বিশ্বস্ততার সুযোগ নিয়ে অফিসের টাকা আত্মসাৎ, সাজান ছিনতাই নাটক

ঢাকা, শুক্রবার   ২২ অক্টোবর ২০২১,   কার্তিক ৭ ১৪২৮,   ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

বিশ্বস্ততার সুযোগ নিয়ে অফিসের টাকা আত্মসাৎ, সাজান ছিনতাই নাটক

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:৪৫ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১  

টাকাসহ দুই বন্ধুকে গ্রেফতার করা হয়

টাকাসহ দুই বন্ধুকে গ্রেফতার করা হয়

ক্লিপটন গ্রুপের প্রধান কার্যালয়ের পিয়ন আব্দুর রহিম ওরফে রিপন। চাকরির পাশাপাশি যৌথ অংশীদারে করতেন গ্লাসের ব্যবসা। সেই ব্যবসায় লোকসানে পড়ে আঁটতে থাকেন তা পুষিয়ে আনার ফন্দি। নেন রেল কর্মচারী বন্ধু সেলিমের সহযোগিতা।

দীর্ঘদিনের কাজে অফিসে বিশ্বস্ততা অর্জন করেছেন রিপন। আর বন্ধুর কথামতো সেই বিশ্বস্ততার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অফিসের ১০ লাখ টাকার চেক ভাঙিয়ে আত্মসাৎ করেন সেই টাকা। এরপর কোনো ছিনতাইকারী নয়, খোদ ডিবি পুলিশের বিরুদ্ধেই সাজান ছিনতাইয়ের নাটক। তবে সফলতার মুখ দেখেনি সেই নাটক। দুই বন্ধুকে গ্রেফতার করেছে চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি থানা পুলিশ। উদ্ধার করা হয়েছে আত্মসাতের ১০ লাখ টাকা।

জানা গেছে, রোববার দুপুরে ১০ লাখ টাকার একটি চেক দিয়ে তা তোলার জন্য পিয়ন রিপনকে ব্যাংকে পাঠান ক্লিপটন গ্রুপের হিসাবরক্ষক মো. সাহেদ। অনেক সময় পেরিয়ে গেলেও টাকা নিয়ে ব্যাংক থেকে অফিসে ফেরেননি রিপন। একপর্যায়ে অফিস থেকে ব্যাংকে যোগাযোগ করেও তার কোনো হদিস মেলেনি। পরে এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় মামলা করা হয়।

পুলিশ জানায়, টাকা তোলার পর রোববার ও সোমবার দুদিন আত্মগোপনে ছিলেন রিপন। এরপর বাসায় ফিরে পরিবারের লোকজনের সঙ্গে দেখা করেন এবং শারীরিকভাবে অসুস্থ ও মাথায় আঘাত পাওয়ার অভিনয় করেন। এমন অবস্থা দেখে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান পরিবারের সদস্যরা। পরে সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেয়া হয়।

খবর পেয়ে সেই হাসপাতালে গিয়ে রিপনের সঙ্গে দেখা করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। একই সঙ্গে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে রিপনের শারীরিক অবস্থা ভালো বলে জানতে পারেন। পরে তাকে হাসপাতাল থেকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন।

জিজ্ঞাসাবাদে রিপন জানান, ১০ লাখ টাকা তোলার পর জমা দিতে নুপুর মার্কেট এলাকার অন্য একটি ব্যাংকে যান তিনি। মার্কেটের সামনে ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে দুজন গ্রেফতারি পরোয়ানা আছে জানিয়ে তাকে অটোরিকশায় তুলে নেন। পরবর্তীতে বিআরটিসি মোড়ে নিয়ে তার কাছে থাকা ব্যাগভর্তি ১০ লাখ টাকা, মোবাইল ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেন।

একপর্যায়ে বায়েজিদ লিংক রোডে নিয়ে গেলে পানি খেতে চান তিনি। পানি খাওয়ার পরই অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরদিন সন্ধ্যায় জ্ঞান ফিরলে নিজেকে পাহাড়তলীর অলংকার এলাকার একটি ঝোপঝাড়ের মধ্যে পড়ে থাকতে দেখেন। তখন তিনি ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন বলে বুঝতে পারেন। পরে ওই এলাকার এক বৃদ্ধের সহযোগিতায় অটোরিকশায় চড়ে বাসায় ফেরেন।

কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ নেজাম উদ্দীন বলেন, পিয়ন রিপনের দেওয়া তথ্যে ছায়াতদন্ত শুরু করে পুলিশ। ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি পর্যালোচনা করা হয়। কিন্তু সেই তথ্যের সঙ্গে কোনো মিল পাওয়া যায়নি। এরপর তাকে আবারো জিজ্ঞাসাবাদ করলে একপর্যায়ে ব্যাংক থেকে তোলা টাকা নিজেই আত্মসাতের কথা স্বীকার করেন।

পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে টাইগারপাস রেলওয়ে কলোনি এলাকার বন্ধু সেলিমের যোগসাজশে এমন ঘটনা ঘটানোর কথা জানান। নাটক সাজানোর অংশ হিসেবে সেলিমের কাছেই আত্মসাৎ করা সেই ১০ লাখ টাকা, মানিব্যাগ ও মোবাইল রাখেন রিপন। এরপর বৃহস্পতিবার সেলিমের বাসায় অভিযান চালিয়ে সেগুলো উদ্ধার ও সেলিমকে গ্রেফতার করা হয়।

ওসি আরো বলেন, অফিসের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ততার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে টাকা আত্মসাতের পরিকল্পনা করেন রিপন। মূলত অংশীদারে করা গ্লাসের ব্যবসার ক্ষতি পুষিয়ে আনতেই আত্মসাত করে এমন কাল্পনিক ছিনতাইয়ের নাটক সাজান।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর