নরসিংদীতে করোনার ফলাফলে দীর্ঘ সূত্রিতায় রোগীদের ভোগান্তি

ঢাকা, সোমবার   ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১,   আশ্বিন ১২ ১৪২৮,   ১৮ সফর ১৪৪৩

নরসিংদীতে করোনার ফলাফলে দীর্ঘ সূত্রিতায় রোগীদের ভোগান্তি

নরসিংদী প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:৫১ ৪ আগস্ট ২০২১  

নরসিংদী সিভিল সার্জন এর কার্যালয়: ফাইল ফটো

নরসিংদী সিভিল সার্জন এর কার্যালয়: ফাইল ফটো

নরসিংদীতে করোনা শনাক্ত পরীক্ষার ফল প্রাপ্তিতে বিলম্ব হওয়ায় ভোগান্তি বেড়েছে। নমুনা দেওয়ার পর ফলাফল পেতে পাঁচ থেকে সাত দিন সময় লাগছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। দিনে দিনে ভোগান্তি বাড়লেও নমুনা পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, নরসিংদী জেলা থেকে প্রতিদিন গড়ে অন্তত সাড়ে তিনশত নমুনা সংগ্রহ করে আরটিপিসিআর পরীক্ষার জন্য রাজধানীর ইনস্টিটিউট অব পাবলিক হেলথে (আইপিএস) এ পাঠানো হয়। ঢাকার ওই প্রতিষ্ঠানে আরো কয়েকটি জেলাসহ প্রবাসীদের নমুনা পরীক্ষা করা হয়ে থাকে। প্রতিদিন কমপক্ষে ১হাজার ৫শ থেকে ১হাজার ৭শত নমুনা সেখানে জমা হয়। অথচ প্রতিষ্ঠানটির ২৪ ঘণ্টায় এক হাজার নমুনা পরীক্ষা করার সক্ষমতা রয়েছে। বাকি নমুনাগুলো প্রতিদিনই জমতে থাকে। তাই জট লেগে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে এর জন্যই নমুনা পরীক্ষা করে ফলাফল পেতে পাঁচ থেকে সাত দিন সময় লেগে যাচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিভিল সার্জন অফিসের এক কর্মচারী জানান, গত ২৭ জুলাই যাদের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল, সোমবার (২ আগষ্ট)দুপুরে শুধু তাদেরই ফল পাওয়া গেছে। নমুনা পরীক্ষার এই ফল পেতে সাত দিন লেগে গেছে। গত এক সপ্তাহ ধরে এমনটা হচ্ছে। নমুনা সংগ্রহের পরিমাণ হঠাৎ করেই বেশি হয়ে যাওয়ায়, চাপ পড়েছে নমুনা পরীক্ষায়। তাই সময় বেশি লাগছে।

জেলায় দিন দিন জ্বর-ঠান্ডার রোগী বাড়ছে। ফলে করোনা সন্দেহে নমুনা পরীক্ষা করতে ভিড় বাড়ছে নমুনা সংগ্রহের কেন্দ্রগুলোতে। জেলার সবগুলো নমুনা সংগ্রহ কেন্দ্রে প্রতিদিন ৭শত থেকে ৮শত ব্যক্তি নমুনা পরীক্ষা করাতে আসেন। তাঁদের মধ্যে আরটিপিসিআর ও র‍্যাপিড অ্যান্টিজেন পরীক্ষা মিলিয়ে গড়ে সাড়ে ৪শত ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করা হয়। জেলার ছয় উপজেলা মিলিয়ে মোট নমুনা সংগ্রহ কেন্দ্র আছে ৯টি। এর মধ্যে র‍্যাপিড অ্যান্টিজেন পরীক্ষা করা হচ্ছ ৮ জায়গায়।

মাইনুল রহমান খান নামে এক শিক্ষক জানান, গত ১০ দিন ধরে জ্বর-ঠান্ডাসহ করোনার উপসর্গে ভুগছেন তিনি। করোনা সন্দেহে ২৬ জুলাই নরসিংদীর কোভিড ডেডিকেটেড ১০০ শয্যা জেলা হাসপাতালে পরীক্ষার জন্য নমুনা দেন। ৬ দিন অপেক্ষার পর তিনি জানতে পেরেছেন তার নমুনা পরীক্ষার ফল।

মাইনুল রহমান খানের মতো প্রতিদিন করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা দেওয়ার পর ফলের জন্য দীর্ঘসূত্রতায় পড়তে হচ্ছে মানুষকে।

সিভিল সার্জন ডা. মো. নূরুল ইসলাম জানান, কিছুদিন আগেও জেলায় প্রতিদিন ১শ থেকে দেড়শ মানুষের নমুনা সংগ্রহ করা হতো। এখন নমুনা সংগ্রহের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৫ গুণ। র‍্যাপিড অ্যান্টিজেন পরীক্ষায় যাদের নেগেটিভ আসে, তাদের আবার আরটিপিসিআর পরীক্ষা করাতে হয়। এ জন্যই ঝামেলা বেশি হচ্ছে। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি, তারা ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে আমাদের জানিয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ