অসময়েও মাচায় তরমুজ চাষে সফল তারা

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১,   আশ্বিন ১৩ ১৪২৮,   ১৯ সফর ১৪৪৩

অসময়েও মাচায় তরমুজ চাষে সফল তারা

বরগুনা প্রতিনিধি  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:৪৬ ২ আগস্ট ২০২১  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

মাচায় তরমুজ চাষ করে সফলতার মুখ দেখেছেন উপকূলীয় বরগুনার কৃষক আবদুল মান্নান। অসময়ে তরমুজ চাষ করে দ্বিগুণ লাভের কথা ভাবছেন তিনি। মাচায় তার এমন তরমুজ চাষ দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে অনেকে তরমুজ চাষের পরিকল্পনা নিয়েছেন। 

জানা যায়, বরগুনার সদর উপজেলার কালির তবক গ্রামের কৃষক আবদুল মান্নানের ছোট ছেলে বনি আমিন অনেক বছর ধরেই তরমুজ পরিবহন শ্রমিক হিসাবে কাজ করছেন। টেলিভিশনে মাচায় তরমুজ চাষের প্রতিবেদন দেখে তিনি অনুপ্রাণিত হয়ে মাচায় তরমুজ চাষের পরিকল্পনা নেন।

এরপর তার বাবা আবদুল মান্নান ও বড় ভাই আবদুল আলীমের সাথে কথা বলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের পরামর্শ নিয়ে অসময়ে মাচায় তরমুজ চাষ শুরু করেন তারা। 

খামারটি প্রতিষ্ঠার পেছনে আবদুল মান্নানের স্ত্রী রোফেজা বেগমও দিনরাত পরিশ্রম করেন। তাদের এ তরমুজ চাষ অসময়ে হলেও প্রথমবারেই বাজিমাত দেখান তারা।

 সাধারণত শীতকালে বরগুনার বিভিন্ন এলাকার জমিতে তরমুজের চারা রোপণ করা হয় এবং তা বিক্রি করা হয় গ্রীষ্মকালে। কিন্তু কালিরতক গ্রামের আবদুল মান্নান চলতি বছরে এপ্রিল থেকে শুরু করে জুন অর্থাৎ বর্ষাকালে ৮০ শতাংশ জমিতে সরাসরি বেঙ্গল টাইগার, কারিশমা ও কানিয়া জাতের তরমুজের বীজ বপন করেন। 

বৃষ্টির পানিতে বীজ যেন পচে নষ্ট না হয় সেজন্য উন্নতমানের পলিথিন ব্যবহার করেন। যার ফলে অল্প সময়ের মধ্যে বীজ অঙ্কুরোদগম হয়ে চারা বেরিয়ে আসে। বর্তমানে মাচায় এখন অনেক তরমুজ ঝুলছে। প্রতিটি তরমুজ ৫-৬ কেজি ওজনের। লাল ও হলুদ বর্ণের এ তরমুজগুলো দেখতে যেমন সুন্দর, তেমনি খেতেও অনেক সুস্বাদু।

তরমুজ চাষি আবদুল মান্নান জানান, অসময়ে মাচায় তরমুজ চাষের কথা শুনে অনেকেই পাগলামি বলে ভেবেছিল। তবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কর্মকর্তাদের বললে তারা সঠিক পরামর্শ দেন। পরে তাদের দেখানো পদ্ধতি প্রয়োগ করে জমিতে বীজ বপন ও পরিচর্যা করে আমরা সফল হই।

মাচায় তরমুজ চাষ করে আবদুল মান্নানের সফলতা দেখে আরও অনেকে অনুপ্রাণিত হয়েছেন। তরমুজ চাষে আগ্রহী হয়ে দূরদূরান্ত থেকে প্রতিদিন মানুষ তরমুজ খেত দেখতে আসেন। স্থানীয় চাষি বাবুল সিকদার, ছিদ্দিক মেম্বার, মো. নিজাম ও নজরুলসহ আরো অনেকে মাচায় তরমুজ চাষ করার কথা ভাবছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, মাচায় তরমুজ চাষে উৎপাদন খরচ খুব একটা বেশি না। তবে নিয়মিত খেতের যত্ন নিতে হয়। নতুন এই পদ্ধতি সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়া গেলে একদিনে যেমন তরমুজ সারাবছর পাওয়া যাবে অন্যদিকে চাষিরা লাভবান হবেন।

অসময়ে মাচায় তরমুজ চাষের কথা শুনে বরগুনার ডিসি হাবিবুর রহমান সস্ত্রীক খামারটি পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি এ উদ্যোগকে অনুপ্রাণিত করার জন্য কয়েকটি তরমুজও ক্রয় করেন। 

ডিসি হাবিবুর রহমান বলেন, এখানে যে নতুন উদ্যোগে নতুন প্রযুক্তিতে অসময়ে তরমুজ চাষ ও অন্যান্য কৃষি কাজ শুরু হয়েছে এটি একটি অসাধারণ উদ্যোগ। এভাবেই বাংলাদেশের কৃষি এগিয়ে যাচ্ছে এবং আমাদের কৃষক স্বাবলম্বী হচ্ছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস