পর্যটকদের পদচারণায় মুখর সুসং দুর্গাপুর 

ঢাকা, সোমবার   ১৮ অক্টোবর ২০২১,   কার্তিক ৩ ১৪২৮,   ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

পর্যটকদের পদচারণায় মুখর সুসং দুর্গাপুর 

রিফাত আহমেদ রাসেল, নেত্রকোনা ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:১৮ ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১  

পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হতে শুরু করেছে নেত্রকোনার দুর্গাপুরের প্রতিটি স্পট

পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হতে শুরু করেছে নেত্রকোনার দুর্গাপুরের প্রতিটি স্পট

পাহাড় নদীর প্রকৃতির অন্যতম মেলবন্ধন নেত্রকোনার দুর্গাপুর‌। সবুজ প্রকৃতি থেকে শুরু করে ঐতিহ্য, ইতিহাস ও প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর এই উপজেলা পর্যটকদের কাছে যেনো স্বর্গরাজ্যে। স্বচ্ছ পানির নদী সোমেশ্বরীর ধারায় গা ভাসিয়ে ক্লান্তি ভুলান ভ্রমণ পিপাসুরা। আবার নানা রকম রঙের খেলা চিনা মাটির পাহাড়ের মনমুগ্ধকর সৌন্দর্যে অনেকেই ক্ষণিকের জন্য নিজেকে হারিয়ে ফেলেন রঙের মায়া। অনেকে আবার এখানকার নীল পানির জন্য বারবার আসে চিনামাটির পাহাড়ে।

ছবি ডেইলি বাংলাদেশ

প্রকৃতির এই স্বর্গরাজ্য করোনা থাবায় গেল দেড় বছর ছিলো পর্যটকশূন্য। থমকে যাওয়া স্পটগুলোতে যেন গ্রাস করেছিল নীরবতার ছায়া। জনমানবহীন হয়ে পড়েছিলো চিরচেনা ব্যস্ত এই এলাকাগুলো। পর্যটক না আসায় বেকার সময় পার করেছেন স্থানীয় অটোচালক থেকে শুরু করে পর্যটক নির্ভর ব্যবসায়ীরা। 

অনেকেই ধার-দেনা কিংবা মানুষের এখানে কাজ করে চালিয়েছেন তাদের পেট। কিস্তিতে কেনা অটো রিকশার কিস্তির ভয়ে পালিয়ে বেড়িচ্ছেন এক স্থান থেকে অন্য স্থানে। তবে দীর্ঘ সময় পর হলেও তাদের মাঝে বেড়েছে আগের সেই ব্যস্ততা। এখন আগের মতোই কর্ম ব্যস্ত সময় পার করছেন এখানকার অটো চালকরা। 

ছবি ডেইলি বাংলাদেশ
 
করোনার সংকট কাটিয়ে এখন আবারো পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হতে শুরু করেছে নেত্রকোনার দুর্গাপুরের প্রতিটি স্পট। গেল দেড় বছরে তুলনায় এখন পর্যটকদের আনাগোনা বেড়েছে বিজয়পুর, কমলা বাগান, রানীখং, চিনামাটির পাহাড়সহ সব কয়েকটি স্পটে।

একদিকে কমেছে করোনার সংক্রমণ অন্যদিকে বর্ষা শেষ সব মিলিয়ে এখন শরতের এই স্বচ্ছ নীল আকাশে পরিবার-পরিজন কিংবা বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে ভ্রমণে বেরিয়েছেন অনেকেই। আনন্দের সঙ্গেই পাহাড়ে উঠছে, ঘুরে বেড়াচ্ছেন সোমেশ্বরী নদীসহ আশপাশের প্রতিটি স্পটে। সড়ক ও নৌপথ সব জায়গায় স্বাভাবিকের তুলনায় পর্যটকদের ভিড় বেড়েছে অনেকাংশে।

ছবি ডেইলি বাংলাদেশ

পর্যটকদের পাশাপাশি এখন স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও আনন্দের সঙ্গে পরিচালনা করছেন তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। করোনাকালীন সময় লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে অলস সময় পার করলেও এখন পর্যটক আসায় ব্যস্ত তারাও। তবে পর্যটকরা বলছেন স্পটগুলোর আশেপাশে পাবলিক টয়লেটসহ বসার সুব্যবস্থা করা গেলে এ স্থানগুলো পর্যটকদের কাছে আরো আকর্ষণীয় হয় উঠবে। এদিকে পর্যটকদের টানতে নতুন করে সবকিছু সাজিয়ে গুছিয়ে পরিপাটি করে তুলেছেন স্থানীয় ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর কালচার একাডেমিসহ হোটেল ব্যবসায়ীরা। 

এদিকে স্থানীয়রা বলছেন উপজেলার সদর ও কুল্লাগড়া ইউনিয়নের পর্যটন স্পটগুলোকে কাজে লাগিয়ে বড় ধরনের রাজস্ব আয় করা সম্ভব। 

পর্যটকরা বলেন, করোনার পরে আমরা প্রথম দুর্গাপুরে আসলাম। চারদিকের পরিবেশ পরিস্থিতি অনেক সুন্দর। এখানের জায়গাগুলো যদি আরেকটু সংস্কার করা যেতো যেমন দর্শনার্থীদের বসার জায়গাসহ আসার সড়কগুলো যদি আরো সুগম করা হয় তাহলে এখানে আরো পর্যটক আসবে। পাশাপাশি পর্যটন স্পটগুলোর পাশে আবাসন, পাবলিক টয়লেট ও বসার সুব্যবস্থা করা গেলে ভালো হতো।

ছবি ডেইলি বাংলাদেশ

দুর্গাপুরের এক হোটেল ব্যবসায়ী বলেন, হোটেল দিয়েছি এক বছর ধরে। করোনার জন্য ছয় মাসেই বন্ধ ছিল। এখন আবার নতুন করে পর্যটকরা আসতেছে আমাদের হোটেল ভালো চলছে। আশা করি সামনের দিনগুলোতে আরো বেশি মানুষ আসবে এবং আমাদের ব্যবসাও ভালো হবে।

বিরিশিরি ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমির পরিচালক সুজন হাজং বলেন, আমরা ক্ষুদ্র-নৃ গোষ্ঠীর কালচার একাডেমির পক্ষ থেকে পর্যটকদের টানতে আমাদের ওয়েবসাইটে প্রতিটি স্পট এর ছবিসহ বিস্তারিত তথ্য দেয়া থাকছে। যাতে করে পর্যটকরা এসে তার পছন্দমতো জায়গা সহজেই ঘুরে দেখতে পারেন। এছাড়া আর্ট গ্যালারি করার চিন্তাভাবনা করছি। যেন পর্যটকরা এসে প্রকৃতির মাঝে বসে তার মনের মাধুরী দিয়ে প্রকৃতিকে তুলে ধরতে পারে।

ছবি ডেইলি বাংলাদেশ

উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজিব উল আহসান বলেন, দুর্গাপুরের বিজয়পুরের সাদামাটি জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এটি দুর্গাপুরবাসীর জন্য বড় একটি পাওয়া। আমরা এই মাধ্যমকে ব্যবহার করেই পর্যটকদের কাছে পর্যটন স্পটগুলো তুলে ধরার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। দুর্গাপুরের পর্যটন শিল্পকে তুলে ধরতে আমরা এরই মধ্যে একটি মাস্টার প্ল্যান হাতে নিয়েছে। আশা করি অচিরেই কাজগুলো সম্পন্ন হলে দুর্গাপুর তথা সারাদেশের মানুষ দুর্গাপুরের এই পর্যটন শিল্পের সুফল পাবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ