২৪ পুলিশ সদস্যের শেষ কর্মদিবসকে রাঙিয়ে দিলেন এসপি

ঢাকা, শুক্রবার   ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১,   আশ্বিন ৯ ১৪২৮,   ১৫ সফর ১৪৪৩

২৪ পুলিশ সদস্যের শেষ কর্মদিবসকে রাঙিয়ে দিলেন এসপি

পাবনা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:০৫ ৩ আগস্ট ২০২১  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

যৌবনকাল যারা দেশ মাতৃকার জন্য উজার করে দিয়েছেন, পারিবারিক আনন্দ-বেদনা ভাগাভাগি করার সুযোগও হয়ত হয়নি প্রিয়জনদের সঙ্গে। ধর্মীয় উৎসবগুলোর বেশিরভাগ কেটেছে কর্মস্থলে।

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাত-বিরাত কেটেছে বিভিন্ন প্রান্তে। জাতির সেই ২৪ জন অতন্দ্র প্রহরীর শেষ কর্মদিবসকে রাঙিয়ে দিলেন, সম্মানিত করলেন পাবনা পুলিশ সুপারসহ জেলা পুলিশের সদস্যরা।

পুলিশ সংস্কৃতির বদলে যাওয়া ধারায় সোমবার (২ আগস্ট) পাবনা থেকে অবসরে যাওয়া ৩ জন এএসআই এবং ২১ জন কনস্টেবলের বিদায় নানা আয়োজনে সমাপ্ত হয়। শেষে পুলিশের সুসজ্জিত গাড়িতে করে তাদের নিজ বাড়ি পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। 

পাবনা জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, পুলিশের চাকরি শেষে এতকাল অধিকাংশ কনস্টেবলের চাকরির বিদায়টা ছিল নিতান্তই সাদামাটা। অনেকে মনে কষ্ট নিয়েও বাড়ি ফিরতেন। বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে সাম্প্রতিক পুলিশ সদস্যদের চাকরির শেষ দিবসের বিদায় অনুষ্ঠানটিকে বর্ণিল করা হয়েছে। এ বিষয়টি যেন তার অবশিষ্ট জীবনে দোলা দিয়ে যায়। নিজেকে তারা সম্মানিত বোধ করেন, পরিবারের কাছে ফিরতে পারেন গৌরবের সঙ্গে। যে পরিবারের সদস্যদের চরম প্রয়োজনেও হয়ত দেশের জন্য সময় দিতে পারেননি। 

সোমবার দুপুরে পাবনা থেকে বিদায়ী ২৪ জন পুলিশ সদস্যর সম্মানে বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। তাদের নানা উপহারও প্রদান করা হয়। সেখানে বিভিন্ন পুলিশ সদস্য অশ্রুসজল নয়নে চাকরি জীবনের নানারকম আবেগময় স্মৃতিচারণ করেন। তাদের বিদায় দেয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও হয়ে ওঠেন ব্যাথাতুর।

প্রিয়তমা স্ত্রী বা পিতা-মাতা কিংবা আদরের সন্তান যখন গ্রামের বাড়ি কঠিন সময় পার করেছেন, তখন হয়ত তিনি দেশের জন্য কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারেননি। অসুস্থ প্রিয়জনের পাশে থাকার বদলে তাকে সে সময় হয়ত কাধে রাইফেল নিয়ে যেতে হয়েছে কোনো জরুরি অপারেশনে কিংবা জনমানুষের নিরাপত্তায় ছুটতে হয়েছে। নিরবে অশ্রুফেলা কঠিন সময়ের সঙ্গে আছে আনন্দময় প্রাপ্তির ঘটনাও। সে সব ফেলে আসা স্মৃতিচারণ সবাইকে আবেগময় করে দেয়। তারপরও প্রিয় বিভাগের জন্য যখন যে কোনো সময়ে ছুটে আসার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন পাবনা জেলা পুলিশের অবসরোত্তর ছুটিতে যাওয়া বয়োবৃদ্ধ ওমর আলী। তখন তাদের নিয়ে গর্বিত হন জেলার পুলিশ সদস্যরা।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে সোমবার দুপুরে পাবনা পুলিশ লাইন্সের শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা এএসআই আব্দুল জলিল মিলনায়তনে আয়োজিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পাবনা পুলিশ সুপার মুহবুল ইসলাম খাঁন। বিদায়ী সহকর্মীদের সঙ্গে সবাই মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন। শেষ বিকেলে চাকরিরত সহকর্মীরা বাড়ি যাওয়ার পরিবহনে গিয়েও বিদায় জানান অবসরপ্রাপ্তদের। পাবনা জেলা পুলিশ সুপারের উপস্থিতিতে আবেগঘন পরিবেশ ছিল তখন। বিশেষ সম্মানে তাদের বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার জন্য জেলা পুলিশের গাড়িকে সুসজ্জিত করা হয়।

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশপাবনা পুলিশ সুপার মুহিবুল ইসলাম খাঁন জানান, পুলিশের চাকরিতে অধিকাংশ কনস্টেবল নিরবেই চলে যান চাকরির শেষ কর্মদিবসে। রিজার্ভ অফিস থেকে একটি সিসি নিয়ে, পুলিশ সদস্য প্রায় চার দশক পুরো বিভাগকে, দেশকে নিজের সর্বস্ব উজার করে, চরম ত্যাগ স্বীকার করে সেবা দিয়ে যান। শেষ দিন তাকে হয়ত কদাচিত কেউ বলতেন, ‘আপনার ৪০ বছরের সেবার জন্য ধন্যবাদ।’ 

কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে জেলা পর্যায়ে পুলিশ সংস্কৃতির বড় একটি পরিবর্তন এসেছে। প্রায় প্রতিটি জেলার পুলিশ সুপাররা কনস্টবলদের বিদায়বেলা তাদেরকে সুসজ্জিত গাড়িতে বাড়ি পাঠাচ্ছেন। সে রকমই সোমবার পাবনা জেলা পুলিশের ৩ জন এএসআই এবং ২১ জন কনস্টবলকে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বিদায় সংবর্ধনা জানানো হয়। তাদের শেষ কর্মদিবসটি আনন্দময় ও সম্মানজনক করতে পেরে তিনিও আনন্দিত।

তিনি আরো জানান, এরকম আয়োজন করে, সম্মান দিয়ে চাকরিস্থল থেকে বিদায়বেলা তাদেরকে ‘আপনার সার্ভিসের জন্য ধন্যবাদ’ বলতে পারাটা আমার জন্যও পরম আনন্দের। 

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম