পুলিশ সেজে ছিনতাই করে ওরা

ঢাকা, রোববার   ২৪ অক্টোবর ২০২১,   কার্তিক ৯ ১৪২৮,   ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

পুলিশ সেজে ছিনতাই করে ওরা

ফরিদপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:৫৮ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১  

আটককৃত ছিনতাইকারীরা

আটককৃত ছিনতাইকারীরা

গাজীপুরের কাশেমপুর কারাগার থেকে পরিচয়। বের হয়ে সংঘবদ্ধভাবে মোটরসাইকেল ছিনতাই করতো ওরা। সঙ্গে টাকা ও মালামাল। টার্গেট দামি ও নতুন মোটর বাইকের দিকে যেটায় চালক একাই থাকতো এবং গন্তব্য থাকতো দূরবর্তী কোথাও। দলের সবাই ঢাকার সাভারের আশুলিয়া এলাকায় গাড়ির চালাতো। সামনের গাড়িতে পুলিশ পরিচয়ে ছিনতাই করার সময় পেছনে থাকতো আরো একটি প্রাইভেট কার। সঙ্গে থাকতো ওয়াকিটকি, হ্যান্ডকাপ ও পুলিশের বিশেষ পোশাক। কাজ শেষে প্রাইভেট কারে করে পালাতো ওরা। এমন একটি ঘটনার অভিযোগ পেয়ে সংঘবদ্ধ এ ছিনতাইকারী চক্রের পাঁচ সদস্যকে অবশেষে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত একটি মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকারসহ হ্যান্ডকাপ, ওয়াকিটকি, পুলিশের বিশেষ পোশাক ও লাঠি উদ্ধার হয়েছে।

রোববার দুপুরে ফরিদপুরের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও তদন্ত) জামাল পাশা। 
এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সুমন সরকার ও কোতোয়ালি থানার ওসি মো. আব্দুল জলিল উপস্থিত ছিলেন। 

আটককৃতরা হলেন, মধুখালীর বাগাটের জাকির হোসেন বিশ্বাসের ছেলে জুয়েল রানা, তার ভাই  আল আমীন, আলফাডাঙ্গার কামারগ্রামের রবিউল আলমের ছেলে বাবুল আক্তার, বালিয়াকান্দির আড়পাড়া গ্রামের বাল্লুক মৃধার ছেলে অশিক মৃধা ও আশুলিয়ার রফিকুল ইসলামের ছেলে ইমরান হোসেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে জামাল পাশা জানান, মুন্নু শেখ নামে একজন এনজিও কর্মী গত ৯ সেপ্টেম্বর মোটরসাইকেলে ঢাকার বাড্ডা থেকে বাড়ি ফেরার পথে রাত ৯টার দিকে পাঁচ ছিনতাইকারী কানাইপুরের করিমপুর হাইওয়ে ব্রিজের উপর থেকে তাকে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে চোখ বেঁধে ফেলে। তারপর প্রথমে তার সঙ্গে থাকা বেতনের ৩৫ হাজার টাকা ও বিকাশ অ্যাকাউন্টে থাকা সাড়ে ১৯ হাজার টাকাসহ তার মোটর সাইকেলটি ছিনিয়ে তাকে মাইক্রোবাস থেকে নামিয়ে পালিয়ে যায়।

এ ব্যাপারে ঘটনার শিকার মুন্নু শেখ বলেন, ছিনতাইকারীরা প্রথমে তার মোটরসাইকেলের চাবি কেড়ে নিতে গেলে তার সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়। পরে তাকে পাজাকোলা করে গাড়িতে তুলে চোখ বেঁধে ফেলে। তার সঙ্গে থাকা টাকা পয়সা কেড়ে নেয়ার পর তাকে বাড়ি থেকে ফোন করে ২ লাখ টাকা পাঠানোর জন্য বলতে বলে। এরপর তিনি বাড়িতে ফোন করে যতো টাকা পারে পাঠাতে বলেন। তিনি বলেন, টাকা পয়সা নেয়ার পর ছিনতাইকারীরা চোখ বেঁধে তাকে গাড়ি থেকে ফেলে দিতে চাইলে তিনি তাদের চোখ খুলে নামিয়ে দেয়ার অনুরোধ করেন।

উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, এ চক্রের মূল মাস্টার মাইন্ড হচ্ছে জুয়েল রানা। তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন জেলায় ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ১৬টি মামলা রয়েছে। একটি মামলায় সাড়ে চার বছর সাজা খেটে কোরবানির ঈদের আগে সে জেল থেকে বেরে হয়। তার ভাই আল আমীন ছিনতাইকৃত টাকার ব্যবস্থাপনা করতো। চক্রের কেউ গ্রেফতার হলে তাকে টাকা পয়সা খরচ করে বের করার দায়িত্বও ছিল আল আমীনের উপর। এ চক্রের অপর সদস্য বাবুল আক্তারের বিরুদ্ধে সাতটি মামলা রয়েছে। সিরাজগঞ্জের বঙ্গবন্ধু সেতুতে একটি ডাকাতির ঘটনায় গ্রেফতার হয়ে জুয়েল ও বাবুল জেলে যায়। সেখান থেকে তাদের সঙ্গে অন্যদের পরিচয় হলে গত বছর জেলে বসেই তারা সংঘবদ্ধ এ দল গঠন করে। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ