যমজ শিশুদের এসপি অফিসের সামনে ফেলে গেলেন মা

ঢাকা, সোমবার   ২৫ অক্টোবর ২০২১,   কার্তিক ১০ ১৪২৮,   ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

যমজ শিশুদের এসপি অফিসের সামনে ফেলে গেলেন মা

ঝালকাঠি প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০১:২২ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১  

যমজ শিশুদের এসপি অফিসের সামনে ফেলে গেলেন মা

যমজ শিশুদের এসপি অফিসের সামনে ফেলে গেলেন মা

ঝালকাঠিতে সাবেক স্বামীর বিরুদ্ধে ভরণপোষণ ও চিকিৎসা খরচ না দেওয়ার অভিযোগ এনে আয়ান ও আরাফ নামের ১৬ মাসের দুই যমজ ছেলেকে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে ফেলে গেলেন এক পুলিশ সদস্যের স্ত্রী। রোববার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে শিশু দুটিকে রেখে চলে যান মা সুমাইয়া আক্তার।

থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শিশু দুটির বাবা ইমরান হোসেন কাঁঠালিয়া থানার কনস্টেবল। বর্তমানে তিনি এক মাসের প্রশিক্ষণের জন্য জামালপুরে অবস্থান করছেন। তার বাড়ি বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার মালুহার গ্রামে। ২০১৯ সালের মে মাসে ঝালকাঠি সদরের খাওক্ষির গ্রামের সুমাইয়া আক্তারের সঙ্গে বিয়ে হয় কনস্টেবল ইমরানের। দাম্পত্য কলহের জেরে এ বছরের মার্চে স্ত্রীকে তালাক নোটিশ পাঠান ইমরান। তালাক নোটিশ পেয়ে স্বামীর বিরুদ্ধে যৌতুক মামলা করেন সুমাইয়া।

শিশু দুটির মা সুমাইয়ার দাবি তালাক নোটিশ পাঠানোর আরো আগে থেকে তার এবং সন্তানদের কোন ভরণপোষণ দিচ্ছে না ইমরান।

সুমাইয়া আক্তার মোবাইল ফোনে জানান, গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হয়ে শিশু আয়ান ও আরাফ ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে ভর্তি ছিল। রোববার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে চিকিৎসকরা শিশু দুটির বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে বলেন। এতে প্রায় ৬ হাজার টাকার প্রয়োজন ছিল। বিষয়টি তিনি তার স্বামী কনস্টেবল ইমরানকে জানান। কিন্তু ইমরান টাকা দিতে অপরগতা প্রকাশ করেন।

তিনি আরো জানান, বাধ্য হয়ে শিশু দুটিকে নিয়ে পুলিশ সুপার ফাতিহা ইয়াসমিনের সাক্ষাতের জন্য যাই। কিন্তু প্রধান ফটকের সামনে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ইমরান মিয়া ও মো. সুমন নামে দুই পুলিশ সদস্য তাকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়নি। তাই বাধ্য হয়ে শিশু সন্তানদের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে রেখে চলে এসেছি। ওদের লালন পালন করতে আমার কোন আপত্তি নেই। কিন্তু খরচ চালাবো কি করে।

কনস্টেবল ইমরান মোবাইল ফোনে জানান, প্রতি মাসে শিশু দুটির ভরণপোষণের জন্য আমি ৩ হাজার টাকা সুমাইয়ার ব্যাংক হিসেবে পাঠাই। আমি আমার সাধ্য অনুযায়ী তাদের খোঁজখবর নিই। কিন্তু মা হয়ে সে কীভাবে সন্তানদের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে ফেলে গেল?

ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. খলিলুর রহমান বলেন, শিশুদের দাদা-দাদিকে খবর দেয়া হলে তারা এসে রাতে শিশু দুটিকে নিয়ে গেছে। আমরা দুই পরিবারের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি মিটিয়ে ফেলার চেষ্টা করছি।

ডেইলি বাংলাদেশ/SA