হুট করেই দুই গ্রামে মৃত্যুর হিড়িক, ১ মাসে প্রাণ গেল ৪৪ জনের

ঢাকা, শুক্রবার   ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১,   আশ্বিন ১০ ১৪২৮,   ১৫ সফর ১৪৪৩

হুট করেই দুই গ্রামে মৃত্যুর হিড়িক, ১ মাসে প্রাণ গেল ৪৪ জনের

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:২৬ ২৯ জুলাই ২০২১  

জোড়পুকুরিয়া গ্রামে একমাসে ২৪ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। ছবি: সংগৃহীত

জোড়পুকুরিয়া গ্রামে একমাসে ২৪ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। ছবি: সংগৃহীত

এক মাস, দুই গ্রাম ও ৪৪ জনের মৃত্যু—এই পরিসংখ্যান দেখলেই তো বোঝা যায়, করোনা পরিস্থিতি কতটা ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছে। তবুও কারো মনে কোনো ভয় নেই। মুখে মাস্ক ছাড়াই যত্রতত্র ঘোরাঘুরি করছেন। অনেকের মধ্যে করোনার উপসর্গ দেখা গেলেও নমুনা দিচ্ছেন না।

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার জোড়পুকুরিয়া ও গাড়াডোব গ্রামের বর্তমান পরিস্থিতি এমনই। গ্রামটিতে ঢুকলেই দেখা মিলছে নতুন নতুন কবর। প্রতিদিনই মসজিদের মাইকে ভেসে বেড়ায় মৃত্যু সংবাদ। এক সঙ্গে এত মানুষ এর আগে মারা যাওয়ার ইতিহাস নেই এই দুই গ্রামে।

বর্তমানে মেহেরপুরে করোনা পজিটিভ রোগীর সংখ্যা ৫৬৮ জন। এরমধ্যে সদরে ১৬১, গাংনী ৩০৭ ও মুজিবনগরে ১০০ জন। জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ওই দুই গ্রামের বেশিরভাগ নমুনাই করোনা পজিটিভ। তবে সেখানকার মানুষ করোনা পরীক্ষা করতে আগ্রহী নয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, এই দুই গ্রামের বিপুল সংখ্যক মানুষ সর্দি, জ্বর ও করোনার অন্যান্য উপসর্গ নিয়ে করোনা পরীক্ষার আওতার বাইরে রয়েছেন। নানা ধরনের গুজব ও ভীতির কারণে অনেকে করোনার নমুনা দিচ্ছেন না। তাছাড়া স্বাস্থ্যবিধি মানারও কোনো বালাই নেই। তাছাড়া এসব মানুষদের সচেতনতা করারও কোনো উদ্যোগ নেই।

গত এক মাসে জোড়পুকুরিয়া গ্রামে যে ২৪ জন মৃত্যুবরণ করেছেন, এদের মধ্যে একজন করোনা আক্রান্ত ছিলেন। বাকিদের কেউ করোনা পরীক্ষা করেননি। এদিকে একই সময়ে গাড়াডোবায় মারা গেছেন ২০ জন। তাদেরও বেশিরভাগ পরীক্ষা করাননি।

মেহেরপুর সিভিল সার্জন ডা. নাসির উদ্দীন বলেন, ঠাণ্ডা কাঁশি যাদের হচ্ছে, তারা যদি সচেতন হয় তাহলে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা যায়। যারা তথ্য গোপন করছেন, তারা কিন্তু অন্যদেরও ক্ষতি করছেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে