দেড় কিলোমিটার কাঁচা সড়কের জন্য ঘুরতে হয় ১৫ কিলোমিটার

ঢাকা, সোমবার   ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১,   আশ্বিন ১৩ ১৪২৮,   ১৮ সফর ১৪৪৩

দেড় কিলোমিটার কাঁচা সড়কের জন্য ঘুরতে হয় ১৫ কিলোমিটার

ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:০৯ ৩ আগস্ট ২০২১  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় মাত্র দেড় কিলোমিটার সড়ক পাকা না হওয়ায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে পাঁচ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ। যার ফলে উপজেলা সদরে আসতে তাদের অতিরিক্ত ১৫ কিলোমিটার সড়ক পাড়ি দিয়ে বিকল্প পথে উপজেলা সদরে এসে দৈনন্দিন কাজ করতে হচ্ছে।

এতে করে এক দিকে যেমন প্রচুর সময় ও অর্থের খরচ  হচ্ছে তেমনি চরম অস্বস্তিতে রয়েছেন এলাকার মানুষ। বিশেষ করে স্কুল-কলেজে পড়ুয়া ছাত্র ছাত্রীরা ও কর্মজীবী মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে কয়েক গুণ। এছাড়াও কৃষি পণ্য পরিবহন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। 

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে সড়কটি সংস্কারের জন্য বারবার দাবি জানালেও কোনো কাজ হয়নি বলে আক্ষেপ করেছেন এলাকাবাসী।

উপজেলার সন্ধানপুর, জামুরিয়া ও দিগড় ইউপির সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে ঝড়কা থেকে মাইধারচালা পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। এরইমধ্যে জামুরিয়া অংশের সড়ক পাকা হয়ে গেছে। সন্ধানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে মাইধারচালা বাজার পর্যন্ত মাত্র দেড় কিলোমিটার রাস্তা কোনো কাজ হয়নি। এই সড়কটুকু পাকা না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সন্ধানপুর, মোনারপাড়া, নয়াবাড়ি, মানাজি, মাইধারচালাসহ ৫ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ।

এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এই সড়কটুকু না হওয়ায় এসব গ্রামের মানুষকে কদমতলী হয়ে অতিরিক্ত ১৫ কিলোমিটার ঘুরে উপজেলা সদরে যেতে হয়। অথচ এই দেড় কিলোমিটার সড়ক সংস্কার করলে সদরে যেতে দূরত্ব কমে আসবে আট কিলোমিটার। জনগণের ভোগান্তি এমন পর্যায়ে দাঁড়িয়েছে যে সামান্য বৃষ্টি হলে পা হাঁটু পর্যন্ত কাদায় দেবে যায়। ঘর থেকে বের হয়ে শহরের অনেক গুরুত্ব পূর্ণ কাজ করা সম্ভব হয় না। তাছাড়া কৃষকের উৎপাদিত ফসল নিয়ে হাটে বাজারে গিয়ে বিক্রি করার কোনো উপায় থাকে না। যাতায়াত করারও সম্ভব হয় না।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই সড়কের আশপাশে একটি কমিউনিটি ক্লিনিক, দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটা দাখিল মাদরাসা, কয়েকটি নূরানি ও হাফেজিয়া মাদরাসা এবং এতিমখানাসহ একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে এসব প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করা ভীষণ কষ্টকর। বাচ্চারা এ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করতে ভীষণ বেগ পেতে হয়। যার ফলে অনেক কিশোর-কিশোরী পড়ালেখা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে নানা ধরনের অপকর্মের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। দিন দিন শিশু শ্রম বৃদ্ধি পাচ্ছে ও একটি নিরক্ষর জাতিতে পরিণত হচ্ছে উক্ত এলাকার কয়েকশ শিশু কিশোররা। 

স্থানীয়রা জানান, নির্বাচনের আগে বর্তমান চেয়ারম্যান এই রাস্তাটি পাকা করার প্রতিশ্রুতি দিলেও নির্বাচিত হওয়ায় তিন বছর পার হয়ে গেলেও এটি পাকাকরণে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। নিজের আখের গোছাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

এ ব্যাপারে সন্ধানপুর ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলামকে তার দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথা জিজ্ঞেস করা হলে তিনি স্বীকার করে বলেন, আমি এরইমধ্যে উপজেলা পরিষদের সভায় সড়কটি পাকাকরণের প্রস্তাব দিয়েছি। এ ব্যাপারে আমি স্থানীয় সংসদ মহোদয়ের সঙ্গে কথা বলে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছি। আশা করি অতি দ্রুত এর একটা বিহিত হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস