টানা ৫ বছর পুলিশের সঙ্গে প্রতারণা, কামিয়েছেন লাখ লাখ টাকা

ঢাকা, সোমবার   ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১,   আশ্বিন ১২ ১৪২৮,   ১৮ সফর ১৪৪৩

টানা ৫ বছর পুলিশের সঙ্গে প্রতারণা, কামিয়েছেন লাখ লাখ টাকা

রাজশাহী প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০৩:১৩ ১ আগস্ট ২০২১  

আল আমিন সরকার

আল আমিন সরকার

অপরাধীদের ধরতে বিভিন্ন ফাঁদ পাতেন পুলিশ সদস্যরা। তবে এবার যেন অপরাধীর পাতা ফাঁদেই পা দিয়েছিল পুলিশ। বদলির ভয় দেখিয়ে খোদ পুলিশের সঙ্গেই করছিলেন প্রতারণা। তাও আবার পাঁচ বছর ধরে। হাতিয়ে নিয়েছেন লাখ লাখ টাকা। শেষমেশ পুলিশের জালেই আটকা পড়েন এ প্রতারক।

শুক্রবার রাতে এমনই এক প্রতারককে দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার চাঁদপুর গ্রাম থেকে গ্রেফতার করে রাজশাহী জেলা ডিবি পুলিশ। ৩৭ বছর বয়সী ওই প্রতারকের নাম আল আমিন সরকার।

আল আমিন ওই গ্রামের আপেল মাহমুদ সরকারের ছেলে। জেলার মোহনপুর থানায় করা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে শনিবার দুপুরের পর তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ হেডকোয়ার্টারের সংস্থাপন শাখার পরিদর্শক পরিচয়ে পার্বত্য জেলায় বদলির ভয় দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নিতেন আল আমিন। প্রতারণাকে পেশা হিসেবেই বেছে নিয়েছিলেন তিনি।

শনিবার বিকেলে এসব তথ্য নিশ্চিত করে রাজশাহী জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইফতে খায়ের আলম বলেন, পুলিশ হেডকোয়ার্টারের সংস্থাপন শাখার পরিদর্শক পরিচয়ে ১০ জুলাই রাজশাহীর এক পুলিশ সদস্যকে ফোন দেন আল আমিন সরকার। তাকে পার্বত্য জেলায় বদলির ভয় দেখান। বদলি ঠেকাতে দাবি করেন টাকা। একই সঙ্গে তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।

ফোন পেয়ে ওই পুলিশ সদস্য জেলা পুলিশের আরওআই নিরঞ্জন ঘোষকে জানান। আরওআই বিষয়টি জানান এসপি এবিএম মাসুদ হোসেনকে। পরে এডিশনাল এসপি (ডিএসবি) সনাতন চক্রবর্তীকে বিষয়টি উদঘাটনের নির্দেশ দেন এসপি। টানা ২০ দিন চেষ্টা চালিয়ে আল আমিন সরকারকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

ইফতে খায়ের আলম আরো বলেন, রাজশাহী পুলিশ লাইনস, মোহনপুর থানাসহ বেশ কয়েকটি জায়গায় পুলিশ সদস্যদের মোবাইল নম্বর ও নাম সংগ্রহ করে প্রতারণা করতেন আল আমিন। এক মাসে চারজন পুলিশ সদস্যকে বদলির কথা বলে টাকা দাবি করেন তিনি। একাধিক পুলিশ সদস্য বিষয়টি এসপিকে জানান। পরে এটি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আল আমিন জানান, প্রতারণাই ছিল তার পেশা। পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের অসংখ্য পুলিশ সদস্যের কাছ থেকে এভাবে প্রতারণার মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। ২০১৫ সাল থেকে তিনি এ কাজের সঙ্গে যুক্ত। তার কাছে বিভিন্ন নামে নিবন্ধন করা একাধিক বিকাশ ও নগদের সিম পাওয়া গেছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর