লোকসংগীত সাধক হায়দার আলী বয়াতি মারা গেছেন

ঢাকা, সোমবার   ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১,   আশ্বিন ১৩ ১৪২৮,   ১৮ সফর ১৪৪৩

লোকসংগীত সাধক হায়দার আলী বয়াতি মারা গেছেন

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:৫৯ ২৮ জুলাই ২০২১  

হায়দার আলী বয়াতি

হায়দার আলী বয়াতি

কিংবদন্তি লোকসংগীত সাধক হায়দার আলী বয়াতি মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। দীর্ঘদিন ধরে হার্ট ও কিডনি রোগে ভুগছিলেন তিনি। অসুস্থ অবস্থায় বাড়িতেই মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।

বুধবার ভোরে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার গাইয়ার চর গ্রামে নিজ বাড়িতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি স্ত্রী, এক মেয়ে ও তিন নাতিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

লোকসংগীত সাধক হায়দার আলীর মৃত্যুতে লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর মাইন উদ্দিন পাঠান, জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি জাকির হোসেন ভূঁইয়া আজাদ, মানবাধিকার ও শিশু সংগঠক এমএ রহিমসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা শোক প্রকাশ করেছেন।

হায়দার আলী বয়াতি ১৯৫০’র দশক থেকে প্রায় ৫০ বছর ধরে বৃহত্তর নোয়াখালী, কুমিল্লা, সিলেট বরিশাল ও ফরিদপুর অঞ্চলে ছুটে বেড়িয়েছেন। এসব এলাকার হাট-বাজার, শহর-বন্দর ও গ্রামীণ জনপদে জারি-সারি গান, মারফতি, শরিয়তি, পীর মুর্শিদী, আল্লাহ-নবীর (সা.) গুণগান বিষয়ক গান গেয়েছেন। তিনি দেহতত্ত্ব, সুফিতত্ত্ব, মনঃশিক্ষা, মিলনতত্ত্ব, রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদাবলী, পালাগান ও কবি গানের লড়াই দিয়ে ভক্ত-দর্শক-শ্রোতা এবং ভাব শিষ্যের মন জয় করেছেন।

বিশেষ কিছু আয়োজনে দর্শক-শ্রোতাদের সারারাত মাতিয়ে রাখতেন। তিনি কিংবদন্তি কবিয়াল কুমিল্লার হারান শীল ও ঢাকার লনী সরকারের সঙ্গে তাদের অঞ্চলের জনপদে পালাগান এবং কবি গানের টানা দু-তিনদিনের লড়াই করে ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।

লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর মাইন উদ্দিন পাঠান বলেন, হায়দার আলী গুণী শিল্পী ছিলেন। লক্ষ্মীপুরকে অতিক্রম করে সারাদেশেই তার পদচারণা ছিল। বিভিন্ন এলাকায় গান গেয়ে তিনি জাতীয় পর্যায়ের শিল্পী হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছেন। তিনি গান লিখে গাইতেন না, তাৎক্ষণিক গান তৈরি ও গেয়ে ভক্ত-শ্রোতাদের মন জয় করার দারুণ ক্ষমতা ছিল তার।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর