নৌকা তৈরির কারিগর ও মালিকদের দুর্দিন

ঢাকা, সোমবার   ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১,   আশ্বিন ৫ ১৪২৮,   ১১ সফর ১৪৪৩

নৌকা তৈরির কারিগর ও মালিকদের দুর্দিন

কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:২৭ ২ আগস্ট ২০২১   আপডেট: ১৫:৩৪ ২ আগস্ট ২০২১

নৌকা তৈরির কারিগর ও মালিকদের দুর্দিন

নৌকা তৈরির কারিগর ও মালিকদের দুর্দিন

বর্ষা মৌসুম এলে ডিঙ্গি নৌকা তৈরির শ্রমিকদের কদর বেড়ে যায় কয়েকগুণ। বাকী সময়টা তাদের কাটে অনাহারে, অর্ধাহারে। এই সময়টাতেই ক্রেতারা ছুটে আসেন দূর দূরান্ত থেকে। তাই মালিকদের ব্যবসা-বাণিজ্য হয় চাঙ্গা। বাকী সময় মালিকদেরও খুব একটা ভালো কাটে না। তাই নিজেদের অভাব গুছাতে হিমসিম খাওয়া মালিকরাও খোঁজ খবর রাখতে পারেন না শ্রমিকদের। দুই পক্ষের হাজারো মানুষের কর্মসংস্থানই এই বর্ষা কেন্দ্রীক। মালিক-শ্রমিকদের দাবি সরকারি সাহায্যের।

বর্ষায় গাজীপুরের কালীগঞ্জের অধিকাংশ খাল-বিল পানিতে তলিয়ে যায়। তখন ডিঙ্গি নৌকাই হয় স্থানীয়দের একমাত্র ভরসা। আর সেই নির্ভরতার বাহন ডিঙ্গি নৌকার যোগান দিতে দিন-রাত ব্যস্ত সময় পার করেন নৌকা তৈরির স্থানীয় কারিগররা। তবে সব সময় কাজ না থাকায় অনেকেই বর্ষার বাকী সময়টাতে খুবই অমানবিক জীবন কাটান। প্রায় অর্ধশত বছর ধরে নৌকা তৈরির কাজ করছে এখানকার শ্রমিকরা। আর এই নৌকা তৈরিকে ঘিরেই তাদের পরিবারের আয়ের উৎস।
 
বর্ষা মৌসুমে বিল পাড়ে চলাচলের জন্য একমাত্র বাহন হয়ে ওঠে ডিঙ্গি নৌকা। গৃহস্থালীর কাজ থেকে শুরু করে চলাচলের ও মাছ শিকারের জন্য ডিঙ্গি নৌকার ওপরই নির্ভর করতে হয়। তাই ক্রেতারাও ছুটে আসেন দূর দূরান্ত থেকে। আর দর-দাম করে নিজেদের পছন্দ মতো বেছে নিচ্ছেন ডিঙ্গি নৌকা।


 
নৌকা ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন কালীগঞ্জের পূবাইল ও জাঙ্গালীয়াসহ কয়েকটি গ্রামের বেশ কিছু পরিবার। পুরো পূবাইল ও আওড়াখালী বাজার জুড়ে জল ও স্থলে সারি সারি নৌকা। নৌকা বেচা-কেনা ও তৈরিতে অর্ধশত বছরের ঐতিহ্য রয়েছে এই বাজারটির। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমের চার মাস জমজমাট হয়ে ওঠে এখানকার নৌকা ব্যবসা।

বর্ষার শুরুতে এখানে কয়েক লাখ টাকার নৌকা বেচা-কেনা হয়। বর্ষার পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে আস্তে আস্তে তা কমতে থাকে। লোহা, কাঠ ও এ শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেক কিছুর মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় তাদের লাভও খুব একটা হচ্ছে না। আবার নৌকা তৈরির পর তার ন্যায্য মূল্যও পাচ্ছেন না মালিকরা।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায় পূবাইল বাজারে নৌকা তৈরির কারিগররা ব্যস্ত সময় পার করছেন ছোট বড় নৌকা তৈরিতে। কালীগঞ্জ, নাগরী, উলুখোলা, বাড়ীয়া, গাজীপুর সদর থেকে প্রতিদিন ক্রেতারা তাদের পছন্দ অনুযায়ী নৌকা কিনে নিচ্ছেন।
 
কালীগঞ্জ থেকে পূবাইলে নৌকা কিনতে আসা হানিফ মিয়া বলেন, গরুর ঘাস কাটার জন্য নৌকা কিনতে হলো। দুই বছরের ব্যবধানে প্রতিটি নৌকায় দেড় থেকে দুই হাজার টাকা দাম বেড়েছে।

নৌকা তৈরির কারিগর ও মালিকদের দুর্দিন
 
নৌকা তৈরির কারিগর এমদাদ হোসেন জানান, আমরা চুক্তিভিত্তিক নৌকা তৈরি করি। প্রতিটি নৌকায় আমাদের ছয়শত টাকা করে পাই। আগের মতো নৌকার চাহিদা নেই।
 
নৌকা ব্যবসায়ী সবু সরকার বলেন, কাঠ ও অন্যান্য সরঞ্জাম এর দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় নৌকার দাম আগের থেকে কিছুটা বেড়েছে।

পূবাইল এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, সম্প্রতি সড়ক পথে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের কারণে দিন দিন নৌকার ব্যবহার কমে যাওয়ায় এ পেশার সঙ্গে জড়িত কারিগররা অন্য পেশায় জড়িয়ে পড়ছে।
 
স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী মো. রিয়াদ হোসাইন বলেন, বর্ষা মৌসুম এলে ডিঙ্গি নৌকার প্রয়োজনীতা অনুভব করলেও বস্তুত নৌকা তৈরি একটি শিল্প। এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মালিক, শ্রমিক ও ক্রেতা সবাই টিকে থাকে। পাশাপশি এ শিল্পের দৈন্য দশায় আর্থিক সহযোগীতা বা প্রণোদনা দিয়ে একে সরকারের টিকিয়ে প্রয়োজন।

কালীগঞ্জ উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. জহির উদ্দিন বলেন, যেহেতু নৌকা তৈরি একটি শিল্প। আর সেই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে তাদেরকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আরো দক্ষ করে যুব উন্নয়ন অধিদফতর থেকে ঋণ প্রদানের মাধ্যমে তাদেরকে স্বাবলম্বী করা সম্ভব।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে