বাবা-মা নেই, অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে গেল চার শিশু

ঢাকা, শুক্রবার   ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১,   আশ্বিন ১০ ১৪২৮,   ১৫ সফর ১৪৪৩

বাবা-মা নেই, অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে গেল চার শিশু

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০৯:৩৯ ৬ আগস্ট ২০২১   আপডেট: ০৯:৪২ ৬ আগস্ট ২০২১

ছোট্ট ঘরে আশ্রয় নেয় লোকজন

ছোট্ট ঘরে আশ্রয় নেয় লোকজন

বাবা-মা বেঁচে নেই, জানে না তিন বছরের ছোট্ট শিশু তাজরিন খাতুন। সারাক্ষণ শুধু কাঁদছে আর ‘আব্বা-আম্মা’ বলে চিৎকার করছে। তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার মতো তেমন কেউ নেই।

বুধবার চাঁপাইনবাবগঞ্জের পদ্মা নদীর পাকা ইউনিয়নের দক্ষিণ পাকা ঘাটে বজ্রপাতে ১৬ জনের মৃত্যু হলেও মায়ের কোলে থাকা তাজরিন ভাগ্যক্রমে বেঁচে গেছে।

এরপর থেকেই পাগলের মতো মা-বাবাকে খুঁজছে ছোট্ট এ শিশু। চিৎকার করে কাঁদতে কাঁদতে বলছে- ‘আমার আব্বা ও আম্মা কই? আমি আম্মুর কাছে যাব। আব্বুকে চকলেট আনতে কইব। নতুন জামা নিব। তোমরা আমাকে ছাড়ো।’

তাজরিন হলো বজ্রপাতের ঘটনায় নারায়ণপুর ডাইলপাড়া গ্রামের মৃত সাদেকুল ইসলাম সাদেক ও টকিয়ারা বেগমের মেয়ে।

তাজরিনের ফুফাতো ভাই শফিকুল ইসলাম বলেন, বুধবারের ঘটনায় যখন মৃত ও আহতদের উদ্ধার কাজ চলছিল, তখন তাজরিন জীবিত অবস্থায় শুধু ফ্যাল ফ্যাল করে তাকাচ্ছিল। আমরা তাকে জীবিত দেখে অবাক হয়েছিলাম এবং তাকে বুকে জড়িয়ে ধরেছিলাম।

তিনি আরো বলেন, এ ঘটনায় তাজরিনের আব্বা সাদেকুল ইসলাম সাদেক, আম্মা টকিয়ারা বেগম, দাদা তোবজুল হক, দাদি জমিলা বেগম, ফুফু লেচন, ফুপাতো ভাই বাবলু, চাচাতো ভাই বাবুলসহ পরিবারের সাতজনের মৃত্যু হয়।

আব্দুল বাসির তার যমজ ছেলে-মেয়ে মবিন ও ময়নাকে সহোদর সাদেকুল ও তার স্ত্রী টকিয়ারাসহ সাত আত্মীয়ের সঙ্গে পাঠিয়েছিল বউভাতের দাওয়াত খেতে। সবাই মারা গেলেও মবিন ও ময়না বেঁচে গেছে অলৌকিকভাবে।

এ ঘটনায় আরো এক অবুঝ শিশু রক্ষা পেয়েছে। সে হচ্ছে মৃত লেচন বেগমের পাঁচ বছরের ছেলে হাবির। এ চার শিশুকে দেখতে তাদের বাড়িতে ভিড় জমাচ্ছেন শত শত নারী-পুরুষ।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর