‘সবচেয়ে কঠোর’ লকডাউনে স্পিডবোটের অবাধ চলাচল

ঢাকা, রোববার   ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১,   আশ্বিন ৪ ১৪২৮,   ১০ সফর ১৪৪৩

‘সবচেয়ে কঠোর’ লকডাউনে স্পিডবোটের অবাধ চলাচল

বরিশাল প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:৫৯ ২৮ জুলাই ২০২১  

বরিশালের লাহারহাট লঞ্চঘাট

বরিশালের লাহারহাট লঞ্চঘাট

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সরকার ঘোষিত ‘সবচেয়ে কঠোর’ লকডাউনের ষষ্ঠ দিন আজ। সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে সারাদেশে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর তৎপরতা দেখা গেলেও বরিশালের লাহারহাটে দেখা গেছে ভিন্ন রূপ।

বিধিনিষেধের তোয়াক্কা না করেই লাহারহাট ঘাটে অবাধে চলাচল করছে স্পিডবোট। স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করে এসব বোটে গাদাগাদি করে বহন করা হচ্ছে যাত্রী, নেয়া হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া। অতিরিক্ত যাত্রী বহনের কারণে প্রতিদিনই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। তবু থামছে না এসব স্পিডবোটের বেপরোয়া চলাচল।

লাহারহাট লঞ্চঘাট থেকে ভোলাগামী আলম বলেন, মাস্ক দিয়ে নাক-মুখ ঢেকে রাখলে দম আটকে আসে। নিশ্বাস ছাড়তে পারি না। তাই মাস্ক পরি নামমাত্র।

সাব্বির নামে আরেকজন বলেন, আমার বাড়ি ভোলা। বরিশালের কাউনিয়ায় চাকরি কাজ করি। জরুরি কাজে লকডাউনের মধ্যেই বাড়িতে যেতে হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দক্ষিণাঞ্চলের হাজারো মানুষ এখানকার অদক্ষ স্পিডবোট চালকদের হাতে জিম্মি। যাত্রীদের হয়রানি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও ধারণ ক্ষমতার দ্বিগুণ যাত্রী বহন করে তারা। এ চক্রকে নিয়ন্ত্রণ করেন ঘাটের ইজারাদার রাসেল। নিয়ম অনুযায়ী ঘাটে প্রবেশমূল্য তিন টাকা হলেও যাত্রীদের কাছ থেকে নেয়া হয় ১০ টাকা করে। কেউ প্রতিবাদ করলে হয়রানির শিকার হতে হয়। এ কারণে যাত্রীরা দিনের পর দিন বাড়তি ভাড়া দিয়েই যাতায়াত করছেন।

লাহারহাট ঘাটের ইজারাদার রাসেল বলেন, সরকারি নিয়মেই টাকা নিচ্ছি। লকডাউনের মধ্যে নৌপুলিশ, কোস্ট গার্ড ঘাটে উপস্থিত থাকে। রোগী বহনের জন্য কয়েকটি স্পিডবোট ভোলা, হিজলা, মেহেন্দিগঞ্জের চলাচল করছে। কোনো বোটেই ৬-৭ জনের বেশি যাত্রী নেয়া হচ্ছে না।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের বন্দর থানার ওসি আসাদুজ্জামান বলেন, সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া স্পিডবোট চলাচল করলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করলেও ছাড় দেওয়া হবে না।

বরিশাল নদীবন্দরের কর্মকর্তা মোস্তফিজুর রহমান বলেন, সরকারি বিধিনিষেধ অমান্য করার প্রমাণ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে। লকডাউনের মধ্যে সাধারণ যাত্রী নিয়ে কোনো নৌযান চলাচল করতে দেওয়া হবে না।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর