অবশেষে মিলেছে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত নারীর ওষুধ

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১,   আশ্বিন ১৩ ১৪২৮,   ১৯ সফর ১৪৪৩

অবশেষে মিলেছে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত নারীর ওষুধ

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:০৬ ৩১ জুলাই ২০২১  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামে প্রথমবারের মতো ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে (মিউকোরমাইকোসিস) আক্রান্ত ওই নারীর জন্য চিকিৎসকের দেওয়া ‘লিপোসোমাল অ্যামফোটেরিসিন বি’ নামে ইনজেকশানটি পাওয়া গেছে। শনিবার দুপুরে তার শরীরে ইনজেকশনটির প্রথম ডোজ দেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের চিকিৎসকরা।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, প্রতিদিন পাঁচ ভায়াল করে ১৫ দিন ইনজেকশনটি তার শরীরে প্রয়োগ করতে হবে। তবে শনিবার পর্যন্ত মাত্র ২২ ভায়াল ইনজেকশন জোগাড় করতে পেরেছেন স্বজনরা। যোগাড় করতে হবে আরো ৫৩ ভায়াল।

তার ছেলে মো. বেলাল হোসাইন বলেন, অনেক কষ্টে ২২ ভায়াল ব্যবস্থা করতে পেরেছি। এগুলো দিয়ে হয়তো তিন থেকে চারদিন চলবে। বাকি ভয়াল কীভাবে জোগাড় করবো জানি না।

রোগীর তত্ত্বাবধানে থাকা চমেক হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. অনিরুদ্ধ ঘোষ জয় বলেন, রোগটি এখন পর্যন্ত তার চোখে রয়েছে। এটি যাতে নাক ও মুখসহ অন্যান্য স্থানে নতুন করে না ছড়ায়, তাই আমরা একটি অপারেশন করার পরিকল্পনা করছি। এতোদিন ইনজেকশনগুলো না পাওয়ায় তার শরীরে প্রয়োগ করতে পারিনি। আজ থেকে চিকিৎসার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। 

২৫ জুন জ্বরে আক্রান্ত হন পটিয়া উপজেলার বাসিন্দা ষাটোর্ধ্ব ফেরদৌসি বেগম। এরপর ৩ জুলাই তার করোনা ধরা পড়ে। চিকিৎসার পর ১৩ জুলাই তিনি করোনামুক্ত হন। কিন্তু ১৫ জুলাই থেকে হঠাৎ দাঁতে ব্যথা অনুভব করতে শুরু করেন। এরপর তাকে দন্ত চিকিৎসকের কাছে নেয়া হলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তিনি ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত বলে ধারণা করেন চিকিৎসক। 

এরপরই তাকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করান স্বজনরা। পরে বুধবার পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তিনি ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত বলে শনাক্ত করে চমেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। 

তবে স্থানীয় বাজারে এ রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ‘লিপোসোমাল অ্যামফোটেরিসিন বি’ ইনজেকশনটির সংকট থাকায় বিপাকে পড়েন তার স্বজনরা। অবশেষে খুঁজে পাওয়া দুষ্প্রাপ্য এ ওষুধের প্রতি ভায়াল ১৫ হাজার টাকা দরে কেনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।

ব্ল্যাক ফাঙ্গাস বা মিউকোরমাইকোসিস একটি ছত্রাকজনিত রোগ। যার সংক্রমণ খুবই বিরল। মূলত মিউকোর নামে একটি ছত্রাকের সংস্পর্শে এলে এটির সংক্রমণ হয়। সাধারণত মাটি, গাছপালা, সার এবং পচন ধরা ফল ও শাকসবজিতে এ ছত্রাক পাওয়া যায়। 

তবে চিকিৎসকদের মতে, খুব কাছাকাছি দীর্ঘ সময় ধরে সংস্পর্শে না গেলে এ সংক্রমণের ঝুঁকি কম। এছাড়া করোনায় আক্রান্ত হয়ে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলে তাদের এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি। কেউ আক্রান্ত হলে শুরু থেকে চিকিৎসা করা জরুরি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে