সবচেয়ে কঠোর লকডাউনে পাটুরিয়া ঘাটে ঢাকামুখী মানুষের ঢল

ঢাকা, সোমবার   ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১,   আশ্বিন ১৩ ১৪২৮,   ১৮ সফর ১৪৪৩

সবচেয়ে কঠোর লকডাউনে পাটুরিয়া ঘাটে ঢাকামুখী মানুষের ঢল

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:২২ ৩১ জুলাই ২০২১  

পাটুরিয়া ফেরিঘাটে ঢাকামুখী মানুষের উপচে পড়া ভিড়

পাটুরিয়া ফেরিঘাটে ঢাকামুখী মানুষের উপচে পড়া ভিড়

করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ঘোষিত ১৪ দিনের সবচেয়ে কঠোর লকডাউনের মধ্যেই পোশাক কারখানা খুলে দেওয়ার খবরে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ঢাকামুখী মানুষের ঢল নেমেছে। ঢাকা-টাঙ্গাইল, ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের বাংলাবাজার শিমুলিয়া নৌরুটের মতো দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটেও হাজারো মানুষের ভিড় দেখা গেছে।

শনিবার সকাল থেকেই দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার অসংখ্য মানুষ ফেরিতে পদ্মা নদী পাড়ি দিয়ে পাটুরিয়া ঘাটে আসছেন। সড়কে যানবাহন না থাকায় চাকরি বাঁচাতে অনেকেই রিকশা, অটোরিকশা, মিনি ট্রাক, মোটরসাইকেলে ১০ গুণ বেশি ভাড়া দিয়ে যাচ্ছেন গন্তব্যে।

সরেজমিনে পাটুরিয়ার ৪ ও ৫ নম্বর ফেরিঘাট এলাকায় দেখা গেছে, দৌলতদিয়া থেকে আসা সবগুলো ফেরিতে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। জরুরি ও পণ্যবাহী গাড়ির চেয়ে যাত্রীর সংখ্যাই বেশি ফেরিগুলোতে। লঞ্চ-স্পিডবোট বন্ধ থাকায় তারা ফেরিতে পদ্মা পাড়ি দিয়ে পাটুরিয়ায় এসেছেন। এরপর দীর্ঘক্ষণ কোনো গাড়ি না পেয়ে অনেকেই পায়ে হেঁটে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন।

ঝালকাঠি থেকে আসা এরশাদুল্লাহ নারায়ণগঞ্জের একটি পোশাক কারখানায় চকরি করেন। রোববার সকাল ১০টার মধ্যে কাজে যোগদান করতে না পারলে তার চাকরি থাকবে না। এ জন্য লকডাউনের মধ্যেই ঝুঁকি নিয়ে কর্মস্থলে যাচ্ছেন। ভোগান্তির পাশাপাশি গুণতে হচ্ছে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া।

একজন নারী পোশাক শ্রমিক বলেন, ছোট চাকরি করি। আমাদের কথা কেউ ভাবে না। রাস্তায় গাড়ি নাই আবার অফিসে কাল থেকে যোগদান না করলে চাকরি থাকবে না। এ কারণেই এত ঝুঁকি নিয়ে ঢাকায় যেতে হচ্ছে।

বিআইডব্লিউটিসি আরিচা কার্যালয়ের ডিজিএম মো. জিল্লুর রহমান জানান, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ছোট-বড় ৮টি ফেরি চলাচল করছে। জরুরি ও পণ্যবাহী গাড়ি পারাপারের সময় হাজারো মানুষ ফেরিতে উঠে পড়ছে। এত মানুষ সামাল দেওয়া কষ্টকর তাই বাধ্য হয়ে অনেক ফেরি শুধু যাত্রী নিয়েই ছেড়ে আসছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর