বগুড়ায় দীর্ঘ হচ্ছে লাশের মিছিল, উপসর্গে মৃত্যু বেশি

ঢাকা, শুক্রবার   ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১,   আশ্বিন ৯ ১৪২৮,   ১৫ সফর ১৪৪৩

বগুড়ায় দীর্ঘ হচ্ছে লাশের মিছিল, উপসর্গে মৃত্যু বেশি

মাসুম হোসেন, বগুড়া ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:৫২ ২ আগস্ট ২০২১  

বগুড়ার করোনা ডেডিকেটেড সরকারি মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল 

বগুড়ার করোনা ডেডিকেটেড সরকারি মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল 

বগুড়ায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর চেয়ে বাড়ছে উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু সংখ্যা। দিন দিন মৃতের সংখ্যা বাড়লেও পরীক্ষা না হওয়াতে করোনার সরকারি পরিসংখ্যানে তা উঠে আসছে না। ফলে জেলার বাসিন্দারা করোনা পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পারছেন না। এছাড়াও অনেক মানুষ রয়েছেন, যাদের করোনা উপসর্গ থাকলেও করছেন না নমুনা পরীক্ষা।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের তথ্যমতে, চলতি বছরের ১০ জুলাই থেকে ২ আগষ্ট (সোমবার) সকাল আটটা পর্যন্ত জেলায় করোনা ও উপসর্গে মৃত্যু হয়েছে ৩৮৫ জনের। তাদের মধ্যে করোনায় মৃত্যু হয়েছে ১৫৯ জনের। আর উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ২২৬ জন।

উপসর্গে মৃত্যুর বিষয়ে কথা হয় বগুড়া সরকারি মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. খায়রুল বাশারের সঙ্গে। তিনি জানান, যে মুহূর্তে রোগী মারা যাচ্ছে তখন যদি তার পজিটিভ রিপোর্ট আমাদের কাছে না থাকে তাহলে তো তাকে উপসর্গে মৃত্যুই দেখাতে হবে। হয়ত মৃত্যুর কয়েকদিন পরে তার রিপোর্ট আসছে। সংক্রমণ বেশি হওয়ায় আরটিপিসিআর এ নমুনা টেস্টের রিপোর্ট পেতে দেরি হয়। এর মধ্যেই যদি কেউ মারা যান তবে সেটা উপসর্গে মৃত্যু দেখানো হয়। মূলত সংক্রমণ বৃদ্ধিই মৃত্যু বেড়ে যাওযার কারণ এবং উপসর্গে মৃত্যুর বিষয়টিও তাই।

ডা. খায়রুল বাশার আরো বলেন, ‘আমাদের কোনো অক্সিজেন স্বল্পতা নেই। সেবার ক্ষেত্রেও আমরা আন্তরিক। কিন্তু আমাদের শয্যা সংখ্যার চেয়েও রোগী অনেক বেশি। একারণে  তাদের (উপসর্গ) ক্ষেত্রে আমাদের সেবার শতভাগ নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।’

করোনা ও উপসর্গে যারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাচ্ছেন, শুধু তাদের সংখ্যা বলছে জেলা সিভিল সার্জন অফিস। আর যারা বাড়িতেই করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যাচ্ছেন, তারা এই হিসাবের মধ্যে আসছেন না। এতে সংক্রমণ বৃদ্ধির একটা শঙ্কা রয়েই যায়।

জেলা ডেপুটি সিভিল সার্জন মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন বলেন, ‘করোনায় ও উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু এক নয়। এই দুইটা একসঙ্গে করাটা ঠিক না।’

অথচ করোনাভাইরাস পরিস্থিতির আগে জ্বর, সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্ট নিয়ে জেলায় এভাবে এত মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।

বগুড়ার গ্রাম অঞ্চলের ও নিম্ন আয়ের অধিকাংশ মানুষই নমুনা পরীক্ষা করাতে আগ্রহী নন। এ কারণে অনেকেই ঘরে বসে চিকিৎসা করছেন। যাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো তারা হয়ত কিছুদিন পর সুস্থ হয়ে উঠছেন। আবার সর্দি, কাশি, জ্বর, শ্বাসকষ্ট  নিয়ে অনেকে মারাও যাচ্ছেন।

বগুড়া সদর উপজেলার চালিতাবাড়ি এলাকার বাসিন্দা আব্দুস সাত্তার।  গত ২০ জুলাই থেকে করোনা উপসর্গে (জ্বর-সর্দি, শ্বাসকষ্ট) ভুগছিলেন। রোববার দুপুরে নিজ বাড়িতেই তিনি মারা যান।

করোনা উপসর্গে আব্দুস সাত্তারের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার নাতনি রেশমি খাতুন। দীর্ঘ ১২ দিন ধরে করোনা উপসর্গে নিয়ে থাকার পরও তিনি নমুনা পরীক্ষা করাননি। অবশেষে মারা গেলেন তিনি।

বগুড়া পৌরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের কৈগাড়ি এলাকার বাসিন্দা লিটন প্রামাণিক। সপ্তাহ খানেক ধরে তিনি জ্বর, সর্দি-কাশিতে ভুগছেন। তার শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা রয়েছে। শারীরিকভাবে অনেক দুর্বলও হয়ে পড়েছেন। এ অবস্থাতেও তিনি তার চা-বিস্কুটের দোকান চালাচ্ছেন।

তিনি বলেন, ‘আমি মারা গেলেও নমুনা পরীক্ষা করবো না। যা হবে হোক। স্বাভাবিক জ্বর হয়েছে আমার। পরীক্ষা করতে গিয়ে বিপদে পড়ব নাকি? এমন  জ্বর, কাশি সবারই হয়। এটা তেমন কিছু না।’

শুধু লিটনই নয়, আরো অনেকে রয়েছেন যাদের করোনা উপসর্গ থাকলেও করছেন না নমুনা পরীক্ষা। এতে করোনা সংক্রমণ আরো বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে