‘জিনের বাদশাকে’ ধরে প্রকাশ্যে আনলো পুলিশ

ঢাকা, শনিবার   ১৬ অক্টোবর ২০২১,   কার্তিক ১ ১৪২৮,   ০৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

‘জিনের বাদশাকে’ ধরে প্রকাশ্যে আনলো পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২৩:০৮ ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১  

কথিব জিনের বাদশাসহ গ্রেফতার তিনজন

কথিব জিনের বাদশাসহ গ্রেফতার তিনজন

প্রতারণার মাধ্যমে প্রায় ২৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে টেকনাফ থেকে মো. আব্দুল মান্নান (৫৮) নামের এক কথিত জিনের বাদশার সহযোগীসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার রাতে এ তথ্য  জানান কোতোয়ালী থানার ওসি মো. নেজাম উদ্দিন।

গ্রেফতাররা হলেন- মো. আব্দুল মান্নান (৫৮), মো. জোবাইর হোসাইন রিজভী (২৩) ও আবু তৈয়ব (৫৮)।

পুলিশ জানায়, সৌদি আরবে ২২ বছর হোটেল ব্যবসা করেছেন মো. আবুল হাছান সহিদ। মক্কা শরিফের পাশে পাঁচটি আবাসিক হোটেল পরিচালনা করতেন তিনি। হোটেলগুলো নিয়ম মোতাবেক সৌদি নাগরিক আদনান সাঈদ আল সাদীর নামেই ছিল। তাই সাদীর নামের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে আবুল হাছানের ব্যবসার সব টাকা জমা রাখতে হতো। সৌদি নাগরিক আদনান সাঈদ আল সাদী ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে মো. আবুল হাছান সহিদকে ছুটি কাটানোর জন্য বাংলাদেশে পাঠান। ছুটি শেষে বাংলাদেশ থেকে পুনরায় সৌদি আরবে ফেরত যেতে চাইলে হাছান তার ভিসা ব্লক পান। তখন তিনি প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারেন। সেই প্রতারণা থেকে আশ্রয় পেতে আরেক প্রতারণায় পড়ে যান আবুল হাছান।  

২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে নগরের হাজারী গলির স্বর্ণের দোকানে মো. আবুল হাছান স্ত্রীর স্বর্ণ বিক্রি করতে গেলে স্বর্ণের দোকানের কর্মচারী তাকে কথিত জিনের বাদশার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। জিনের বাদশা নিজেকে একজন পীর ও জিন সাধন বলে জানান। ধর্মীয় আধ্যাত্মিক শক্তি এবং জিনের মাধ্যমে সৌদি নাগরিক সাদীকে বাংলাদেশে এনে দিতে পারবেন এবং বাংলাদেশে এসে তার সম্পূর্ণ টাকা ফেরত দিয়ে যাবেন বলে জানান। এ সব কথা শুনার পর উক্ত টাকা এবং সৌদি নাগরিককে বাংলাদেশে ফেরত আনতে হলে শুরুতে দুই লাখ টাকা এবং তিনি ভরি স্বর্ণ ও আমেরিকান এক হাজার টাকার ডলার দিতে হবে বলে জানান। পরে কথিত জিনের বাদশা আব্দুল মান্নান প্রবাসীকে নগরের লালদীঘি শাহি জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে নিয়ে পবিত্র কোরআন শরিফ ছুঁইয়ে শপথ করায়। তিনি উক্ত বিষয়টি কারো কাছে বললে তার মুখ দিয়ে রক্ত বের হবে এবং তার পালিত জিন তাকে গলাটিপে হত্যা করবে বলে ভয় দেখান। এমনকি তার সন্তানদের ওপর বড় ধরনের বিপদ আসবে বলে জানান। পরবর্তীতে দফায় দফায় ২৮ লাখ ৩৬ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার এসআই মো. মেহেদী হাসান বলেন, মামলা হওয়ার পর হাজারী গলি এলাকা থেকে আবু তৈয়বকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যে কক্সবাজারের টেকনাফের হোয়াক্যাং এলাকায় অভিযান চালিয়ে বুধবার রাতে মো. আব্দুল মান্নান ও মো. জোবাইর হোসাইন রিজভীকে গ্রেফতার করা হয়।

তিনি বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন মো. আব্দুল মান্নান। তিনি নিজেকে জিনের বাদশা হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি ও কৌশল অবলম্বনের মাধ্যমে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। আবু তৈয়বের কাছ থেকে নেয়া তথ্যমতে মো. আব্দুল মান্নান ভুক্তভোগীর কাছে তাদের সমস্যার কথা উপস্থাপন করলে ভুক্তভোগীরা বিশ্বাস করতে শুরু করেন। একপর্যায়ে মো. আব্দুল মান্নান আসামির কথা বিশ্বাস করে ভুক্তভোগীরা তাদের টাকা-পয়সা, স্বর্ণালংকার দিয়ে তাদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনা সমাধানের চেষ্টা করে এবং জিন তাড়ানোর চেষ্টা করে। মান্নান ভুক্তভোগীদের সমস্যাগুলো তাদের কাছে উপস্থাপন করে জিন চালানের কথা বলে তাদের কাছে মোটা অংকের টাকা দাবি করে। গ্রেফতারকৃতরা একটি সংঘবদ্ধ চক্র।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ