শহীদ ময়েজউদ্দিনের ৩৭তম শাহাদাৎ বার্ষিকী পালন  

ঢাকা, সোমবার   ২৫ অক্টোবর ২০২১,   কার্তিক ১০ ১৪২৮,   ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

শহীদ ময়েজউদ্দিনের ৩৭তম শাহাদাৎ বার্ষিকী পালন  

কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:০৭ ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১   আপডেট: ২১:১৬ ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১

শহীদ ময়েজউদ্দিনের ৩৭তম শাহাদাৎ বার্ষিকী পালিত

শহীদ ময়েজউদ্দিনের ৩৭তম শাহাদাৎ বার্ষিকী পালিত

নানা আনুষ্ঠানিকতায় পালিত হয়েছে ঐতিহাসিক আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আত্মদানকারী শহীদ ময়েজউদ্দিনের ৩৭তম শাহাদাৎ বার্ষিকী।

এ উপলক্ষে কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বনানী কবরস্থানে ময়েজউদ্দিনের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ সময় আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির মহিলা বিষয়ক সম্পাদক শহীদের কন্যা মেহের আফরোজ চুমকি এমপি, গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন সবুজ এমপি, তাঁতীলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক খগেন্দ্র চন্দ্র দেবনাথ, গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাড. মো. আজমতউল্লাহ খান, সাধারণ সম্পাদক ও গাজীপুর সিটি মেয়র অ্যাড. মো. জাহাঈীর আলমসহ, গাজীপুর জেলা, মহানগর আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বেলা ১১টার দিকে উপজেলা পরিষদের সামনে শহীদ ময়েজউদ্দিন স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করা হয়। এ সময় মেহের আফরোজ চুমকি, কালীগঞ্জ উপজেলার পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোয়াজ্জেম হোসেন পলাশ, ইউএনও মো. শিবলী সাদিক, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মতিন সরকার, আবু বকর চৌধুরী, কালীগঞ্জ পৌর মেয়র এস. এম রবীন হোসেন, ওসি মো. আনিসুর রহমানসহ উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

শহীদ ময়েজউদ্দিনের ৩৭তম শাহাদাৎ বার্ষিকী পালিত

শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়, নোয়াপাড়া স্কুল মাঠ, পৌর এলাকার দেওপাড়ায় শহীদ ময়েজউদ্দিন ফেরিঘাটে দোয়া, মিলাদ মাহফিল ও খাবার বিতরণ করা হয়।  

শহীদ ময়েজউদ্দিন ১৯৩০ সালে ১৭ মার্চ গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার মোক্তারপুর ইউনিয়নের বড়হরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম ছুরত আলী, মাতার নাম শহরবানু। তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্র্রীয় কমিটির মহিলা বিষয়ক সম্পাদক, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবেক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি এমপির বাবা।

শহীদ ময়েজউদ্দিন ঐতিসাহিক আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা পরিচালনা করার জন্য গঠিত ‘মুজিব তহবিলের’ আহ্বায়ক ছিলেন। একজন বিচক্ষণ আইনজীবী ও রাজনীতিক হিসেবে অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে ওই ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ময়েজউদ্দিন উল্লেখযোগ্য সময় ধরে বৃহত্তর ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, পরে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭০ এবং ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে গাজীপুর-কালীগঞ্জ নির্বাচনী এলাকা থেকে যথাক্রমে প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য এবং জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

রাজনীতির পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কাজে জড়িত ছিলেন। ১৯৭৭ সাল থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বাংলাদেশ রেডক্রস (বর্তমানে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট) সোসাইটির নির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন।

তিনি একাধারে বাংলাদেশ পরিবার পরিকল্পনা সমিতি (এফপিএবি)’র মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। শহীদ ময়েজউদ্দিনের রক্তের সিঁড়ি বেয়ে ধাপে ধাপে গড়ে উঠা প্রবল গণআন্দোলনে অবশেষে সামরিক শাসক ও শাসনের পতন ঘটে। গণতন্ত্রের জয় হয়।

মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে গৌরবময় ভূমিকা পালন করায় বাংলাদেশ সরকার তাকে ‘স্বাধীনতা পদক’-এ ভূষিত করেন।

১৯৮৪ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তৎকালীন স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে সারাদেশে ২২ দল আহুত হরতালের আহ্বান করে। ওইদিন গাজীপুরের কালীগঞ্জে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের মিছিলে শহীদ ময়েজউদ্দিন নেতৃত্ব দেন। ওই সময় কালীগঞ্জ বাজার এলাকায় কতিপয় সন্ত্রাসী তার ওপর হামলা চালালে ঘটনাস্থলেই তিনি শাহাদাৎ বরণ করেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে