কুলসুমীর সাজা মিনুর ঘাড়ে: গ্রেফতার আরো ২

ঢাকা, শুক্রবার   ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১,   আশ্বিন ১০ ১৪২৮,   ১৫ সফর ১৪৪৩

কুলসুমীর সাজা মিনুর ঘাড়ে: গ্রেফতার আরো ২

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:৪৮ ১ আগস্ট ২০২১  

বিনা অপরাধে মিনু আক্তারকে জেল খাটানোর মামলায় আরো দুজন গ্রেফতার

বিনা অপরাধে মিনু আক্তারকে জেল খাটানোর মামলায় আরো দুজন গ্রেফতার

বিনা অপরাধে মিনু আক্তারকে জেল খাটানোর মামলায় আরো দুজনকে গ্রেফতার করেছে চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি থানা পুলিশ। রোববার বিকেলে এ তথ্য নিশ্চিত করেন থানার ওসি মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিন। 

এর আগে, ভোরে সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর কালাপানিয়া দরবেশনগর এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতাররা হলেন- দরবেশনগরের এক নম্বর ওয়ার্ডের ছিন্নমূল সাত নম্বর সমাজের আলী হোসেন মোল্লার ছেলে মো. নুর আলম কাওয়াল ও একই এলাকার মো. বেলায়েত হোসেনের ছেলে মো. শাহাদাত হোসেন।

ওসি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মামলার দুই আসামি নুর আলম ও শাহাদাত হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে, বৃহস্পতিবার ভোরে নগরীর পতেঙ্গা এলাকা থেকে কুলসুম আক্তার কুলসুমী ও তার সহযোগী মর্জিনা আক্তারকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর দুপুরে তারা দুজনসহ অজ্ঞাত একাধিকজনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন ওই থানার এসআই আকাশ মাহমুদ ফরিদ।

পরে বিকেলে মহানগর হাকিম মেহনাজ রহমানের ভার্চুয়াল আদালতে হাজির করা হলে তাদের দুদিনের রিমান্ড দেন বিচারক।

২০০৬ সালের জুলাইয়ে মোবাইলে কথা বলার ঘটনা নিয়ে কোতোয়ালি থানার রহমতগঞ্জ এলাকার একটি বাসায় খুন হন পোশাককর্মী কোহিনুর আক্তার পারভীন। ওই ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা হলে তদন্ত শেষে বেরিয়ে আসে কুলসুম আক্তার কুলসুমীর নাম। সেই মামলায় ২০১৭ সালের নভেম্বরে কুলসুমীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন তৎকালীন অতিরিক্ত চতুর্থ মহানগর দায়রা জজ মো. নুরুল ইসলাম।

সেই সাজার পরোয়ানামূলে ২০১৮ সালের ১২ জুন কুলসুম আক্তার কুলসুমী পরিচয়ে কারাগারে যান মিনু। এরপর থেকেই জেল খাটছিলেন তিনি। পরবর্তীতে চলতি বছরের ১৮ মার্চ কারাগারের নারী ওয়ার্ড পরিদর্শনে গেলে মিনুর বিষয়টি সিনিয়র জেল সুপার মো. শফিকুল ইসলাম খানের নজরে আসে।

এরপর মিনুকে আদালতে হাজির করা হলে সেখানে তার জবানবন্দি শেষে সংরক্ষিত ছবি সম্বলিত নথিপত্র দেখে কুলসুমী আর মিনু এক নয় বলে নিশ্চিত হয় আদালত। কিন্তু এ মামলার রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল হওয়ায় মামলার উপনথি দ্রুত সময়ের মধ্যে উচ্চ আদালতে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক।

৩১ মার্চ অন্যের হয়ে মিনুর সাজাভোগের বিষয়টি উচ্চ আদালতের নজরে আনেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। পরে ৭ জুন মিনুকে মুক্তি দিতে নির্দেশ দেন বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মহিউদ্দিন শামীমের সমন্বয়ে গঠিত উচ্চ আদালতের একটি বেঞ্চ। একই সঙ্গে প্রকৃত আসামি কুলসুম আক্তারকে গ্রেফতারে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়া হয়। এছাড়া এ ঘটনায় তিন আইনজীবী ও এক ক্লার্ককে লিখিত ব্যাখা দিতে দিতে বলা হয়।

সব শেষে ১৬ জুন দুপুরে মিনুকে মুক্তির আদেশ দেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত চতুর্থ মহানগর দায়রা জজ শরীফুল আলম ভূঁঞার আদালত। এরপর সকল আইনি প্রক্রিয়া শেষে ওইদিন বিকেলে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বের হন তিনি।

জানা গেছে, ২০১৮ সালের রমজান মাসে জাকাতের টাকা ও খাদ্যসামগ্রী দেয়ার কথা বলে মানসিক ভারসাম্যহীন মিনুকে ডেকে নেন একই এলাকার মর্জিনা আক্তার। এরপর তাকে আদালতে তোলা হয়। বিচারকের খাসকামড়ায় যান মিনু। এর আগেই তাকে শিখিয়ে দেয়া হয় ‘কুলসুম আক্তার’ বলে ডাক দিলে যেন হাত উঠান তিনি। আর সেই হাত উঠানোই কাল হয়ে দাঁড়ায় মিনুর। মুহূর্তেই নিরপরাধ ‘মিনু আক্তার’ হয়ে যান ‘কুলসুম আক্তার’। চলে যেতে হয় কারাগারে।

এদিকে, কারামুক্তির ১২ দিন পর ২৮ জুন রাতে নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানার বায়েজিদ লিংক রোডে গাড়ির ধাক্কায় নিহত হন মিনু। পরিচয় না পেয়ে ময়নাতদন্ত শেষে বেওয়ারিশ হিসেবে তাকে দাফন করে আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলাম। দাফনের পাঁচদিন পর ছবি দেখে লাশটি মিনুর বলে শনাক্ত করে তার পরিবার।

পুলিশ জানায়, ভোররাতে খবর পেয়ে গাড়ির ধাক্কায় আহত মিনুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয় টহল পুলিশ। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরিচয় না পেয়ে লাশ আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে দাফনের পাশাপাশি এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা বায়েজিদ বোস্তামী থানার এসআই মো. খোরশেদ আলম বলেন, মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। গাড়িটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে