এক এসএমএসেই সব শেষ পূর্ণিমার, ক্ষতবিক্ষত লাশে কামড়ের দাগ

ঢাকা, সোমবার   ১৮ অক্টোবর ২০২১,   কার্তিক ৩ ১৪২৮,   ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

এক এসএমএসেই সব শেষ পূর্ণিমার, ক্ষতবিক্ষত লাশে কামড়ের দাগ

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:৩৬ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১  

ইনসেটে পার্থ মণ্ডল

ইনসেটে পার্থ মণ্ডল

পূর্ণিমা দাশ। বয়স ১৫ বছর। আর মাত্র এক বছর পরেই শেষ করতেন মাধ্যমিক। তাকে ঘিরে অনেক স্বপ্ন ছিল মা-বাবার। কিন্তু সবকিছু শেষ করে দিল একটি এসএমএস। হলেন লাশ। পূর্ণিমার সারা শরীরেই ছিল কামড়ের দাগ আর গলায় শ্বাসরোধের চিহ্ন।

ঘটনাটি সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার। শুক্রবার সকালে উপজেলার কুলিয়া ইউনিয়নের টিকেট গ্রামের পরিত্যক্ত একটি বাড়ির সবজি বাগান থেকে পূর্ণিমার বিবস্ত্র লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ধর্ষণের পর তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ স্বজনদের।

পূর্ণিমার বাড়ি কুলিয়া ইউনিয়নের টিকেট গ্রামে। তার বাবার নাম শান্তি দাস। লেখাপড়া করতেন গাভা একেএম আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণিতে। 

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন পূর্ণিমা। এরপর বাড়ি না ফেরায় বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন স্বজনরা। কিন্তু কোথাও সন্ধান মেলেনি। শুক্রবার সকালে একই গ্রামের তারক মণ্ডলের পরিত্যক্ত বাড়ির সবজি বাগানে পূর্ণিমার বিবস্ত্র লাশ পড়ে থাকতে দেখে পরিবার ও পুলিশে খবর দেয় স্থানীয়রা। পরে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

এছাড়া লাশের কিছুটা দূরে পড়ে থাকা একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে স্থানীয়রা। মোবাইলে সর্বশেষ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে কেউ পূর্ণিমাকে পরিত্যক্ত ওই বাড়ির পাশে যাওয়ার জন্য এসএমএস করেছিল।

পূর্ণিমার বাবা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তার মেয়েকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে উত্ত্যক্ত করছিল পার্শ্ববর্তী এলাকার শিবু মণ্ডলের ছেলে পার্থ মণ্ডল। বখাটে পার্থ মণ্ডলই তার মেয়েকে দেখা করার কথা বলে মোবাইলের মাধ্যমে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের পর হত্যা করেছে বলে তাদের ধারণা। ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় বখাটে পার্থ মণ্ডলের সঙ্গে একাধিক সহযোগী জড়িত থাকতে পারে বলেও সন্দেহ তাদের।

স্থানীয়রা জানায়, প্রথমে কুপ্রস্তাবে রাজি না হলেও পরবর্তীতে পরিবারের অজান্তে পূর্ণিমা দাসের সঙ্গে পার্থ মণ্ডলের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বাড়ির লোকজনের সামনে পূর্ণিমা মোবাইল ব্যবহার করতেন না। যোগাযোগের জন্য পূর্ণিমাকে গোপনে পার্থ মণ্ডলই উদ্ধার করা মোবাইলটি দিয়েছিল বলে ধারণা তাদের। বাড়ির লোকজনের নজর এড়িয়ে ওই ফোন দিয়েই পার্থ মণ্ডলের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছিল। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর পূর্ণিমাকে মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়। পরে তারা তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে ফেলে রেখে যায়।

দেবহাটা থানার ওসি (চলতি দায়িত্ব) ফরিদ আহমেদ বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর লাশ উদ্ধার করে হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের মুখমণ্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কামড়ের দাগ ও গলায় শ্বাসরোধের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তাকে হত্যায় জড়িতদের গ্রেফতারে মাঠে নেমেছে পুলিশ।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর