ফেসবুকে ভীতিকর ছবি দিয়ে বিজ্ঞাপন, অনুমতি ছাড়াই ক্লিনিকে অপারেশন!

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৬ অক্টোবর ২০২১,   কার্তিক ১২ ১৪২৮,   ১৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

ফেসবুকে ভীতিকর ছবি দিয়ে বিজ্ঞাপন, অনুমতি ছাড়াই ক্লিনিকে অপারেশন!

যশোর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:০০ ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১  

(ছবি: সংগৃহীত)

(ছবি: সংগৃহীত)

যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া বাজারে অনুমতি ছাড়াই আল মদিনা প্রাইভেট হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ বন্ধ করা ক্লিনিকগুলোতে আবারও কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বাগআঁচড়া ও নাভারনের ১০টি ক্লিনিকে গত মাসে লাইসেন্স নবায়নসহ স্বাস্থ্যগত নিয়ম মেনে ত্রুটি সংশোধনের নির্দেশ দিয়েছিলেন জেলা সিভিল সার্জন। তারা দু-তিনটি ক্লিনিক ছাড়া বাকি ক্লিনিকগুলোর কাজ বন্ধ রাখতে বলেছিলেন।

কিন্তু সিভিল সার্জনের নির্দেশের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে বাগআঁচড়া আঁখি টাওয়ারে অবস্থিত আল-মদিনা হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কর্তৃপক্ষ রীতিমতো ফেসবুকে ছবিসহ পোস্ট দিয়ে ঢাকঢোল পিটিয়ে অপারেশন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

তাদের নিজস্ব ফেসবুক পেজে অপারেশনের ভীতিকর ছবি পোস্ট করায় রীতিমতো হৈচৈ পড়ে গেছে সচেতন মহলে। তাদের ছবিতেই দেখা গেছে, সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন করে অস্বাস্থ্যকর ও অব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অপারেশন থিয়েটারে জনৈক রোগীকে অপারেশন করা হচ্ছে।

গত মাসে যশোরের সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীনের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল উপজেলার বাগআঁচড়া ও নাভারনের ১০টি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান পরিচালনা করেন। তাদের লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন করে নবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়। ক্লিনিকগুলোর ত্রুটি সংশোধনের পরামর্শ দেন সিভিল সার্জন। তবে তিনি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কাজ বন্ধ রাখার কথা বলেন। ১০টির মধ্যে মাত্র তিনটি প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স প্রদানের জন্য সুপারিশ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সে সময় একটিকে স্থায়ীভাবে এবং ছয়টি প্রতিষ্ঠানের প্যাথলজিক্যাল ল্যাব বন্ধ করে দেওয়া হয়। শুধু বাগআঁচড়ার জোহরা মেডিকেল সেন্টার, জনসেবা ক্লিনিক ও মুক্তি ক্লিনিকের লাইসেন্স প্রদানের সুপারিশ করা হয়। অন্যান্য ক্লিনিকে কোনো ডিপ্লোমা পাস নার্স এবং প্যাথলজি বিভাগে কোনো টেকনোলজিস্ট না থাকায় আল মদিনা ও পল্লী ক্লিনিকসহ বাকি ক্লিনিকের প্যাথলজি ও অপারেশন কার্যক্রম বন্ধ করার নির্দেশ দেন।

সিভিল সার্জনের নির্দেশ অমান্য করে সিলগালা করা ক্লিনিকগুলো আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা গলাকাটা বাণিজ্যে নেমে পড়েছে। বাগআঁচড়া আল মদিনা প্রাইভেট ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অপারেশন থিয়েটারে শুধু মেকেইন পরে রোগী অপারেশন করতে দেখা গেছে তাদেরই পোস্ট করা ছবিতে। ঘটনাটি দেখে অভিজ্ঞ চিকিৎসরা বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তারা বলেছেন, এভাবে অস্বাস্থ্যকর ও অব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অপারেশন করলে রোগীর ইনফেকশন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে রোগীর মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।

এ ব্যাপারে আল মদিনা হাসপাতালের পরিচালক কামরুজ্জামান বলেন, আমরা কাগজপত্র জমা দিয়েছি এবং অপারেশন করানোর অনুমতি আছে।

যশোর জেলা সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহিন বলেন, বন্ধ করা ক্লিনিকগুলোতে লাইসেন্স নবায়নসহ সময় দেওয়া হয়েছিল তাদের ত্রুটিগুলো সংশোধন করার জন্য কিন্তু তাদের কোনো কাজ করার অনুমতি দেওয়া হয়নি। যদি তারা নির্দেশ অমান্য করে কাজ করে থাকেন তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম