একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক, একদিনের শিশুকে ফেলে দিলো কিশোরী মা

ঢাকা, শুক্রবার   ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১,   আশ্বিন ২ ১৪২৮,   ০৮ সফর ১৪৪৩

একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক, একদিনের শিশুকে ফেলে দিলো কিশোরী মা

যশোর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:২১ ২৮ জুলাই ২০২১   আপডেট: ১৭:২৯ ২৮ জুলাই ২০২১

নবজাতক কোলে কিশোরী মা

নবজাতক কোলে কিশোরী মা

যশোর উপশহরের কলাবাগান এলাকা থেকে একদিন বয়সী ফুটফুটে নবজাতককে উদ্ধার করা হয়েছে। তাকে এক কিশোরী মা ফেলে রেখে গেছেন বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার কলাবাগান এলাকার একটি বাড়ির বাথরুমের পেছনের গলি থেকে ওই নবজাতককে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।

যশোর উপশহর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য খায়রুল বাশার বলেন, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে কলাবাগান এলাকায় একটি বাড়ির বাথরুমের পেছনে নবজাতকের কান্নার শব্দ পেয়ে আমাকে খরব দেন প্রতিবেশীরা। পরে সেখানে একটি শিশুকে পড়ে থাকতে দেখে ৯৯৯-এ ফোন করে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।

এরপর ঘটনাস্থল থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন উপশহর পুলিশ ফাঁড়ির এসআই সাইফুল মালেক।

এসআই সাইফুল মালেক বলেন, উদ্ধারের সময় শিশুটির শরীরে ডেইয়োর (বিষাক্ত পিঁপড়াজাতীয় প্রাণী) কামড়ের চিহ্ন ছিল। রাতেই অভিযান চালিয়ে শিশুর মা ও বাবাকে আটক করা হয়।

শিশুটির মা জানান, তিনি অষ্টম শ্রেণিতে পড়তেন। কয়েক বছর ধরে বাঘারপাড়া উপজেলার ছোটখুদড়া এলাকার এক যুবকের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। একপর্যায়ে তারা শারীরিক সম্পর্ক করেন। এতে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। সোমবার রাতে পুত্রসন্তান প্রসব করেন তিনি।

যশোর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আরিফ আহমেদ বলেন, শিশু ও তার মায়ের আল্ট্রাসনোগ্রাম করা হয়েছে। এছাড়া ডিএনএ পরীক্ষার জন্য মা-ছেলের চুল, রক্ত, নখ ইত্যাদি সংগ্রহ করা হয়েছে। আদালত চাইলে আমরা রিপোর্ট পেশ করব।

যশোর কোতোয়ালি থানার ওসি মো. তাজুল ইসলাম বলেন, মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর নিতে চাননি প্রেমিক। বিয়ে করতেও অস্বীকার করেন। এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে প্রেমিকের বিরুদ্ধে একটি ধর্ষণ মামলা হয়। বুধবার দুপুরে মেয়েটি ও তার প্রেমিককে আদালতে হাজির করা হয়।

আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) এসআই খায়রুজ্জামান বলেন, মেয়েটিকে তার বাবার জিম্মায় এবং তার প্রেমিককে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মাহাদী হাসান।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর