দাদির কোলে গিয়েই কান্না থামল যমজ শিশু আরাফ-আয়ানের

ঢাকা, সোমবার   ২৫ অক্টোবর ২০২১,   কার্তিক ১০ ১৪২৮,   ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

দাদির কোলে গিয়েই কান্না থামল যমজ শিশু আরাফ-আয়ানের

আতিকুর রহমান, ঝালকাঠি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:১৯ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১   আপডেট: ১৬:৪১ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ঝালকাঠির পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সামনে পুলিশের স্ত্রীর রেখে যাওয়া যমজ শিশুর আশ্রয় এখন দাদির কাছে। রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঝালকাঠি সদর থানা থেকে দাদি এসে তার নিজ জিম্মায় নেয়ার পরে কান্না থামে শিশু দুটির।

কাঠালিয়া থানায় কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত পুলিশ সদস্য ইমরান স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার পরে বাচ্চাদের খরচ ও ভরণ পোষণ বাবদ মাসিক ৩ হাজার টাকা ধার্য থাকলেও তা নিয়মিত না দেওয়া এবং চিকিৎসা খরচ চালাতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এতে নিরুপায় হয়ে প্রতিবাদ জানাতে স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার রোববার বিকেল ৩টার দিকে এসপি অফিসের সামনে যমজ শিশুদের রেখে যান। পরে তাদেরকে ঝালকাঠি সদর থানার নারী ও শিশু হেল্প ডেস্কে নিয়ে রাখা হলে নারী কনস্টেবল তাদের সামলাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন। শিশুদের কান্নায় থানার পরিবেশ হৃদয় বিদারক হয়ে ওঠে।

সদর থানা থেকে ইমরানকে বিষয়টি জানানো হলে তার মা রাত সাড়ে ১০টার দিকে শিশু দুটিকে নিয়ে যান। দাদির কাছে যাওয়ার পরপরই কান্না থামে তাদের।

ঝালকাঠি সদর থানার ওসি খলিলুর রহমান বলেন, যমজ দুই শিশুকে রাতেই তাদের দাদির জিম্মায় দেয়া হয়েছে।

ঝালকাঠিতে আরাফ ও আয়ান নামের ১৬ মাসের যমজ দুই ছেলে সন্তানকে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে রেখে প্রতিবাদ জানান এক পুলিশ সদস্যের স্ত্রী। শিশু দুটিকে ঝালকাঠি থানার নারী ও শিশু ডেস্কে নিয়ে রাখা হয়। দুই শিশুকে নিয়ে বিপাকে পড়েছিল থানা পুলিশ। স্বামী ভরণপোষণ ও চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন না করায় রোববার বিকেলে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে রেখে চলে যান শিশু দুটির মা সুমাইয়া আক্তার।   

থানা পুলিশ ও শিশুদের মা সূত্রে জানা যায়, শিশু দুটির বাবা ইমরান হোসেন কাঁঠালিয়া থানায় কনস্টেবল পদে কর্মরত আছেন। তিনি বর্তমানে এক মাসের প্রশিক্ষণের জন্য জামালপুরে অবস্থান করছেন। তার বাড়ি বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার মালুহার গ্রামে। ২০১৯ সালের মে মাসে শিশু দুটির মা ঝালকাঠি সদরের খাওক্ষির গ্রামের সুমাইয়া আক্তারের সঙ্গে বিয়ে হয় কনস্টেবল ইমরানের। দাম্পত্য কলহের জেরে এ বছরের মার্চ মাসে স্ত্রীকে তালাক নোটিশ পাঠান ইমরান। তালাক নোটিশ পেয়ে স্বামীর বিরুদ্ধে যৌতুক মামলা করে সুমাইয়া।

শিশু দুটির মা সুমাইয়ার দাবি, তালাক নোটিশ পাঠানোর আরো আগ থেকে তার এবং সন্তানদের কোনো ভরণপোষণ দিচ্ছিলেন না ইমরান।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে চায়ের দোকানি মাহফূজ মিয়া জানান, বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে একজন নারী তার দুই শিশু সন্তানকে এসপি অফিসের চেকপোস্টের দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের সামনে রেখে যান। যাওয়ার সময় তিনি বলে যান, তোমাদের সন্তান তোমাদের কাছেই থাক। সন্ধ্যায় ঝালকাঠি সদর থানায় গিয়ে দেখা যায়, শিশু দুটির কান্নায় থানার পরিবেশ ভারি হয়ে উঠেছে। নারী ও শিশু হেল্প ডেস্কের এক নারী কনস্টেবল শিশু দুটিকে সামলাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন। এ সময় শিশু দুটির শরীরে জ্বর থাকায় তাপমাত্রা ছিল অনেক বেশি।

সুমাইয়া আক্তার মুঠোফোনে বলেন, গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হওয়ায় শিশু আরাফ ও আয়ানকে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রোববার সকালে চিকিৎসকরা শিশু দুটির বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে বলেন। এতে প্রায় প্রায় ৬ হাজার টাকার প্রয়োজন ছিল। বিষয়টি কনস্টেবল ইমরানকে জানানো হলেও তিনি টাকা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করেন। তাই বাধ্য হয়ে শিশু দুটিকে নিয়ে পুলিশ সুপার ফাতিহা ইয়াসমিনের সাক্ষাতের জন্য যাই। কিন্তু প্রধান গেটের সামনে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ইমরান মিয়া ও মো. সুমন নামে দুই পুলিশ সদস্য ভেতরে প্রবেশ করতে দেননি। তাই বাধ্য হয়ে শিশু সন্তানদের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে রেখে চলে এসেছি। ওদের লালন পালন করতে আমার কোনো আপত্তি নেই কিন্তু খরচ চালানোর মতো পরিস্থিতি আমার নেই।

কনস্টেবল ইমরান মোবাইলে জানান, প্রতি মাসে শিশু দুটির ভরণপোষণের জন্য তিন হাজার টাকা সুমাইয়ার ব্যাংক হিসাবে পাঠিয়ে দিয়েছি। আমি আমার সাধ্য অনুযায়ী তাদের খোঁজ খবর নিই। কিন্তু মা হয়ে সে কীভাবে সন্তানদের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে ফেলে গেল?

ঝালকাঠি সদর থানার ওসি মো. খলিলুর রহমান বলেন, আমরা বিষয়টি দুই পরিবারের সঙ্গে কথা বলে মিটিয়ে ফেলার চেষ্টা করছি। শিশুদের দাদা-দাদিকে খবর দিলে রাতে তারা এসে শিশুদের নিয়ে যায়। 

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম/জেএইচ