দুই টার্মিনালে বদলে যাচ্ছে ৯ জেলার জীবনযাত্রা

ঢাকা, সোমবার   ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১,   আশ্বিন ৫ ১৪২৮,   ১১ সফর ১৪৪৩

দুই টার্মিনালে বদলে যাচ্ছে ৯ জেলার জীবনযাত্রা

জামালপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:৪৬ ২ আগস্ট ২০২১   আপডেট: ১৮:১৭ ২ আগস্ট ২০২১

বাহাদুরাবাদ ফেরিঘাট টার্মিনাল, দেওয়ানগঞ্জ

বাহাদুরাবাদ ফেরিঘাট টার্মিনাল, দেওয়ানগঞ্জ

উদ্বোধনের অপেক্ষায় দিন গুনছে ১৪৫ কোটি টাকায় নির্মিত জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরাবাদ ফেরিঘাট টার্মিনাল ও গাইবান্ধার বালাসীঘাট বাস টার্মিনাল। ২০১৭ সালের ১ জুলাই শুরু হওয়া টার্মিনাল দুটির নির্মাণ কাজ এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। টার্মিনাল দুটি চালু হলে বদলে যাবে দেশের উত্তরাঞ্চলের ৯টি জেলার মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থা ও জীবনযাত্রা।

এতদিন জামালপুরসহ দেশের উত্তরাঞ্চলের ৯টি জেলার মানুষকে ফসল ও অন্যান্য পণ্য নিয়ে রাজধানীসহ পূর্বাঞ্চলে নৌকায় যাতায়াত করতে হতো প্রাণহানির ঝুঁকি নিয়ে। এসব জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল দেওয়ানগঞ্জের বাহাদুরাবাদ ফেরি টার্মিনাল ও গাইবান্ধার বালাসীঘাট বাস টার্মিনাল নির্মাণ। কিন্তু সংযোগ সড়ক না থাকা ও নাব্যতা সঙ্কটের কারণে যমুনা নদী দিয়ে ফেরি চলাচল শুরু করা সম্ভব হয়নি।

দীর্ঘ কয়েক বছর অপেক্ষার পর জামালপুর, গাইবান্ধা, দিনাজপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, রংপুর, লালমনিরহাট, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁওয়ের সঙ্গে রাজধানীসহ দেশের পূর্বাঞ্চলের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে যমুনা নদীর পূর্বপাড়ে দেওয়ানগঞ্জের বাহাদুরাবাদ ঘাটে ফেরি টার্মিনাল ও গাইবান্ধার বালাসীঘাটে বাস টার্মিনাল নির্মাণ করা হলো।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, বাহাদুরাবাদ ঘাট-বালাসীঘাটে ফেরি চলাচলের জন্যে ২০১৭ সালের ১ জুলাই বিআইডব্লিউএ নদী খনন কাজ শুরু করে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হলে বাস-ট্রাক, অন্যান্য যানবাহনসহ ফেরি পারাপারের মাধ্যমে যাত্রীদের সময় ও অর্থ দুটোই সাশ্রয় হবে। ১৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ফেরিঘাট, আনুষঙ্গিক স্থাপনা নির্মাণ ও নদী ড্রেজিং প্রকল্পটি সম্পন্ন করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এসএস রহমান ইন্টারন্যাশনাল। এরই মধ্যে বাস টার্মিনাল নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

বালাসীঘাট বাস টার্মিনাল, গাইবান্ধা

আরো জানা গেছে, যমুনার পূর্ব ও পশ্চিম পাড়ের দুটি টার্মিনালে পুলিশ ব্যারাক, ফায়ার সার্ভিস, আনসার ব্যারাক, পাইলট হাউজ, ওয়েট ব্রিজ স্কেল, মসজিদ, রেস্টুরেন্ট, টয়লেট কমপ্লেক্স ও ওয়েটিং শেড, বিআইডব্লিউটিএ’র অফিস ঘর ও টোল বুথ নির্মাণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাহাদুরাবাদ ঘাট থেকে বালাসীঘাট পর্যন্ত নদী ড্রেজিং শেষ করে পরীক্ষামূলক ফেরি চলাচল সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু নদীর খননকৃত চ্যানেলে নিয়মিত ফেরি চলাচল না করায় উজান থেকে স্রোতের সঙ্গে আসা বালুতে চ্যানেলের মুখ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যমুনার মাঝখানে চর জেগে উঠেছে। বিআইডব্লিউটিএ এখনো নদী খননের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া টার্মিনাল পর্যন্ত বাস-ট্রাকসহ অন্যান্য যানবাহন চলাচলের উপযোগী প্রশস্ত সড়ক না থাকায় নিয়মিত ফেরি চলাচল সম্ভব হচ্ছে না।

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ এলাকার এনামুল হক জানান, সংযোগ সড়ক না থাকায় টার্মিনাল পর্যন্ত কোনো যানবাহন যেতে পারছে না। এ কারণে এখনো আমাদের দ্বিগুণ ভাড়ার পাশাপাশি ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় যাতায়াত করতে হচ্ছে। ফেরি চলাচল শুরু হলে অল্প ভাড়ায় নদী পারাপার সম্ভব হবে।

জামালপুর জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কেবিএম সাদ্দাম হোসেন জানান, দেওয়ানগঞ্জ-বটতলী-জামালপুর সড়ক প্রান্ত থেকে বাহাদুরাবাদ বাস টার্মিনাল পর্যন্ত ৪ দশমিক ৫ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। তবে সড়কটি বর্তমানে ভারি যানবাহন চলাচলের উপযোগী নয়। এলজিইডি সড়কটি প্রশস্ত করণের প্রক্রিয়া চালাচ্ছে। শিগগিরই নির্মাণ কাজ শুরু হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর/এইচএন