পানছড়ি আশ্রয়ণ কেন্দ্রে দুর্ভোগ-সঙ্কট

ঢাকা, শুক্রবার   ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১,   আশ্বিন ৯ ১৪২৮,   ১৫ সফর ১৪৪৩

পানছড়ি আশ্রয়ণ কেন্দ্রে দুর্ভোগ-সঙ্কট

জাকারিয়া চৌধুরী, হবিগঞ্জ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:৩৭ ৫ আগস্ট ২০২১  

পানছড়ি আশ্রয়ণ কেন্দ্র

পানছড়ি আশ্রয়ণ কেন্দ্র

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার পানছড়ি আশ্রয়ণ কেন্দ্রের পাঁচ শতাধিক পরিবারের দুর্ভোগ আর সঙ্কট যেন কাটছেই না। শুরু থেকেই নানা সমস্যায় জর্জরিত এসব পরিবারের বর্তমানে প্রধান সমস্যা বসতঘর ও বিশুদ্ধ পানি।

ঘরগুলোর টিনের চাল ছিদ্র হয়ে গেছে। সামান্য বৃষ্টিতেই পোহাতে হয় চরম দুর্ভোগ। এছাড়া নেই পর্যাপ্ত গভীর নলকূপ, পুকুর ও জলাশয়। যে নলকূপগুলো আছে- তার বেশিরভাগই নষ্ট। এমন পরিস্থিতি থেকে দ্রুত উত্তোরণের দাবি ভুক্তভোগীদের।

পানছড়ি আশ্রয়ণ কেন্দ্রের জরাজীর্ণ ঘর

২০০০ সালে ওই উপজেলার শানখলা ইউনিয়নের রঘুনন্দন এলাকায় প্রায় ৫০ একর জমিতে আশ্রয়ণ কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়। নাম দেওয়া হয় পানছড়ি আশ্রয়ণ কেন্দ্র। ওই সময় আশ্রয়ণ কেন্দ্রের ৫০টি ব্যারাকে বিভিন্ন টিলায় পাঁচ শতাধিক ভূমিহীন পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছিল।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পানছড়ি আশ্রয়ণ কেন্দ্রে পাঁচ শতাধিক পরিবারকে পুনর্বাসন করা হলেও বর্তমানে একই স্থানে গাদাগাদি করে বসবাস করছে ছয় শতাধিক পরিবার। ফলে দুর্ভোগ-সঙ্কট আরো চরম আকার ধারণ করছে। এছাড়া এ আশ্রয়ণ কেন্দ্রের অধিকাংশ জমি দখল করে নিয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। প্রতিবাদ করলে নিরীহ মানুষের ওপর চালানো হয় নির্যাতন। এ কারণে সবসময় ভয়ে ভয়ে থাকতে হয় তাদের।

পানছড়ি আশ্রয়ণ কেন্দ্রের জরাজীর্ণ ঘর

পানছড়ি আশ্রয়ণ কেন্দ্রের বাসিন্দারা বলছেন, আমরা নিরীহ মানুষ। সরকার আমাদের থাকার ব্যবস্থা না করলে হয়তো না খেয়েই আমাদের মরণ হতো। দুই বেলা খাবার জোগাড় করতেই আমাদের নুন আনতে পানতা ফুরায়। ঘর মেরামত করার সামর্থ্য নেই। এ কারণে এত সঙ্কটের মধ্যেও পরিবার পরিজন নিয়ে কোনোরকমে টিকে আছি।

জানতে চাইলে চুনারুঘাটের ইউএনও সত্যজিত রায় দাশ জানান, পানছড়ি একটি বড় আশ্রয়ণ কেন্দ্র। ২০০০ সালের আগে যেসব আশ্রয়ণ কেন্দ্র নির্মিত হয়েছে সেগুলো পুণনির্মাণের জন্য একটি সার্ভে হয়েছে। এরই মধ্যে পানছড়ি আশ্রয়ণ কেন্দ্রের ৩১টি ব্যারাক পুণনির্মাণের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এছাড়া পাঁচটি গভীর নলকূপ স্থাপনের কাজ চলছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর