তিনজনই কোতোয়ালি থানার ওসি!

ঢাকা, রোববার   ১৭ অক্টোবর ২০২১,   কার্তিক ৩ ১৪২৮,   ০৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

তিনজনই কোতোয়ালি থানার ওসি!

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:৫৬ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১  

কোতোয়ালি থানার ভুয়া তিন ওসি

কোতোয়ালি থানার ভুয়া তিন ওসি

চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি থানার ওসি পরিচয়ে দেন ব্যবসায়ীকে ফোন। কারখানার কর ও ব্যক্তিগত আয়করে অসঙ্গতি রয়েছে জানিয়ে গ্রেফতারের ভয় দেখিয়ে দাবি করেন দুই লাখ টাকা। অন্যথায় দেন ব্যবসা করতে না দেয়ার হুমকি।

হুমকি অব্যাহত থাকায় একপর্যায়ে নগদ নম্বরে দেড় হাজার টাকা পাঠান ওই ব্যবসায়ী। কিন্তু এতে সন্তুষ্ট না হয়ে বারবার ফোন ও হুমকি দিতে থাকলে বিষয়টি থানা পুলিশকে জানান তিনি।

অভিযোগ পেয়ে সেই ভুয়া ওসির খোঁজে মাঠে নামে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। এরপরই অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।  

রোববার সন্ধ্যায় এ তথ্য নিশ্চিত করেন কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ নেজাম উদ্দীন। এর আগে, শনিবার রাতে নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। 

গ্রেফতাররা হলেন- আজিম হোসেন ইমন, আরিফ হোসেন ও মো. তারেক।

জানা গেছে, কোতোয়ালি থানার ওসি পরিচয়ে গত ১৫ ও ১৬ সেপ্টেম্বর কয়েক দফা আসাদগঞ্জ এলাকার ব্যবসায়ী লুৎফর রহমানকে ফোন করেন আজিম। লুৎফরের কারখানার কর ও ব্যক্তিগত আয়করে সমস্যা রয়েছে জানিয়ে গ্রেফতারের ভয় দেখিয়ে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন তিনি। চাঁদা না দিলে ব্যবসা করতে দেবেন না বলে হুমকি দেয়ায় একপর্যায়ে আজিমের দেয়া নগদ নম্বরে দেড় হাজার টাকা পাঠান লুৎফর। কিন্তু এতে সন্তুষ্ট না হয়ে বিভিন্ন নম্বর থেকে ফোন দিয়ে হুমকি অব্যাহত রাখেন আজিম। শেষে উপায় না পেয়ে বিষয়টি পুলিশকে জানান লুৎফর।

ওসি মোহাম্মদ নেজাম উদ্দীন বলেন, অভিযোগ পেয়ে প্রথমেই বাকলিয়া থানার ময়দার মিল এলাকা থেকে আজিমকে গ্রেফতার করা হয়। আজিমের পাঠানো নগদ নম্বরটি ছিল আরিফের। একই এলাকা থেকে আরিফকেও গ্রেফতার করা হয়। এরপর আকবরশাহ থানার শাপলা আবাসিক এলাকা থেকে তারেককে গ্রেফতার করা হয়। তারেকের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করেও লুৎফরকে ফোন করেছিলেন আজিম।

ওসি আরো বলেন, গ্রেফতার তিনজনই সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ চক্রের সদস্য। তারা কখনো রিকশা চালান, কখনো দিনমজুরের কাজ করেন। সেবাপ্রার্থী সেজে বিভিন্ন থানায় যান তারা। সেখান থেকে ওসি, ওসি (তদন্ত) ও বিভিন্ন কর্মকর্তাদের নাম এবং সংঘটিত বিভিন্ন ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করেন। পরে সেগুলো ব্যবহার করেই সাধারণ মানুষকে ফোন করে হয়রানি করেন। 

এর আগে আকবরশাহ থানা ও মিরসরাই থানার ওসির নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি করেছিলেন তারা। মিরসরাই থানায় এ সংক্রান্ত মামলাও হয়। ব্যবসায়ী লুৎফরের করা মামলায় রোববার তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে