তাপসী রানী-শাহের বানুর শূন্যতা কাঁদাচ্ছে সবাইকে

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২১ অক্টোবর ২০২১,   কার্তিক ৭ ১৪২৮,   ১৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

তাপসী রানী-শাহের বানুর শূন্যতা কাঁদাচ্ছে সবাইকে

পাবনা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:২২ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১  

শিক্ষক তাপসী রানী (বামে), পাবনা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ (ডানে)

শিক্ষক তাপসী রানী (বামে), পাবনা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ (ডানে)

দীর্ঘ দেড় বছরেরও বেশি সময় বন্ধ থাকার পর রোববার (১২ সেপ্টেম্বর) খুলেছে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। আনন্দ-উচ্ছ্বাসে বিদ্যালয়ে আসছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা। তবে পাবনা গভর্নমেন্ট গার্লস হাইস্কুলে বাজছে বিষাদের সুর। করোনায় এ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক (দিবা শাখা) তাপসী রানী ও আয়া শাহের বানুকে হারিয়ে শোকাহত সবাই। তাদের শূন্যতা এখনো কাঁদাচ্ছে সবাইকে।

জানা গেছে, মাস দেড়েক আগে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন তাপসী রানী। তার ফুসফুসে সংক্রমণ দেখা দিলে ঢাকার সিনিয়র সিটিজেন হাসপাতালে নেয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। ৬ আগস্ট সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যায়। এর আগে, জুনে মারা যান এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আয়া শাহের বানু।

বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফারিহা ইসলাম এবং জারিন তাসনিম নুক্তি জানান, প্রিয় শিক্ষিকা ও আয়ার মৃত্যুতে তারা এখনো শোকাহত।

বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী সাইদুর রহমান বাবু জানান, শিক্ষক তাপসী রানীর গুণে তিনি মুগ্ধ ছিলেন। তার কথা মনে পড়লে তিনি কষ্ট অনুভব করেন। সহকর্মী শাহের বানুর মৃত্যুতেও তিনি শোকাহত।

বিদ্যালয়ে কর্মরত আরেক আয়া হালিমা খাতুন জানান, তারই দীর্ঘদিনের সহকর্মী শাহের বানুর মৃত্যুতে তিনি খুব কষ্ট পেয়েছেন।

শিক্ষিকা তাপসী রানীর প্রশংসা করে তিনি জানান, তার ব্যবহার ছিল অতুলনীয়। তার কথা মনে পড়লেই খারাপ লাগে। তার আত্মার শান্তি কামনা করেন।

মলিন মুখে বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক (প্রভাতী শাখা) হরিশ চন্দ্র চৌধুরী বলেন, আমি একটি শাখার ইনচার্জ আবার তাপসী রানী আরেকটি শাখার ইনচার্জ ছিলেন। বিদ্যালয়ের অনেক কিছুতে তার সঙ্গে সমন্বয় করতে হত। পেশাগত কাজে তার সঙ্গে আমার বেশি সময় কেটেছে। তার মৃত্যু আমাকে কাঁদিয়েছে। তাপসী ম্যাডামের দিক-নির্দেশনামূলক কথা এখনো কানে বাজে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল জাব্বার বলেন, তাপসী রানী ও শাহের বানুর মৃত্যুতে সবাই শোকাহত। বিদ্যালয় খুলেছে, সবাই এসেছে শুধু তারা আজ নেই। তাদের জন্য আমার আশীর্বাদ সবসময় থাকবে।

এদিকে স্কুল খোলার পর স্বাস্থ্যবিধি মেনেই সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে বসানো হচ্ছে। মাস্ক পরেই স্কুলে প্রবেশ করছে শিক্ষার্থীরা। তাদের জন্য হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা রয়েছে। চলতি বছর এবং সামনের বছর যারা এসএসসি পরীক্ষা দেবে তাদের প্রতিদিনই ক্লাস নেয়া হবে। এছাড়া পঞ্চম শ্রেণির ক্লাসও চলবে প্রতিদিন। তবে ষষ্ঠ-অষ্টম শ্রেণির ক্লাস চলবে সপ্তাহে একদিন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর