পায়রা নদীর করাল গ্রাসে বিলীন হচ্ছে বেড়িবাঁধ

ঢাকা, সোমবার   ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১,   আশ্বিন ১৩ ১৪২৮,   ১৮ সফর ১৪৪৩

পায়রা নদীর করাল গ্রাসে বিলীন হচ্ছে বেড়িবাঁধ

হাফিজুর রহমান, বরগুনা ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:০৭ ২ আগস্ট ২০২১   আপডেট: ১৭:০৮ ২ আগস্ট ২০২১

পায়রা নদীর করাল গ্রাসে বিলীন হচ্ছে বেড়িবাঁধ

পায়রা নদীর করাল গ্রাসে বিলীন হচ্ছে বেড়িবাঁধ

বরগুনা সদর উপজেলার ৫ নম্বর আয়লা পাতাকাটা ইউপির জাঙ্গালিয়া গ্রামের রামরা তুলাতলা এলাকায় পায়রা নদীর তীব্র স্রোতে ফের ভাঙন দেখা দিয়েছে। একই স্থানে আগেও তিনবার বেড়িবাঁধ ভেঙে নদী গর্ভে গেলেও নতুন বেড়িবাঁধ দিয়েও ভাঙন ঠেকানো যায়নি। এখনই ভাঙন ঠেকানো না গেলে বিস্তীর্ণ এলাকা ডুবে যাবার আশঙ্কা রয়েছে।

রোববার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, পায়রা নদীর করাল গ্রাসে প্রায় ৬০০ মিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলিন হয়ে যাচ্ছে। প্রবল স্রোতে বেড়িবাঁধ দ্রুত ভেঙে যাচ্ছে। গত বছর জিও ব্যাগ দিয়ে সাময়িকভাবে তুলাতলা এলাকায় ভাঙন রোধ করা গেলেও এবার বর্ষার শুরুতে ওই এলাকা আবার ভাঙন শুরু হয়েছে। পায়রা নদীর তীরবর্তী রামরা ও তুলাতলা এলাকায় প্রায় শতাধিক দোকান রয়েছে। অধিকাংশ দোকান মালিকরা তাদের দোকার সরিয়ে নিয়েছেন। কিছু দোকান নদী গর্ভে চলে গেছে। 

২৬ মে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রবল স্রোতে রামরা তুলাতলা এলাকার প্রায় ৬০-৭০ টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তখন পায়নি কোনো সরকারি সহায়তা। ওই ব্যবসায়ীরা ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে না উঠতে আবারও ভাঙনের মুখে পড়েছে তারা। কদিন ধরে লাগাতার বর্ষণে আবারও ওই এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে। যে কোনো সময় বেড়িবাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা নদী গর্ভে তলিয়ে যেতে পারে। হুমকির মধ্য রয়েছে শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

ওই এলাকার সংরক্ষিত আসনের ইউপি সদস্য হারুনা আইরিন বলেন, গত বছর তুলাতলা এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধ করলেও এবার তীব্র গতিতে ভাঙন শুরু হয়েছে। এখনই ভাঙন রোধ করা না গেলে যে কোনো সময় বেড়িবাঁধ ভেঙে আমার বাড়িসহ রামরা, জাঙ্গালিয়া, সোনার বাংলা ও পাতাকাটা গ্রামের হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়বে। তুলাতলা এলাকার ব্যবসায়ীরা আতঙ্কে আছে। আবারও জিও ব্যাগ না দিলে অসংখ্য বাড়ি ঘর পায়রা নদীতে চলে যাবে। 

ওই এলাকার আওয়ামীলীগ নেতা মহিউদ্দিন নান্টু বলেন, জিও ব্যাগ দিয়ে সাময়িকভাবে ভাঙন রোধ করা যায়। পায়রা নদীর প্রবল স্রোতে যে ভাবে ভাঙন শুরু হয়েছে তাতে কনক্রিটের সিসি ব্লক তৈরি করে নদী শাসন করতে হবে। নদী শাসন না হলে কয়েকটি গ্রাম নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যাবে। 

জাঙ্গালিয়া এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য আবদুস সত্তার জোমাদ্দার বলেন, দুইবার ঘর ভেঙে ভেতরে নিয়েছি। লাখ লাখ টাকার জমি পায়রা নদীর ভাঙনে চলে গেছে। আবারও বাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিতে হবে। 

সরকারি চাকরীজীবী আবদুস সোবহান বলেন, জাঙ্গালিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসা নদীর গর্ভে চলে গেছে। আমার জমি দিয়ে সেখানে মাদরাসা করেছি। কনক্রিটের ব্লক দিয়ে ভাঙন রোধ করতে না পারলে কয়েকটি গ্রাম নদীতে চলে যাবে। 

বরগুনা-১ আসনের এমপি ধীরেন্দ্র দেবনাথ শমভু বলেন, ওই এলাকা ভাঙন ঠেকাতে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে প্রস্তাবনা পাঠিয়েছি। কনক্রিটের ব্লক নির্মাণ করে নদী শাসন করার কাজ প্রক্রিয়াধীন। 

বরগুনার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কাওসার আলম বলেন, জিও ব্যাগের টেন্ডার হয়েছে। কিছু দিনের মধ্যে জিও ব্যাগ ফেলে তুলাতলা এলাকায় ভাঙন রোধ করা হবে। রামরা এলকায় বড় প্রকল্পের আওতায় আনা হবে। সরকার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আশা করা যায় ওই এলাকার ভাঙন রোধ করা সম্ভব হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে