রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এনজিও কর্মীদের ছাঁটাই, বাড়ছে ক্ষোভ

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৯ অক্টোবর ২০২১,   কার্তিক ৪ ১৪২৮,   ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এনজিও কর্মীদের ছাঁটাই, বাড়ছে ক্ষোভ

এইচ এম ফরিদুল আলম শাহীন, কক্সবাজার ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:১৩ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১   আপডেট: ১৮:০৫ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১

রোহিঙ্গা ক্যাম্প- ফাইল ছবি

রোহিঙ্গা ক্যাম্প- ফাইল ছবি

কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ উপজেলায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো থেকে দেশি-বিদেশি এনজিওর স্থানীয় কর্মীদের ছাঁটাইয়ের হিড়িক পড়েছে। অথচ অন্যান্য জেলা থেকে এসে দিব্যি কাজ করছেন বহু কর্মী। ফলে ভুক্তভোগীদের মাঝে বাড়ছে ক্ষোভ ও ঘৃণা।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ- উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে স্থানীয় কর্মীদের গণহারে ছাঁটাই করছে রোহিঙ্গা ক্যাম্পভিত্তিক বিভিন্ন এনজিও। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ, বাজেট না থাকাসহ নানা অজুহাতে গত এক বছরে প্রায় ১২ হাজার কর্মীর চাকরি চলে গেছে।

কক্সবাজার শহরের সিকদার পাড়ার নাছির উদ্দিন বলেন, কক্সবাজার সরকারি কলেজ থেকে অনার্স-মাস্টার্স পাস করে ২০১৮ সালের শুরুর দিকে একটি আন্তর্জাতিক এনজিওতে যোগদান করি। কর্মক্ষেত্র ছিল রোহিঙ্গা ক্যাম্প। সবকিছু ভালোই চলছিল। ২০২০ সালের শেষদিকে ওই এনজিওর শীর্ষ কর্মকর্তার নির্দেশে মাঠ পর্যায়ে কাজও করেছি। তবু শেষ রক্ষা হয়নি। পাঁচ মাস আগে আমাকে চাকরি থেকে বাদ দিয়ে দেওয়া হয়। এরপর থেকে বাড়িতে বেকার বসে আছি।

শহরের পাহাড়তলীর বাসিন্দা রোজিনা আক্তার বলেন, কক্সবাজার মহিলা কলেজ থেকে ডিগ্রি পাস করে তিন বছর আগে একটি স্থানীয় এনজিওতে চাকরি পাই। আমার বেতনের টাকায় পরিবারে কিছুটা সচ্ছলতা ফেরে। তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার অজুহাতে আমাকে ছাঁটাই করা হয়। আমরা একসঙ্গে ১০ জন জরিপ এবং হেলথ সেক্টরে কাজ করতাম। এখন ছয়জনের চাকরি নেই।

কলিম উল্লাহ নামে চাকরিচ্যুত আরেকজন বলেন, গত এক বছরে ১২ হাজার স্থানীয় কর্মীকে বিভিন্ন এনজিও থেকে ছাঁটাই করা হয়েছে। তারা রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে কর্মরত ছিলেন।

এনজিও হোপ ফাউন্ডেশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর জাহিদুজ্জামান বলেন, এ ধরনের অভিযোগ সত্য নয়। যোগ্যতার ভিত্তিতে সবাইকে কর্মক্ষেত্রে রাখা হচ্ছে। আবার অনেকে বিভিন্ন স্বল্পমেয়াদী প্রকল্পে কাজ করেন। সেসব প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলে কর্মীদেরও রাখা হয় না। এক্ষেত্রে স্থানীয় ও বহিরাগতদের মধ্যে কোনো বৈষম্য নেই।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর/টিআরএইচ