পদ্মায় ট্রলার দুর্ঘটনায় দুই স্কুলশিক্ষক নিখোঁজ

ঢাকা, বুধবার   ২৭ অক্টোবর ২০২১,   কার্তিক ১৩ ১৪২৮,   ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

পদ্মায় ট্রলার দুর্ঘটনায় দুই স্কুলশিক্ষক নিখোঁজ

ফরিদপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১১:১৭ ২৬ আগস্ট ২০২১   আপডেট: ১২:৩৩ ২৬ আগস্ট ২০২১

নিখোঁজ দুই শিক্ষক

নিখোঁজ দুই শিক্ষক

ফরিদপুরে পদ্মা নদীতে ১৫ জন স্কুল শিক্ষক নিয়ে একটি ট্রলার দুর্ঘটনায় ডুবে যাওয়ার ঘটনায় দুইজন শিক্ষক নিখোঁজ রয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে প্রশিক্ষিত ডুবুরিরা তাদের উদ্ধারে কাজ শুরু করে।

গতকাল বুধবার সন্ধ্যার একটু আগে সিএন্ডবি ঘাটে পন্টুনের সাথে সংঘর্ষে ট্রলারটি সংঘর্ষে ডুবে যায়। এতে অনেকে সাতরে তীরে আসতে পারলেও দুজনকে পাওয়া যায়নি। 

ফরিদপুরের পদ্মায় পানি বাড়তে থাকায় চরাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ দেখতে তারা সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে ট্রলার যাত্রার এই উদ্যোগ নেন।
ট্রলার ডুবির পর খবর পেয়ে ফরিদপুরের পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীরা সন্ধ্যা থেকেই তাদের উদ্ধারে তৎপরতা শুরু করে।

ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র কর্মকর্তা সুভাষ বাড়ৈ জানান, সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে খবর পেয়ে তারা উদ্ধার অভিযানে নামেন। ঘটনাস্থল থেকে দুই কিলোমিটার পর্যন্ত তারা বুধবার সন্ধ্যা হতেই ট্রলার নিয়ে খোঁজ চালান। তবে একদিকে নদীতে তীব্র স্রোত, অপরদিকে রাতের অন্ধকার ও বৈরি আবহাওয়ায় বেগ পেতে হয় উদ্ধার কর্মীদের। সকালে পাটুরিয়া ঘাট হতে ডুবুরিরা এসে দ্বিতীয় দিনের মতো উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে।

ফরিদপুরের সারদা সুন্দরী বালিকা বিদ্যালয়, ঈশান বালিকা বিদ্যালয় ও ফরিদপুর উচ্চ বিদ্যালয় সহ জেলা সদরের পাঁচটি বিদ্যালয়ের ১৪ জন শিক্ষক খলিল মণ্ডলের হাট থেকে একটি ট্রলারে যাত্রায় নেমে বিভিন্নস্থানে এসে সিএন্ডবি ঘাটে যাত্রাবিরতি করেন। এরপর ট্রলারটি সেখান থেকে আবার খলিল মন্ডলের হাট রওনা হলে ঘাটের পন্টুনের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে ট্রলারটি  ডুবে যায়। এ সময় শিক্ষক ও মাঝিসহ ট্রলারে ১৫ জন যাত্রী ছিলেন।

সারদা সুন্দরি বালিকা বিদ্যালয়ের ইংরেজির শিক্ষক রেজাউল করিম বলেন, খলিল মণ্ডলের হাট হতে ট্রলারটি চরাঞ্চল ঘুরে সিএন্ডবি ঘাট ইয়ার্ডের নিকট পৌঁছে বিকেলে। এরপর সেখানে কিছু সময় কাটিয়ে ৬টার দিকে খলিলমন্ডলের হাটে ফেরার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

তিনি জানান, সন্ধ্যা ৬ টার দিকে ট্রলারটি ইয়ার্ড থেকে ছাড়ার পরই সেটি তীব্র স্রোতে পাশের পন্টুনের নিচে চলে যায়। আমরা ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ি। এরপর তীব্র স্রোতে ভেসে আমাদের ১২ জন শিক্ষক ও মাঝি মাঝ পদ্মায় চলে যাই। এরপর সাতরে আমরা তীরে আসতে পারলেও দু'জন শিক্ষক নিখোঁজ হন। ট্রলারটি পন্টুনের নিচে তলিয়ে যায়।

নিখোঁজ ওই দু'জন হলেন, সারদা সুন্দরী উচ্চ বিদ্যালয়ের গণিতের সিনিয়র শিক্ষক আজমল হোসেন ও ফরিদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক আলমগীর হোসেন। এদের মধ্যে আজমল হোসেনের বাড়ি সদর উপজেলার খলিলপুরে তবে তিনি শহরের গোয়ালচামটে ভাড়া থাকেন। তার এক ছেলে, এক মেয়ে ও স্ত্রী রয়েছে। আর আলমগীর হোসেনের বাড়ি খলিল মণ্ডলের হাট এলাকায়। তিনি ঝিলটুলি পুরাতন পাসপোর্ট অফিস এলাকায় থাকেন। তার দুটি মেয়ে রয়েছে।

রেজাউল করিম জানান, বুধবার বিকেলে তারা আলমগীর হোসেনের বাড়ির সামনের ঘাট থেকেই তারা বুধবার বিকেলে ট্রলারে রওনা হন।

ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র কর্মকর্তা সুভাষ বাড়ৈ বলেন, নদীতে প্রচুর স্রোত রয়েছে। বুধবার রাতে আঁধার এবং বৈরি আবহাওয়ার উদ্ধার অভিযানে তাদের বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। আসলে কি ঘটেছে তা এখনো বলা যাচ্ছে না।

ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তারা জানান, ফরিদপুরে তাদের কোন ডুবুরি নেই। ডুবুরি পাটুরিয়া ঘাট হতে আসতে হয়। তবে সেটি রাতের বেলায় সম্ভব ছিলনা বলে বৃহস্পতিবার সকালে সেখান থেকে এসে ডুবুরীরা কাজ শুরু করেছে।
 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস