ব্যাংকে চাচার ঋণ, ভাতিজির বৃত্তির টাকা আটকে দিলেন ম্যানেজার

ঢাকা, রোববার   ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১,   আশ্বিন ৫ ১৪২৮,   ১০ সফর ১৪৪৩

ব্যাংকে চাচার ঋণ, ভাতিজির বৃত্তির টাকা আটকে দিলেন ম্যানেজার

রাজশাহী প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০০:০২ ৩ আগস্ট ২০২১   আপডেট: ০০:৩৬ ৩ আগস্ট ২০২১

সোনালী ব্যাংক মুণ্ডুমালাহাট শাখা, রাজশাহী

সোনালী ব্যাংক মুণ্ডুমালাহাট শাখা, রাজশাহী

অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী সানজিদা সুলতানা জয়া। ব্যাংকে তার বৃত্তির পাঁচ হাজার ৯০০ টাকা জমা পড়েছিল। বাবাকে সঙ্গে নিয়ে সেই টাকা তুলতে গিয়ে শূন্য হাতে ফিরতে হয়েছে তাকে। চাচার ঋণ থাকায় জয়ার বৃত্তির চেক আটকে দেন ব্যাংক ম্যানেজার।

বৃহস্পতিবার ঘটনাটি ঘটেছে রাজশাহীর তানোর উপজেলায় সোনালী ব্যাংকে। তবে বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর জয়াকে বৃত্তির টাকা দিতে রাজি হয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

ভুক্তভোগী সানজিদা সুলতানা জয়া তানোরের মুণ্ডুমালাহাট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী। তার বাড়ি মুণ্ডুমালাহাট পৌর এলাকায়। বাবার নাম শহিদুল ইসলাম। পঞ্চম শ্রেণিতে সে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে।

জয়ার বাবা শহিদুল ইসলাম বলেন, সোনালী ব্যাংক মুণ্ডুমালাহাট শাখায় আমার মেয়ের নামে ব্যাংক হিসাব চালু রয়েছে। এতে বৃত্তির পাঁচ হাজার ৯০০ টাকা জমা হয়। মেয়েকে নিয়ে বৃহস্পতিবার সেই টাকা তুলতে যাই।

একই শাখায় আমার বড় ভাই আতাউর রহমানের ক্ষুদ্র ঋণ রয়েছে। সেটির কিস্তি বকেয়া থাকায় বৃত্তির টাকা থেকে সমন্বয় করার কথা জানান ম্যানেজার। তিনি টাকা না দেওয়ায় আমরা ওইদিন খালি হাতে ফিরেছি। এরপর শনিবার মুঠোফোনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দেই।

ব্যাংকের শাখা ম্যানেজার মিঠন কুমার দেব জানান, ওই ছাত্রীর চাচা আতাউর রহমানের ঋণ অনেক পুরনো। সেটির গ্যারান্টার ছিলেন শহিদুল ইসলাম। ঋণ আদায় করার জন্য তার সঙ্গে কথা হয়েছে। তবে ওই ছাত্রীর বৃত্তির চেকটি ব্যাংকে রয়েছে।

তানোরের ইউএনও পংকজ চন্দ্র দেবনাথ বলেন, বৃত্তির টাকা অন্য খাতে কেটে নেয়ার এখতিয়ার ব্যাংকের নেই। ওই ছাত্রীর বাবার মৌখিক অভিযোগ পেয়ে ব্যাংক ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা বৃত্তির টাকা দেবেন বলে জানিয়েছেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর