তিন দিনেও উদ্ধার হয়নি জাল ছিঁড়ে পালানো সেই কুমির

ঢাকা, রোববার   ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১,   আশ্বিন ৪ ১৪২৮,   ১০ সফর ১৪৪৩

তিন দিনেও উদ্ধার হয়নি জাল ছিঁড়ে পালানো সেই কুমির

ফরিদপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২২:০৪ ১ আগস্ট ২০২১   আপডেট: ২২:১৪ ১ আগস্ট ২০২১

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

ফরিদপুরের একটি জলাশয় থেকে তিনদিনের চেষ্টায়ও কুমির উদ্ধার করতে পারেনি বন বিভাগ কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয়রা। জলাশয়টিতে অন্তত সাত দিন ধরে একটি কুমির অবস্থান করছে।  

জেলার সদর উপজেলার নর্থচ্যানেল ইউনিয়নে পদ্মা নদীর সঙ্গে সংযুক্ত একটি খালে কুমিরটি অবস্থান করছে বলে জানা গেছে।

বন বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, এই কুমিরটি মিঠা পানির কুমির, যেই প্রজাতিকে ২০০০ সালে পরিবেশ সংরক্ষণ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সংস্থা, আইইউসিএন (ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনসারভেশন অব নেচার) স্থানীয়ভাবে বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে।

বিলুপ্ত ঘোষণা করার আগে জলাধারগুলোতে শেষবার এই ধরনের কুমির দেখা যায় ১৯৬২ সালে। তবে ২০১৫ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত তিনবার দেশের বিভিন্ন এলাকায় এই ধরণের কুমির দেখা গেছে বলে জানান বন বিভাগের কর্মকর্তারা।

জানা যায়, গত ২৪ জুলাই একজন স্থানীয় বাসিন্দা প্রথমবার কুমিরটি দেখতে পান। কুমির দেখা যাওয়ার খবর প্রকাশিত হলে গত বুধবার বন অধিদফতরের খুলনা বিভাগের ১২ জনের একটি দল কুমিরটি ধরার জন্য ফরিদপুর যান। 

বন অধিদফতরের খুলনা বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নির্মল কুমার পাল বলেন, শুরুতে খবর পেয়েছিলাম কুমিরটি আটকা পড়েছে। তাই দ্রুত সেটিকে উদ্ধার করতে যাই। কিন্তু যাওয়ার পর দেখতে পাই কুমিরটি আটকা পড়েনি। নদীর সঙ্গে সংযুক্ত যেই জলাধারে কুমিরটি রয়েছে সেখান থেকে চাইলেই এটি চলে যেতে পারে, কারণ চ্যানেলটির দুইদিকই নদীর সঙ্গে যুক্ত। কুমিরটি আকারে বেশ বড়, এর দৈর্ঘ্য ৮ থেকে ১০ ফুট হতে পারে।

স্থানীয় জনগণ কিছুটা আতঙ্কিত হওয়ায় বন বিভাগের দলটি কুমিরটি ধরার চেষ্টা চালায়। তবে ২৮ জুলাই থেকে ৩০শে জুলাই পর্যন্ত কয়েক দফায় কুমিরটি ধরার চেষ্টা চালালেও শেষ পর্যন্ত কুমিরটি ধরা সম্ভব হয়নি।

বন বিভাগের কর্মকর্তা নির্মল কুমার বলেন, পরিকল্পনা ছিল কুমিরটি ধরে হয় নদীতে ছেড়ে দেবো অথবা বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে নিয়ে রাখবো, যেখানে আরো দু'টি মিঠাপানির পুরুষ কুমির রয়েছে। কিন্তু দুই দিন স্থানীয়দের সঙ্গে কয়েক দফায় চেষ্টা করেও কুমিরটি ধরতে সক্ষম হয়নি বন বিভাগের দলটি।

এই সময়ের মধ্যে অন্তত দু'বার কুমিরটিকে জালে আটক করা সম্ভব হলেও দুইবারই কুমিরটি জাল ছিঁড়ে বের হয়ে যায়।

শুক্রবার দ্বিতীয় দফায় কুমির ধরার চেষ্টা ব্যর্থ হলে বন বিভাগের দলটি উদ্ধারকাজ স্থগিত ঘোষণা করে।

স্থানীয় মসজিদ থেকে মাইকিং করে, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহায়তা নিয়ে সচেতনতামূলক সভা করে ওই এলাকার বাসিন্দাদের বিভিন্ন রকম সতর্কতামূলক নির্দেশনা দেয়া হয়।

কুমিরটিকে কেউ দেখলে যেন আক্রমণ বা উত্যক্ত না করে, সে বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে জানান । আপাতত স্থানীয়রা যেন ওই জলাশয়টি ব্যবহার না করেন, সে বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে