গাজীপুরে ছাত্রলীগ নেতা মাছুম হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, গ্রেফতার

ঢাকা, রোববার   ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১,   আশ্বিন ৪ ১৪২৮,   ১০ সফর ১৪৪৩

গাজীপুরে ছাত্রলীগ নেতা মাছুম হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, গ্রেফতার ৫

গাজীপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:৫২ ১ আগস্ট ২০২১  

ছাত্রলীগ নেতা সৈয়দ মাছুম আহাম্মেদ: ফাইল ফটো

ছাত্রলীগ নেতা সৈয়দ মাছুম আহাম্মেদ: ফাইল ফটো

গাজীপুরের শ্রীপুরে ছাত্রলীগ নেতা সৈয়দ মাছুম আহাম্মেদ হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন ও প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ৫ আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলো শ্রীপুরের বেরাইদেরচালা এলাকার হাবিবুল্লাহ ক্বারীর ছেলে আবুল কালাম, একই এলাকার শামসুদ্দিনের ছেলে শফিকুল ইসলাম, আব্দুল জলিলের ছেলে নাজির হোসেন জয়, আব্দুর রশিদের ছেলে সাইফুল ইসলাম ও আজহারুল এর ছেলে হারুন অর রশিদ।

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান জানান, সৈয়দ মাছুম আহাম্মেদ ছাত্রলীগের একজন সক্রিয় সদস্য ও তিনি শ্রীপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি প্রার্থী ছিলেন। গত ২২ জুলাই রাত আড়াইটার দিকে কিছু দুষ্কৃতকারী সৈয়দ মাছুম আহাম্মেদ এর কক্ষের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে মাছুম ঈদুল আজহার দিন থাকায় বাইরে থেকে গভীর রাতে বাড়িতে প্রবেশ করা মাত্রই ওই দুষ্কৃতিকারীরা মাসুমকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায়। এ সময় মাছুমের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে  অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকার আগারগাঁও ন্যাশনাল নিউরো সাইন্স অব ইনস্টিটিউটে ভর্তি করে। 

এ সংক্রান্তে ভিকটিমের চাচা মোফাজ্জল হোসেন শ্রীপুর থানায় অজ্ঞাতদের আসামি করে মামলা করেন। পরবর্তীতে মাছুম আহাম্মেদ চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৩ জুলাই মারা গেলে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়। মামলাটি হওয়ার পরই পিবিআই গাজীপুর রহস্য উদঘাটনে ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং পিবিআই হেডকোয়ার্টার্স ঢাকার নির্দেশে পিবিআই গাজীপুর মামলাটি গ্রহণ করে। 

ওই কর্মকর্তা আরো জানান, আসামি কালামকে জিজ্ঞাসাবাদে সে জানা যায়, স্থানীয় মারুফ ও জহিরদের সঙ্গে জমি সংক্রান্তে বিরোধের কারণে তাদের নির্দেশে কালাম এবং তার সহযোগীরা ঈদের দিন রাতে িমাসুমের রুমের তালা ভেঙে সম্পত্তির মূল কাগজপত্র চুরির জন্য ঘরে প্রবেশ করে। পরে সৈয়দ মাসুম আহাম্মেদ রাত ৩টার দিকে বাসায় চলে আসলে তাদের একজন ভেতর থেকে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে মাসুম তাকে ধরে ফেলে। তখন অন্যান্য আসামিরা ইট দিয়ে মাসুমের মাথায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে পালিয়ে যায়। এ সময় ঘটনাস্থলে আসামিরা তাদের ব্যবহৃত ৩ জোড়া সেন্ডেল ও ২টি ছাতা ফেলে যায়।

গ্রেফতারকৃত আসামি কালাম ও তার সহযোগীরা পুলিশ হেফাজতে থাকাবস্থায় প্রত্যেকেই ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধারকৃত সেন্ডেল ও ছাতা শনাক্ত করে। এছাড়া পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদকালে অন্যান্য আসামিরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ