রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিনামূল্যে ত্রাণের চোরাই ব্যবসা জমজমাট

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৬ অক্টোবর ২০২১,   কার্তিক ১২ ১৪২৮,   ১৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিনামূল্যে ত্রাণের চোরাই ব্যবসা জমজমাট

কক্সবাজার প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:৪৯ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১   আপডেট: ১৯:১৬ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১

বিনামূল্যে বিতরণকৃত বিপুল পরিমাণ ত্রাণ সামগ্রী উদ্ধার

বিনামূল্যে বিতরণকৃত বিপুল পরিমাণ ত্রাণ সামগ্রী উদ্ধার

কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য বিনামূল্যে প্রদান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি প্রসাধনী, তৈজসপত্র ও বিনোদন সামগ্রী প্রদান করা হচ্ছে অবাধে। এসব সামগ্রী ব্যবহারে তারা তেমন অভ্যস্তও নয়। তাই ক্যাম্পকেন্দ্রিক রোহিঙ্গা ও স্থানীয় মুনাফালোভীরা মিলে গড়ে তুলেছে এসব পণ্যের ক্রয় বিক্রয় সিন্ডিকেট।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ২০১৭ সালে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসার পর কোনো পরিবারের ৮-১০ জন সদস্য ছিল। সেভাবেই তারা নিবন্ধিত হয়। পরবর্তীতে ব্লক ও ক্যাম্পে স্থানান্তরিত হয়ে অসংখ্য রোহিঙ্গা একাধিক রেশন কার্ডের নিবন্ধন করে। আবার অনেকে ভারত, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে অবৈধভাবে চলে যায়।

কিন্তু তাদের নামে নিয়মিত রেশন ও অন্যান্য ত্রাণ সামগ্রী তোলা অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে চাল, ডাল, তেল, ডিম, মাছ, মুরগি ও শুকনো মাছ প্রভৃতি নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য ক্রয় বিক্রয়ে গড়ে উঠেছে একাধিক সিন্ডিকেট। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির অর্থায়নে প্রায় ৮ লাখ ৬০ হাজার রোহিঙ্গার নিয়মিত মালামাল বিতরণ করা হয়।

আর এসব পণ্য বিতরণে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে একাধিক ভেন্ডর। কার্যত এসব ভেন্ডরদের যোগসাজশে ত্রাণের মালামাল ক্রয় বিক্রয়ের সিন্ডিকেটগুলোর জন্ম বলে সূত্র জানায়।

সূত্র মতে, উচ্চ মূল্যে এসব প্রয়োজনীয় সামগ্রী ভেন্ডররা বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির হয়ে রোহিঙ্গাদের বিতরণ করে থাকে। উদ্বৃত্ত বা অতিরিক্ত পণ্য সামগ্রী কম মূল্যে তারাই আবার রোহিঙ্গাদের মাধ্যমে ক্রয় করে গুদামজাত করে ফের রোহিঙ্গাদের বিতরণ করে। এতে প্রতিটি ক্যাম্পভিত্তিক রোহিঙ্গাদের চিহ্নিত একটি সংগঠনের বিরুদ্ধে সিন্ডিকেটগুলো নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ উঠেছে।

প্রায় প্রতিদিন নিত্য প্রয়োজনীয় ও প্রসাধনী পণ্য সামগ্রী উদ্ধার করছে পুলিশ। উদ্ধারকৃত পণ্যের মধ্যে চাল, ডাল, তেল, চিনি,  ত্রিপল, সাবানসহ অন্যান্য পণ্য রয়েছে।

শুক্রবার বিশেষ অভিযানে ৫ নম্বর ক্যাম্পে বিনামূল্যে বিতরণকৃত বিপুল পরিমাণ ত্রাণ সামগ্রী ও এগুলো পরিবহনে নিয়োজিত ২টি সিএনজি আটক করেছে পুলিশ। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তায় নিয়োজিত ১৪ এপিবিএন কমান্ডার এসপি মো. নাইমুল হক অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্পের ইরানি পাহাড় এপিবিএন ক্যাম্পের সদস্যরা বিনামূল্যে প্রদত্ত মানবিক সহায়তা সামগ্রী চোরাই পথে ক্রয় বিক্রয় করার সময় ৫ নম্বর ক্যাম্প থেকে বিপুল পরিমাণ ত্রাণ সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। এসব ত্রাণ সামগ্রী পরিবহন কাজে নিয়োজিত ২টি সিএনজি অটোরিকশাও উদ্ধার করা হয়।

এপিবিএন এর প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী আটক মালামালের মধ্যে রয়েছে বালতি ২২টি, বেডশিট ১০০টি, ত্রিপল ৩টি, লাইফবয় সাবান ১৮৬৮টি, হুইল সাবান ৩৮১টি, একটিভ সাবান ৬৯৮টি, সূর্য সাবান ৬৯৪টি, স্যাভলন বোতল ৪১৮টি, কাপড়ের নেপকিন ৮৬টি। এছাড়া এপিবিএন অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন দফায় ৩ শতাধিক বস্তা চাল, পাঁচ শতাধিক লিটার ভোজ্য তেলের বোতল ও চিনি উদ্ধার করে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৫ এর সিআইসি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মুশফিকুর রহিম উদ্ধারকৃত মালামালগুলো বাজেয়াপ্ত করেন বলে জানা গেছে। আটক সিএনজি অটোরিকশা ২টি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শাহপরী হাইওয়ে পুলিশের কাছে জমা করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

১৪ এপিবিএন এসপি বলেন, অবৈধভাবে ত্রাণের মালামাল কিনে তা ক্রয়-বিক্রয় করছিল একটি চক্র। এমন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। ওই সময় চোরাকারবারিরা পালিয়ে যায়। 

রোহিঙ্গা ও স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে তাদের চাহিদার অতিরিক্ত ত্রাণ সামগ্রী অপেক্ষাকৃত কম দামে সংগ্রহ করে তা ক্যাম্পের বাইরে অবৈধভাবে গড়ে উঠা সিন্ডিকেটের গুদামগুলোতে সরবরাহ করে আসছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে/এইচএন