‘ঘর বানবাম কিদেয়্যা’

ঢাকা, সোমবার   ১৮ অক্টোবর ২০২১,   কার্তিক ৩ ১৪২৮,   ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

‘ঘর বানবাম কিদেয়্যা’

আবু হানিফ সরকার নান্দাইল (ময়মনসিংহ)  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:১৩ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১   আপডেট: ১৬:১৫ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১

হতদরিদ্র বিধবা মনোয়ারা খাতুন থাকেন একটা ভাঙাচুরা ঘরে।

হতদরিদ্র বিধবা মনোয়ারা খাতুন থাকেন একটা ভাঙাচুরা ঘরে।

হতদরিদ্র বিধবা মনোয়ারা খাতুন থাকেন একটা ভাঙাচুরা ঘরে। দিনের বেলা রোদের আলো, রাতের বেলা চাঁদের আলো, বাদলা দিনে বৃষ্টির পানি সবই প্রবেশ করে তার ঘরে। 

মনোয়ারার বাড়ি ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায়। তিনি উপজেলার চন্ডিপাশা ইউপির পশ্চিম কূল ধূরুয়া গ্রামের মৃত আ. জলিলের স্ত্রী। চার যুগ আগে বিয়ে হয়েছিল পার্শ্ববর্তী ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সান্দিকোনা গ্রামে। 

স্বামীর অসুস্থতা সন্তানের বরণ পোষণ সব মিলিয়ে চরম অভাব অনটনের তাগিদে একদশক আগে স্বামীর একমাত্র সম্বল ভিটেবাড়ি বিক্রি করে চলে আসেন বাবার বাড়ি ধূরুয়া গ্রামে।

মনোয়ারার কোনো ভাই নেই। তার তিন বোন বিয়ে হয়েছে বিভিন্ন এলাকায়, সবাই মোটামোটি সুখী। একমাত্র মনোয়ারার এমন দৈন্যদশা। অন্য বোনেরা স্বামীর বাড়িতে থাকেন। মনোয়ারা স্বামী সন্তানদের নিয়ে ঠাঁই নিয়েছেন বাবার নামে রেকর্ড থাকা ছয় শতক জমিতে। 

হতদরিদ্র বিধবা মনোয়ারা খাতুন থাকেন একটা ভাঙা ঘরে।

মনোয়ারার দুই ছেলে, এক মেয়ে। মেয়ে বিয়ে দিয়েছেন। ছোট ছেলে বিয়ে করে সংসার পেতেছেন শ্বশুর বাড়িতে। বড় ছেলে খুব সহজ সরল টাইপের বিয়ে করে না। মন চাইলে দিনমজুরের কাজ করে, মন না চাইলে করে না। থাকে মায়ের সঙ্গে। 

স্বামী মারা গেছে প্রায় ছ’বছর আগে। স্বামী থাকা অবস্থায় মনোয়ারা ভিক্ষা করে সংসার চালানো শুরু করেন। এখনো চলমান রয়েছে।পরের বাড়িতে কাজ পেলে মাঝে মধ্যে কাজও করেন। এভাবেই নানান জটিলতায় কোনো মতে চলে যাচ্ছে তার জীবন। বিধবা ভাতার আবেদন করছিলেন। কিনেছিলেন সিমও। কিন্তু টাকার দেখা পাননি।

স্থানীয় এক নেত্রী আর ইউপি সদস্যদের বাড়িতে কতোবার গেছেন ভাতার টাকার খোঁজ নিতে, তার কোনো হিসেব নেই। অবশেষে প্রতিবেদকের সহযোগিতায় অন্য একটি সিমে চলে যাওয়া প্রথম দফার সাড়ে ৪ হাজার টাকা ১৪ সেপ্টেম্বর হাতে পেয়েছেন মনোয়ারা। এতে তিনি যারপরনাই খুশি। 

তার থাকার যে ঘরটি  রয়েছে সেটির বেহাল দশা। বৃষ্টির পানি, সূর্যের আলো, চাঁদের আলো সব যায় তার ঘরে। তার ঘরটির বেড়ায় জুলানো রয়েছে নান্দাইল পৌর মেয়র রফিক উদ্দিন ভূঁইয়ার নির্বাচনী প্যানাপক্স।

মনোয়ারা বলেন, ‘বেড়া ভাঙা ছেলে কই থেকে যেন এনে দিয়েছে, চালে রয়েছে প্লাস্টিক চট দেওয়া।  প্রতিবেদকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন ‘ভিক্ষা কইরা ভাত খাই ঘর বানবাম কিদেয়্যা’।

প্রতিবেশীরা জানান, বর্তমান সমাজে এমন পরিবার পাওয়া কঠিন, খুব কষ্টে দিন যায় পরিবারটির। বৃষ্টি এলে সবকিছু জড়ো করে ঘরের এক কোণে বসে থাকে মা-ছেলে।

প্রতিবেশী রাজু নামে একজন বলেন, যদি আবহাওয়া খারাপ থাকে বা মনোয়ারা অসুস্থ থাকে কাজে বা ভিক্ষা করতে না যেতে পারে, প্রতিবেশীরা সাধ্যমত যা দেয় তাই খেয়ে পড়ে থাকে। প্রতিবেশিরা এগিয়ে না আসলে তাদের উপোস থাকতে হয়। ঘর বাঁধবে কি দিয়ে। 

স্থানীয় ইউপি সদস্য হাসিম উদ্দিন জানান, বেশ কয়েকটি ঘরের তালিকা দেওয়া হয়েছে। এখনো কোনো বরাদ্দের খোঁজ খবর পাইনি। পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

এ বিষয়ে ইউএনও মোহাম্মদ আবুল মনসুর জানান, ওই নারীর অবস্থা সম্পর্কে অবগত নই। প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ যোগাযোগ করলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে