বসতভিটা রক্ষায় দিনমজুরদের টাকায় নদীতে বাঁশের বাঁধ নির্মাণ

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১,   আশ্বিন ৯ ১৪২৮,   ১৪ সফর ১৪৪৩

বসতভিটা রক্ষায় দিনমজুরদের টাকায় নদীতে বাঁশের বাঁধ নির্মাণ

ইসলামপুর (জামালপুর) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:০৬ ২ আগস্ট ২০২১   আপডেট: ২০:১২ ২ আগস্ট ২০২১

বসতভিটা রক্ষায় দিনমজুরির টাকায় নদীতে বাঁশের বাঁধ নির্মাণ

বসতভিটা রক্ষায় দিনমজুরির টাকায় নদীতে বাঁশের বাঁধ নির্মাণ

জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলা একাধিক নদ-নদী দ্বারা বেষ্টিত। ফলে প্রতিবছর বন্যা মৌসুমে নদী ভাঙনের শিকার হন নদীপাড়ের বাসিন্দারা।

ভাঙনরোধে পদক্ষেপ নিতে জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্টরা বারবার প্রতিশ্রুতি দিলেও কাজের কাজ না হওয়ার অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। অনুদানের আশায় অপেক্ষা না করে বসতভিটা রক্ষার্থে বিভিন্ন এলাকায় ভাঙনের শিকার ভুক্তভোগী পরিবারগুলো নিজেরাই তাদের দিনমজুরির টাকায় নদীতে বাঁশের আড়াআড়ি বাঁধ নির্মাণ করেছেন। ভাঙনরোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি নদীপাড়ের বাসিন্দাদের।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার গাইবান্ধা ইউপির নাপিতেরচর ডাকপাড়া গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে চলছে দশআনী নদী। নদীর অব্যাহত ভাঙনে দিশেহারা নদীপাড়ের বাসিন্দারা। অনেকের বসতভিটাই ভাঙনের কবলে পড়েছে। বসতভিটা ভাঙন রক্ষায় দশআনী নদীতে বাঁশের ১০টি আড়াআড়ি বাঁধ নির্মাণ করেছেন ভুক্তভোগী ১১টি দরিদ্র পরিবার।

নদীভাঙনের শিকার ভুক্তভোগী মানিক মিয়া বলেন, ‘দিনমজুরি খেটে সংসার চলে। বসতভিটা দশআনী নদী গর্ভে বিলীন হলে পুনরায় বাড়ি করার জমি নেই। চেয়ারম্যান-মেম্বাররা বারবার কথা দেয় ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়ার। কিন্তু তারা কাজ করে না। তাই কোনোমতে বাঁশের আড়াআড়ি বাঁধ দিয়ে মাথা গোঁজার ঠাঁই বসতভিটা রক্ষা করার চেষ্টা করে যাচ্ছি।’ 

একই এলাকার আব্দুল জব্বার, আব্দুর রাজ্জাক, আব্দুর রশিদ, আবু ছাইদ, মনিব মিয়া, বিপুল, শাজাহান, আঙ্গুর আলী, হুমায়ুন এবং ইয়ানুছ আলী যৌথ উদ্যোগে বাঁশের আড়াআড়ি বাঁধ নির্মাণ করেছেন। 

তারা বলেন, ‘নদীভাঙন ঠেকাতে জনপ্রতিনিধিরা শুধু কথা দিলেও বাঁধ নির্মাণ করে দেননি। তাই এবার বসতভিটা রক্ষায় তারা নিজেদের পরিশ্রমে ও টাকায় নদীতে বাঁশের আড়াআড়ি বাঁধ নির্মাণ করেছেন।’

জানা যায়, আবাদি জমিজমা বলতে কিছুই নেই ওইসব পরিবারে। নুন আনতে পান্তা ফুরানোর সংসার তাদের। দিনমজুরি খেটে জীবিকা নির্বাহ করেন তারা। কিন্তু বসতভিটা ভাঙন রক্ষায় তারা নিজেরাই নদীতে বাঁশের আড়াআড়ি বাঁধ নির্মাণ করেছেন।

একই ইউপির চন্দনপুর গ্রামের সাইফুল ইসলাম, মুক্তার আলী, তফের মিয়াসহ দশআনী নদী ভাঙনের শিকার ১৫টি পরিবার নিজের অর্থায়নে নদীতে বাঁশের আড়াআড়ি বাঁধ নির্মাণ করেছেন। 

তারা বলেন, ‘বারবার কথা দিলেও বাঁধা নির্মাণ করেননি চেয়ারম্যান-মেম্বার ও অফিসারেরা। নিরুপায় হয়ে বাড়িঘর বাঁচাতে আমরা নিজেরাই বাঁশের আড়াআড়ি বাঁধ নির্মাণ করে ভাঙন রোধ করা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

এছাড়া কুশলনগর গ্রামে দশআনী নদীর অব্যাহত ভাঙনে এরই মধ্যে ৬ টি বসতবাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। বাপদাদার পৈতৃক বসতভিটা রক্ষার্থে ভুক্তভোগী ব্যক্তিরা উদ্যোগ নিয়ে নিজেরা ভাঙন ঠেকাতে নদীতে বাঁশের আড়াআড়ি বাঁধ নির্মাণ করেছেন।

গাইবান্ধা ইউপি চেয়ারম্যান মাকছুদুর রহমান আনছারী বলেন, ‘নদীভাঙন এলাকায় নিয়মিত খোঁজখবর নিচ্ছি। ভাঙনরোধে স্থানীয়ভাবে বাঁধ নির্মাণ করতে মোটা অংকের সরকারি বরাদ্দের প্রয়োজন। যা ইউপির বরাদ্দের অর্থে বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।’

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে