এসএসসির আগেই কেউ বিয়ের পিঁড়িতে, কারো কাঁধে সংসারের হাল

ঢাকা, সোমবার   ১৮ অক্টোবর ২০২১,   কার্তিক ৩ ১৪২৮,   ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

ঝরে গেল ১৯ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী

এসএসসির আগেই কেউ বিয়ের পিঁড়িতে, কারো কাঁধে সংসারের হাল

মো. রাকিবুর রহমান, চট্টগ্রাম ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:১৮ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১  

শ্রেণিকক্ষের অভাবে মাঠেই ক্লাস করছে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার ধোপছড়ি শিলঘাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা

শ্রেণিকক্ষের অভাবে মাঠেই ক্লাস করছে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার ধোপছড়ি শিলঘাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের একটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী জেরিন (ছদ্মনাম)। করোনাকালে যখন টানা বন্ধে স্কুল, তখনই পরিবারের হঠাৎ সিদ্ধান্তে আবুধাবি প্রবাসী ফুফাতো ভাই সৌরভের (ছদ্মনাম) সঙ্গে বিয়ে হয়ে যায় তার। বিয়ের মাসখানেক পর প্রবাসে ফিরে যান সৌরভ। জেরিনের অবস্থান হয় শ্বশুরবাড়ি।

চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়ার কথা জেরিনের। কিন্তু স্বামীর একটিই কথা, আর হবে না পড়ালেখা। ফলে নবম শ্রেণিতে রেজিস্ট্রেশন করেও শেষ মুহূর্তে এসে ফরম ফিলআপ থেকে ছিটকে পড়লেন জেরিন। এভাবে নিমিষেই ভেঙে গেল জেরিনের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন। 

তবে জেরিন একা নন, দীর্ঘ দেড় বছরেরও বেশি সময় স্কুল ছুটি চলাকালে বিয়ে হয়ে গেছে নবম ও দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া অনেক মেয়ে শিক্ষার্থীর। অভাবের তাড়নায় পড়ালেখা ছেড়ে সংসারের হাল ধরেছেন অনেক ছেলে শিক্ষার্থী। পরিসংখ্যান বলছে, চট্টগ্রামে এমন শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৯ হাজারের বেশি।

চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্

চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে নবম শ্রেণিতে নিয়মিত হিসেবে রেজিস্ট্রেশন করেছিলেন এক লাখ ৫৩ হাজার ৮১১ জন শিক্ষার্থী। কিন্তু চলতি বছরের জুলাই-আগস্টে এসে তাদের মধ্যে ফরম ফিলআপ করেছেন এক লাখ ৩৪ হাজার ৭৫ জন। অর্থ্যাৎ, রেজিস্ট্রেশন ও ফরম ফিলআপের মাঝে ঝরে পড়েছেন ১৯ হাজার ৭৩৬ জন। এর মধ্যে ছেলে ৬ হাজার ৮৯৩ জন ও মেয়ে ১২ হাজার ৮৪৩ জন।

আর এ ঝরে পড়ার পেছনে করোনা ও দীর্ঘ ছুটিকে দায়ী করছেন শিক্ষা কর্মকর্তারা। তাদের মতে, করোনা পরিস্থিতিতে সংসারে অর্থের যোগান দিতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ নিয়েছেন ছেলে শিক্ষার্থীরা। আবার দীর্ঘ ছুটিতে অনেকে ঝুঁকেছেন ছোটখাটো ব্যবসায়। অন্যদিকে, মেয়ে শিক্ষার্থীদের স্থান হয়েছে বিয়ের পিঁড়িতে।

করোনা পরিস্থিতির পর ধোপছড়ি শিলঘাটা উচ্চ বিদ্যালয়ে কমেছে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি

চন্দনাইশ উপজেলার ধোপছড়ি শিলঘাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ ইসহাক বলেন, ২০২১ সালের এসএসসি পরীক্ষার জন্য নবম শ্রেণিতে আমার স্কুলে রেজিস্ট্রেশন করেছিল ২৫৮ জন শিক্ষার্থী। কিন্তু শেষ সময়ে এসে ফরম ফিলআপ করেছে মাত্র ১০০ জন। বাকি শিক্ষার্থীদের ফেরাতে নানাভাবে চেষ্টা করেও সাড়া পাইনি।

তিনি বলেন, আমাদের সমাজে বিয়ের ক্ষেত্রে প্রবাসী ছেলেদের চাহিদা বেশি। করোনাকালে অনেক প্রবাসী দেশে আসায় তাদের সঙ্গে অনেক ছাত্রীর বিয়ে হয়ে গেছে। সাধারণত বিয়ের পর ঘরের বউদের বেশিরভাগই আর পড়ালেখা চালানোর অনুমতি পায় না। ফলে তারা চাইলেও আর পড়ালেখা চালিয়ে যেতে পারে না। বিষয়টি তাদের জন্য কষ্টের। আমাদের জন্যও কষ্টের।

চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের প্রধান স্কুল পরিদর্শক ড. বিপ্লব গাঙ্গুলী বলেন, মাধ্যমিকে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া ঠেকানো আসলে খুব কঠিন। এ ঝরে পড়া বন্ধ করতে নানা সুযোগ সুবিধা দিচ্ছে সরকার। তারপরও যেন এটি বন্ধ হচ্ছে না।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর