পিরোজপুরের ২২ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বেহাল দশা
পিরোজপুরের ২২টিরও বেশি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের অবস্থা বেহাল দশা। গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের গর্ভবতী মায়েদের নিরাপদ সন্তান প্রসব, শিশুদের টিকাদান ও ভিটামিন ক্যাপসুলসহ মানুষকে বিনামূল্যে সরকারি বিভিন্ন চিকিৎসা সেবা পৌছে দিতে তৈরি হয়েছে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র।
তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অযত্ন আর অবহেলা এখানকার স্থাপনাগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হওয়ায় বন্ধ হতে বসেছে স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলো। ফলে সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন জেলার হাজারো মানুষ। আর সেবার মান বাড়াতে সমস্যা দ্রুত সমাধান হবে বলে জানান জেলা পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের উপ-পরিচালক রাম কৃষ্ণ দাস।
রোগীদের অভিযোগ, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে আসা রোগীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও দেখা পাচ্ছে না দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের। বিভিন্ন ইউনিয়নের স্বাস্থ্য কেন্দ্রে দেখা যায় একই চিত্র।

জেলা পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের তথ্যমতে, জেলার ৭টি উপজেলায় উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আছেন মাত্র একজন। বাকি ৬টি রয়েছে শূন্য। আর ৫২টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র দেখাশোনা করার জন্য উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার রয়েছেন ৩০ জন। ফলে ইউনিয়ন পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার এ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হচ্ছে না। ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র জরাজীর্ণ, পানি ও বিদ্যুৎ সমস্যার কথা জানাচ্ছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

জেতদাসকাঠী কলেজের শিক্ষক আলী আকবর জানান, সরকারি অফিস টাইম সকাল ৯টা-দুপুর ৩টা পর্যন্ত হলেও তাদের আসার নাম নেই ১২টা বা ১ টায়ও। রোগীরা দুই-তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করে চিকিৎসা নিতে চলে যায় শহরে। তবে চিকিৎসকের অনুপস্থিতিতে স্বাস্থ্য কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ও ওয়ার্ডবয়রা চিকিৎসা এবং ওষুধ দেয়ার কাজ করতে দেখা যায়।

একদিকে যেমন চিকিৎসক ও লোকবল সংকট তেমনি অবহেলিত এ জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের সড়ক পথ। তাই চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে গ্রামের দরিদ্র মানুষ।
পাঁচ বছরের শিশু ফাহিমকে নিয়ে কলাখালী ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আসেন মা হালিমা বেগম। তিনি জানান, বাচ্চার কাশি ৩ দিন ধরে তাই সকাল ১০ টার পরে এসেছেন ইউনিয়ন সরকারি ডাক্তার দেখাতে। কিন্তু ১১ টা বাজলেও ডাক্তারের দেখা নেই। এসব সংকট নিয়েই চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন মেডিকেল অফিসাররা।
তবে অবকাঠামো ও অন্যান্য নানাবিধ অসুবিধার কারণে নিজেদেরে সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করছেন জেলা পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের উপ-পরিচালক রাম কৃষ্ণ দাস ।
তিনি জানান, এসব এলাকার দরিদ্র মানুষ মূলত: সরকারি স্বাস্থ্য কেন্দ্রের বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধপত্রের ওপর নির্ভরশীল থাকে। এদিকে শুধু আশ্বাস নয়, আধুনিক চিকিৎসা সেবা পেতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি এই অঞ্চলের মানুষের।