শাকিলের মোবাইলেই খুলছে দুর্ধর্ষ ডাকাতির জট

ঢাকা, সোমবার   ১৮ অক্টোবর ২০২১,   কার্তিক ৩ ১৪২৮,   ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

শাকিলের মোবাইলেই খুলছে দুর্ধর্ষ ডাকাতির জট

হাতীবান্ধা (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:৫২ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১  

ভেঙে ফেলা আলমারি, সন্দেহভাজন শাকিল ও গ্রেফতারকৃত লিংকন

ভেঙে ফেলা আলমারি, সন্দেহভাজন শাকিল ও গ্রেফতারকৃত লিংকন

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতা এলাকায় ঘটে যাওয়া দুর্ধর্ষ ডাকাতির জট খুলতে শুরু করেছে। শাকিল নামে সন্দেহভাজন এক ডাকাতের ফেলে যাওয়া মোবাইলের সূত্র ধরেই বহুল আলোচিত সাড়ে ১৮ লাখ টাকা ডাকাতির রহস্য উদঘাটন করতে শুরু করেছে পুলিশ।

সূত্র জানায়, পলাতক শাকিলই এ ডাকাতির মূল হোতা। তাকে ধরা গেলেই ডাকাতির সঙ্গে জড়িত বাকিদের খুঁজে পাওয়া সম্ভব হবে। এছাড়া কীভাবে এ ঘটনা ঘটেছে সে রহস্যের জটও খুলবে।

এর আগে, গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ওই এলাকার ওষুধ ব্যবসায়ী একরামুল হকের বাড়িতে ডাকাতি হয়। ওই সময় ডাকাতরা বাড়ির দুই নারীকে আহত করে রশি দিয়ে বেঁধে আলমারি ভেঙে সাড়ে ১৮ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। লিংকন হোসেন নামে একজন ওই ঘটনায় জড়িত বলে আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দিও দিয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ডাকাতির পর পরই সন্দেহভাজন কয়েকজনকে গ্রেফতারে অভিযান চালানো হয়। একই এলাকার মোমিনের বাড়িতে অভিযান চালালে মোমিনের ছেলে শাকিল পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়। শাকিল পালিয়ে গেলেও তার ব্যবহৃত মোবাইলটি পায় পুলিশ। ওই মোবাইলের কয়েকটি মেসেজ দেখে পুলিশ বুঝতে পারে ডাকাতির সঙ্গে শাকিল জড়িত। ওই মেসেজের সূত্র ধরেই লিংকনকে গ্রেফতার করা হয়। সে ডাকাতির ঘটনায় জড়িত বলে আদালতে স্বীকারও করেছে।

আরো জানা গেছে, ডাকাতি হওয়ার সাড়ে ১৮ লাখ টাকার মধ্যে বাকি সহযোগীদের সামান্য কিছু দিয়ে বেশিরভাগ টাকা শাকিল নিজের কাছে রেখেছে। তার ঘরের মাটির নিচ থেকে কিছু টাকা উদ্ধার হলেও বেশিরভাগ টাকা সে সঙ্গে নিয়েই পালিয়ে গেছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও হাতীবান্ধা থানার ওসি (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম বলেন, ডাকাতির ঘটনায় এরই মধ্যে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে লিংকন হোসেন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এছাড়া জিজ্ঞাসাবাদে সে অনেক তথ্য দিয়েছে। শাকিলের মোবাইলেও অনেক তথ্য পাওয়া গেছে। কীভাবে ডাকাতি হয়েছে সেই তথ্যগুলো তদন্ত করা হচ্ছে। শাকিলকে গ্রেফতার করা হলে পুরো রহস্য বের হয়ে আসবে।

লালমনিরহাটের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (বি-সার্কেল) তাপস সরকার বলেন, পুলিশ ডাকাতির ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে। আমরা দ্রুত পুরো রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হবো।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর