার জন্য জার্সি ও ফুটবল কিনে দিয়েছেন। পাবনা শহরের ঐতিহ্যবাহী মানবকল্যাণ ট্রাস্টে ১৬০ জন অন্ধ, এতিম ও প্রতিবন্ধীদের মধ্যে বছরে অন্তত তিনবার উন্নত খাবার পরিবশেন করেন।  

সাঁথিয়া উপজেলার গাঙ্গহাটি কদমতলী নামক গ্রামের ব্যবসায়ী আজগর আলী জানান, তাদের গ্রামের রাস্তায় অন্ধকার দূর করার জন্য মানিকুজ্জামান মানিক গত মাসে ৫৫ হাজার টাকা ব্যয় করে একটি সোলার প্যানেল কিনে দিয়েছেন। 

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশসাঁথিয়া উপজেলার সামান্যপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আফসার আলী জানান, ৫ বছর আগে তার বিদ্যালয়ে পাঠাগারের জন্য কয়েকটি ফ্যান উপহার দেন মানিকুজ্জামান মানিক।

মানিকুজ্জামান মানিক জানান, সারাদেশের মত পাবনাতেও করোনার থাবায় কর্মহীন ও অসহায় হয়ে পড়ে অসংখ্য মানুষ। তাই তিনি আতাইকুলা এলাকার দরিদ্র মানুষের পাশে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। তাদের খাদ্যের পাশাপাশি গাছের চারা প্রদান করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে তিনি নিজে নার্সারি থেকে বাছাই করে ফলদ, বনজ ও ওষুধি গাছের চারা প্রদান করেছেন। এতে মানুষের জীবনে স্বচ্ছলতা আসবে আর সবুজ প্রকৃতির ভারসাম্য বজায় থাকবে। 

সাঁথিয়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সোহেল রানা খোকন জানান, এ যুবকের সবুজ স্বপ্ন বাস্তবায়িত হলে ধীরে ধীরে সবুজে ভরে উঠবে পুরো এলাকা। 

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম